দ্য ওয়াল ব্যুরো : কাশ্মীরের এমন একটা অঞ্চলে ছেলেটি থাকে, যেখানে ঘুমই ভাঙে সেনাবাহিনীর বুটের আওয়াজে। সারা অঞ্চলে একটা বারুদের গন্ধ, রাস্তায় বেরলেই পুলিসের টহল, বন্দুকের নল দেখে বড় হয়েছেন।
১৯ বছরের সেই তরুণ ক্রিকেটারই শুক্রবার এম এস ধোনির মতো কিংবদন্তিকে শেষ ওভারে আটকে দিয়ে বাজিমাত করে গিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের একটা অংশ বলতে শুরু করেছেন, আবদুল সামাদের মানসিক জোর খুব বেশি, না হলে অন্য কেউ হলে ধোনিকে দেখেই নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়ে যেত, ছেলেটির তা হয়নি। প্রথম বলটা হয়তো ওয়াইড করেছিল, কিন্তু ওভারের বাকি বলে সেই অভাব পুষিয়ে দিয়েছে।
এমনকি সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারও সদম্ভে বলেছেন, ‘‘আমার হাতে সেইসময় সামাদ ছাড়া কোনও অপশন ছিল না, কারণ ভুবনেশ্বর কুমার চোট পেয়ে গিয়েছে, আমি আর কী করতে পারতাম? আর আমার সামাদের প্রতি দারুণ ভরসা ছিল, ও আগের ওভারগুলোও ভাল করেছে, আমি জানতাম ওর ফ্লাইটগুলি খুবই লোভনীয়, সেগুলি যদি মারতেও যায়, উইকেট দেবে, না হলে স্টাম্পড হবে।’’
ধোনিকে আটকে দেওয়ার অনুভুতি ঠিক কীরকম? সামাদকে এই নিয়েও প্রশ্ন করা হয়েছিল। আগামী দিনের তারকা এই প্রতিশ্রুতিমান বলেছেন, ‘‘আমার এখনও ১৯ বছরই হয়নি, সবে ১৮ বছর ১৪০ দিন, তাই আমি অতকিছু ভাবছি না। শুধু জানতাম আমার নিজের কাজটি করতে হবে। তারপর দলের বাকিরা বিশেষ করে ক্যাপ্টেন ওয়ার্নার ও রশিদ ভাই (রশিদ খান) আমাকে গাইড করে বলেছিল যেন ধোনি ভাইয়াকে ফুল টস না করি, আর বেশি ফ্লাইট না দিই, তা হলে বল গ্যালারিতে পাঠাবে। আমি তাই শর্ট অব লেংথ বল করেছিলাম তিনটি ক্ষেত্রে, তাতেই কাজ দিয়েছে।’’
কাশ্মীরের কালা কোট অঞ্চলে বড় ওঠা, ওখানেই ক্রিকেট শেখা। ‘‘বছরের অর্ধেক দিন মাঠেই যেতে পারতাম না। শুধু কার্ফু লেগে থাকত। জম্মু ও কাশ্মীর যখন রঞ্জিতে খেলতে শুরু করল, আমাদের সেইসময় ভয়টা কেটে গেল। মাঠে প্র্যাকটিস করতে গেলে কেউ কিছু বলত না। তারপর ইরফান স্যার (ইরফান পাঠান) এসে আমাকে আরও সাহস দিয়েছেন।’’ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন আইপিএলের অন্যতম আবিষ্কার। যাঁর দিল্লির বিপক্ষেই অভিষেক হয়েছিল এবার। পরের ম্যাচেই হায়দরাবাদকে জয় এনে দেওয়ার অন্যতম কারিগর এই উঠতি স্পিনার।
সামাদের বোলিং দেখে ইউসুফ পাঠান পর্যন্ত ট্যুইট করে প্রশংসা করেছেন ভাই ইরফানের। ‘‘আমার ভাই, তুই তো ভাল স্কাউট হবি রে... কী দারুণ একটা ছেলে তোর হাতে ধরে উঠে এসেছে এই আইপিএলে।’’ ইরফান পাঠানের পরামর্শেই সামাদ তৈরি হয়েছেন। এমনকি তিনি ভাল ব্যাটিংও করেন, সেটিও ইরফান জানিয়েছেন এক প্রচার মাধ্যমকে। আমি তো মনে করি সামাদের ব্যাটিংও চলতি আইপিএলে কাজে লাগবে হায়দরাবাদের। প্রসঙ্গত, কাশ্মীরের হয়ে এর আগে আইপিএল খেলেছেন পারভেজ রসুল, রাসিখ সালাম। তৃতীয় কোনও ক্রিকেটার হিসেবে আইপিএলকে আলো ছড়াচ্ছেন সামাদ।
যিনি সম্প্রতি জানিয়েছেন, ‘‘এবার আমি আইপিএলে সুযোগ পেয়ে অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। তারপর একদিন আমাকে ফোন করলেন লক্ষ্মণ স্যার (ভিভিএস লক্ষ্মণ), বলল তোমাকে আমরা নেব, তুমি তৈরি তো? আমি কী বলব ভেবে উঠতে পারছিলাম না। কারণ যে দলে ওয়ার্নার, বেয়ারস্টো, রশিদ খানের মতো ক্রিকেটার রয়েছে, তাদের সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগ করা সহজ কাজ নয়। তবুও আমি ভয় পাইনি।’’