দ্য ওয়াল ব্যুরো: যে ক্রোয়েশিয়া গতবার বিশ্বকাপে রানার্স হয়ে চমক দেখিয়েছিল, যাদের খেলায় বিশ্ববাসী বুঁদ হয়েছিল, তারাই এবার ইউরো কাপের আসরে হার দিয়ে অভিযান শুরু করল। তাও এমন এক দলের কাছে হারল, যাদের নিয়ে মিথ রয়েছে, ইংল্যান্ড বড় জোর সেমিফাইনালে যেতে পারে, খেতাব জয়ের মতো মানসিক শক্তি তাদের নেই।
যদিও রবিবার আত্মবিশ্বাসে ভর করেই ইংল্যান্ড ১-০ গোলে হারিয়েছে ক্রোটদের। প্রথমার্ধ খেলা গোলশূন্যভাবে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকেই গোল আদায় করেন ইংলিশরা। ৫৭ মিনিটে ইংল্যান্ডের হয়ে একমাত্র গোলটি করলেন রহিম স্টার্লিং। ইংল্যান্ডের জার্সি পরে কোনও বড় টুর্নামেন্টে এটাই তাঁর প্রথম গোল।
বিশ্বকাপ ও ইউরোর মতো বড় টুর্নামেন্ট এর আগে দু’বার মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড এবং ক্রোয়েশিয়া। ২০০৪ ইউরো কাপে প্রথমবারের লড়াইয়ে ইংল্যান্ড ৪-২ গোলে হারিয়েছিল ক্রোয়েশিয়াকে।
https://twitter.com/Erolbora91/status/1404103783735496714
১৪ বছর পর দ্বিতীয় ও শেষ সাক্ষাতে ২০১৮ বিশ্বকাপের ক্রোয়েশিয়া ২-১ গোলে হারিয়েছেল ইংল্যান্ডকে। এবার ইউরোয় তৃতীয়বারের সাক্ষাতে ইংল্যান্ড ১-০ গোলে হারাল লুকা মদরিচদের দলকে। এই প্রথমবার ইউরো কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় তুলে নিতে সক্ষম হল ইংল্যান্ড। ঠিক অন্য ছবি দেখা গেল ক্রোয়েশিয়া শিবিরে। তারা এই প্রথমবার ইউরোয় নিজেদের প্রথম গ্রুপ ম্যাচে হার মানল। প্রথমার্ধে কোনও দলের খেলাই ভাল লাগেনি।
খেলার ৬ মিনিটেই মাথায় ফোডেনের শট পোস্টে প্রতিহত হয়ে ফিরে আসে। অল্পের জন্য গোলের সুযোগ হাতছাড়া হয় ইংল্যান্ডের। রক্ষা পায় ক্রোয়েশিয়া। ৯ মিনিটের মাথায় ফিলিপসের শট প্রতিহত করেন ক্রোয়েশিয়া গোলরক্ষক। ১৬ মিনিটের মাথায় ফিলিপসকে ফাউল করেন কোভাচিচ। ফ্রি-কিক নেন ট্রিপিয়ার। হ্যারি কেন অফসাইড করে বসেন।
ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটে একতরফা দাপট ইংল্যান্ডের। ক্রোয়েশিয়া সে অর্থে আক্রমণই শানাতে পারেনি ইংল্যান্ডের বক্সে। ২৬ মিনিটের মাথায় স্টার্লিংয়ের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ২৭ মিনিটে প্রথমবার ইংল্যান্ডের পোস্ট লক্ষ্য করে যথাযথ আক্রমণ শানায় ক্রোয়েশিয়া। পেরিসিচের ডান পায়ের শট যদিও ইংল্যান্ড গোলরক্ষককে পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি। ৩৯ মিনিটে অফসাইডের আওতায় পড়েন ফোডেন। ঠিক পরক্ষণেই রেবিচও অফসাইডে ধরা পড়েন।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলা জমে উঠেছিল ভালই। ৪৮ মিনিটে মাউন্টকে ফাউল করার জন্য হলুদ কার্ড দেখেন কোভাচিচ। ৫৫ মিনিটে মদরিচের শট বাঁচিয়ে দেন পিকফোর্ড। ম্যাচের ৫৭ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার জালে বল জড়িয়ে দেন স্টার্লিং। তাঁকে গোলের পাস দেন ফিলিপস।