দ্য ওয়াল ব্যুরো: লিওনেল মেসি যা পারেননি, তাই করে দেখালেন বিশ্ব ফুটবলে তাঁর নিকটতম প্রতিপক্ষ ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। দেশের জার্সিতে তাঁর ফুটবল দ্যুতিতে ম্লান বিপক্ষ দল হাঙ্গেরি।
হাঙ্গেরি মানেই ফেরেঙ্ক পুসকাসের দল। বুদাপেস্টে সেই কিংবদন্তি নামাঙ্কিত মাঠেই হাঙ্গেরিকে ০-৩ গোলে পর্তুগালের চূর্ণ করার মালিক ওই সিআর সেভেনই। শুরু থেকেই রোনাল্ডোর মধ্যে ভাল খেলার খিদে দেখা গিয়েছে।
মহাতারকারা গোল না পেলে সারাক্ষণ ছটফট করতে থাকেন, যেন অক্সিজেনের অভাব ঘটছে। রোনাল্ডো সবটাই করছিলেন, কিন্তু কোথায় যেন তাল কাটছিল। বরং হাঙ্গেরি নিজেদের ঘরের মাঠে পূর্ণ সমর্থনে উজ্জ্বল দেখাচ্ছিল।
পর্তুগালকে শেষ ১০ মিনিট পুরো দাপটে খেলতে দেখা গিয়েছে। সেইসময় ম্যাচের তিনটি গোল হয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে যায় ম্যাচের ৮০ মিনিটে। সতীর্থদের থেকে বল পেয়েছিলেন হাঙ্গেরির ফুটবলার সিগার। তিনি খানিকটা কেটে বক্সের মধ্যে ঢুকে এসেছিলেন। তারপর তিনি অসাধারণ একটা শট নেন।
এই শট বাঁচাতে প্যাট্রিসিও হাত বাড়ালেও ততক্ষণে বল বিপদসীমার মধ্যে ঢুকে গেছে। হাঙ্গেরির ফুটবলাররা ততক্ষণে প্রথম গোলের আনন্দে উচ্ছ্বসিত হতে শুরু করেছেন। কিন্তু সহকারি কোচ অফসাইড ঘোষণা করেন এবং গোলটা বাতিল হয়ে যায়। ওই মুহূর্তটাই খেলার টার্নিং পয়েন্ট বলা যেতে পারে। কারণ হাঙ্গেরি ওই গোল যদি পেয়ে যেত, তা হলে পর্তুগিজদের শুরুটা এত স্বপ্নময় হতো না।
https://twitter.com/Sport360/status/1404861526578806785
তবে ৮৪ মিনিটের মাথায় গোলের দরজা খোলেন পর্তুগালের ফুটবলার রাফায়েল গুয়োরারো। দলকে তিনি ১-০ গোলে এগিয়ে দেন। ৮৭ মিনিটে আবারও গোল। এবার গোল করলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। ৮৬ মিনিটে বল নিয়ে এগোচ্ছিলেন রাফা। তাঁকে বক্সের মধ্যে পিছন থেকে টেনে ধরেন অরবান। আর সঙ্গে সঙ্গে রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। আর সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দিলেন সিআর সেভেন।
আর শেষ গোলটি রোনাল্ডোর, তার জন্য কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। তিনি কোমরের মোচড়ে বিপক্ষের ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে বল প্লেসিং করে জালে রাখেন। গোলের পরে সেই পরিচিত মেজাজ, দু’ পা ফাঁক করে সেই হুঙ্কার, যেন প্রচ্ছন্ন বার্তা, আমিই সেরা।
বিশ্বের প্রথম ও একমাত্র ফুটবলার হিসেবে রোনাল্ডো পাঁচটি ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ খেলছেন। ২০০৪, ২০০৮, ২০১২, ২০১৬ ইউরো কাপের পর চলতি ইউরো কাপে খেলছেন তিনি। ফুটবলের গ্রহের আর কোনও বাসিন্দা এমনটা করতে পারেননি আজও, যা করে দেখালেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার। ২০১৬ সালে রোনাল্ডো দলকে চ্যাম্পিয়ন করান। ফলে এবার পর্তুগাল মাঠে নেমেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই।
পাঁচবারের ব্যালন ডি' অর চ্যাম্পিয়ন রোনাল্ডো এদিন আরও একটি নজির গড়েন। এদিন দেশের হয়ে মেজর টুর্নামেন্টের (ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও বিশ্বকাপ) ৩৯টি ম্যাচ খেলছেন রোনাল্ডো।
এর আগে কোনও ইউরোপিয়ান ফুটবলার হিসেবে সেই রেকর্ড ছিল জার্মানির বাস্তিয়ান সোয়াইনস্টাইগারের। তিনি ৩৮ বার দেশের হয়ে মেজর টুর্নামেন্ট খেলেছিলেন। তাঁকেই টপকে গেলেন সিআর সেভেন।