দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ এভাবেও ফিরে আসা যায়…
ঠিক যেভাবে সেমিফাইনালে সেরেনা উইলিয়ামসের বিরুদ্ধে প্রথম সেট ১-৬ হেরে ফিরে এসেছিলেন ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা। পরের দুই সেট জিতে নিয়েছিলেন ৬-৩, ৬-৩ ফলে। দীর্ঘ সাত বছর পরে উঠেছিলেন গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে। সেই একই ছবি দেখা গেল ফাইনালে। কিন্তু সেটা নিজের বিরুদ্ধে দেখতে হল তাঁকে। প্রথম সেট জিতেও হারতে হল ম্যাচ। বেলারুশের আজারেঙ্কাকে হারিয়ে নিজের তিন নম্বর গ্র্যান্ড স্ল্যাম ও দ্বিতীয় ইউএস ওপেন জিতে নিলেন জাপানের নাওমি ওসাকা। তাঁর পক্ষে ম্যাচের ফল ১-৬, ৬-৩, ৬-৩। এর আগে ২০১৮ সালে ইউএস ওপেন ও ২০১৯ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতেছিলেন চতুর্থ বাছাই ওসাকা।
শনিবার আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়াম দেখল এক রূপকথার লড়াই। যেখানে প্রথম সেটে ওসাকাকে গুঁড়িয়ে দিয়ে জিতলেন আজারেঙ্কা। তাঁর ৮৮ শতাংশ প্রথম সার্ভিসের কোনও জবাব ছিল না ওসাকার কাছে। সঙ্গে ১৩টি আনফোর্সড এরর করেন তিনি। দ্বিতীয় সেটেও ২-০ এগিয়ে ছিলেন ৩১ বছরের বেলারুশের আজারেঙ্কা। আর ঠিক সেখান থেকেই ম্যাচে ফিরলেন ওসাকা।
পরপর দু’বার আজারেঙ্কার সার্ভিস ব্রেক করে ৪-৩ এগিয়ে যান ওসাকা। তৃতীয় বারও আজারেঙ্কার সার্ভিস ব্রেক করে ৬-৩ ব্যবধানে সেট নিজের নামে করেন তিনি। তারপরে সেই মোমেন্টাম তৃতীয় সেটেও ধরে রাখলেন জাপানি বোমা। তৃতীয় সেটে ফের আজারেঙ্কার সার্ভিস ব্রেক করে ৩-১ এগিয়ে যান ওসাকা। তারপরে একটা বড় সুযোগ নষ্ট করেন আজারেঙ্কা। তিনটি ব্রেক পয়েন্ট পেয়েও কাজ লাগাতে পারেননি তিনি। তারই খেসারত দিতে হল গেম ও ম্যাচ খুইয়ে।
জিতে ওঠার পরে কোর্টের মাঝে শুয়ে আকাশের দিকে তালিয়ে সেলিব্রেট করলেন ওসাকা। হয়তো সেই তারাদের তিনি খুঁজছিলেন যাঁদের এই টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচে সম্মান জানিয়েছেন তিনি। ইউএস ওপেনের প্রতি রাউন্ডে তাঁর মাস্কে উঠে এসেছে বর্ণবৈষম্যের শিকার মানুষদের নাম। ফাইনালে ১২ বছরের আফ্রিকান-আমেরিকান কিশোর তামির রাইসের নাম লেখা মাস্ক পরেছিলেন ওসাকা। ২০১৪ সালে ওহায়োতে শেতাঙ্গ পুলিশের গুলির শিকার হয় তামির। ফাইনালের মতোই বিভিন রাউন্ডে ব্রেওনা টেলর, এলিজা ম্যাকক্লেইন, আহমাদ আরবেরি, ট্রায়ভন মার্টিন, জর্জ ফ্লয়েড, ফিলান্দো কাসটাইলদের নাম এসেছে তাঁর মাস্কে। শুধুমাত্র নিজের জন্য নয়, এই নির্যাতিতদের হয়েও যেন লড়াইয়ে জিতে গেলেন ওসাকা।