দ্য ওয়াল ব্যুরো: আচমকা কেন ভারতের মহানক্ষত্ররা কৃষক আন্দোলন নিয়ে কেন্দ্রের সমর্থনে টুইট করেছিলেন, সেই নিয়ে এবার খড়গহস্ত মহারাষ্ট্র সরকার। তারা জানিয়ে দিয়েছে, এই নিয়ে তারা তদন্ত করে দেখবে, কেন লতা মঙ্গেশকর, শচীন তেন্ডুলকার, বিরাট কোহলিরা একই সুরে টুইট করেছিলেন।
মহারাষ্ট্র সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখ সোমবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আমরা এই নিয়ে তদন্ত করব কেন হঠাৎ করে দেশের তারকারা এই বিষয়ে সরব হয়েছিলেন। এমনকি তাঁরা প্রায় একইসুরে টুইট করেছেন কেন্দ্রের সমর্থনে। এই বিষয়ে যে বিজেপি-র চাপ ছিল সেটিও বলেছেন তিনি।
এই প্রসঙ্গে উদ্ধব সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখ পরিষ্কার বলেছেন, শচীন তেণ্ডুলকর, লতা মঙ্গেশকর, সুনীল শেট্টি, বিরাট কোহলি, অক্ষয় কুমার এবং অন্য তারকারা যাঁরা রিহানা-গ্রেটাদের টুইটারে জবাব দিয়েছেন, সেই সমস্ত টুইটের তদন্ত হবে। এটাই দেখা হবে, আদৌ তাঁরা মোদি সরকারের চাপের কারণে এই টুইটগুলি করেছেন কিনা।
কৃষক আন্দোলন নিয়ে সমর্থন করে টুইট করেছিলেন রিহানা, গ্রেটা থুনবার্গের মতো বিদেশিনীরা। এই নিয়ে পালটা টুইট করেছিলেন লতা, শচীন থেকে শুরু করে অক্ষয় কুমার, বিরাট কোহলিরাও। অক্ষয় কুমার কেন্দ্র সরকারের প্রচারক, তিনি কেন্দ্রের নানা কর্মসূচী নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি যে কেন্দ্রের সমর্থন নিয়ে কথা বলবেন, তা অবাকের কিছু নেই।
শচীন, লতার বিষয়টি নিয়েই হইচই হচ্ছে বেশি। প্রথমত, শচীন কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ। আর লতা সাম্প্রতিক সব বিষয় নিয়েই নিস্পৃহ ছিলেন, তাই আচমকা একই সঙ্গে তিনিও এই বিষয়ে সরব হওয়াতেই অন্য গন্ধ দেখছে মহারাষ্ট্র সরকার।
শুধু তাই নয়, প্রত্যেকের টুইট পর্যালোচনা করে দেখা হয়েছে তাঁদের বক্তব্যের সুর প্রায় একই ছিল। বিরাট কোহলি এবং লতা মঙ্গেশকর, দু’জনের টুইটেই ‘Amicable’ শব্দটি ছিল। দুই নক্ষত্রের ভাষাও প্রায় একই। দ্বিতীয়ত, অভিনেতা সুনীল শেট্টি নিজের টুইটে বিজেপি নেতা হিতেশ জৈনকে ট্যাগও করেন, যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অক্ষয় কুমার এবং সাইনা নেহওয়ালের টুইটও একইরকম। এমনকি প্রত্যেকেই এই #IndiaAgainstPropaganda, হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেছেন। এই নিয়েই সন্দেহ মহারাষ্ট্র সরকারের। তারা এর শেষ দেখে ছাড়তে চায়।