অশোক মালহোত্রা
সকাল থেকে মনটা বিগড়ে গেল। ভারতীয় ক্রিকেটের এমন হারাকিরি আমি অন্তত দেখেনি। অস্ট্রেলিয়ার মাঠে ভারতীয় দলের চাপ রয়েছে, সেটি জানতামই। কিন্তু এই দলটি যে একদমই মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না, সেটা ভাবতে পারিনি।
এর দুটি কারণ রয়েছে, এক আইপিএলের মেজাজ ছেড়ে এখনও বেরতে পারেনি দলটি। দুই, দলটি পুরোটাই কোহলি নির্ভর, কোহলি খেললে বাকিরা দাঁড়াবে, আর না হলে পারবে না। সর্বোপরি ব্যর্থতার বড় কারণ, দলগঠন একেবারেই সঠিক হয়নি।
দলের ওপেনিং ভাল না হলে অস্ট্রেলিয়াই ভুগেছে ঘরের মাঠে। ভারত তো আরও ভুগবে। প্রথম টেস্টে পৃথ্বী শ-কে কী কারণে দলে রাখা হল, বুঝতেই পারলাম না। কিছু কিছু ব্যাপার রয়েছে, একগুয়েমি মনোভাব। কেউ যেটা বলবে, আমি তার অন্যটা করব, এরকম মানসিকতা থাকলে দল চালনা করা অসম্ভব।
দল চালনা করতে গেলে নমনীয় মনোভাব গ্রহণ করতে হবে। আবার যুক্তিতে অবিচল থাকতে হবে। পৃথ্বী হয়তো গত টেস্টে হাফসেঞ্চুরি করেছে, কিন্তু সেটি তো একবছর আগের ঘটনা। সেইসময় সারা বিশ্ব করোনাভাইরাসের মতো মারণ ব্যধি দেখেনি, এমনকি লকডাউন, কোয়ারেন্টাইন, হোম আইসোলেশন শব্দগুলির সঙ্গেও পরিচয় ঘটেনি। কবে কে কী করেছে, সেটি ধরে বর্তমান পরিস্থিতিতে দল নির্বাচন করতে হলে এই হয়।
এটাই স্বাভাবিক বিষয়। না হলে ইন ফর্ম লোকেশ রাহুল কিংবা শুভমান গিলকে বসিয়ে রাখে দল? পৃথ্বীর ফুটওয়ার্কে সমস্যা রয়েছে, পেস বোলিংয়ে পা সরে না, এটা সবাই জানে। তারপর আইপিএলেও দারুণ কিছু করেছে, কেউ বলবে না। প্রচন্ড ধারাবাহিকতাহীন, জীবনেও শুনেছি শৃঙ্খলা নেই।
আমি বলব একটাই কথা, ফেল করা ছাত্রদের দিয়ে কী আর বৃত্তি পরীক্ষা হয়? তোমাকে দলগঠন করতে হবে চাবুক, প্রথম একাদশ গঠনে কোনও প্রভাব থাকবে না। সেটি তোমাকে বুঝে নিতে হবে। অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আগের মতো আমি বলব না। কিন্তু পুরো ভারতীয় দলই কেঁপে গেল, এরকম একেকটি দিন হয়। যেদিন কোনও ব্যাটসম্যানই ছন্দে থাকে না।
এই ভারতীয় দল বড়বেশি কোহলি নির্ভর। পরের তিনটি টেস্টে কোহলি থাকবে না। সবাই হয়তো সেইসময় সাবালক হতে চাইবে। কিন্তু কোহলি থাকলে বাকিরা ওর দিকে তাকিয়ে থাকে, এটাই স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু বাউন্সি গতিময় পিচে ভারতের এমন পারফরম্যান্স ভারতীয় ক্রিকেটকে অনেকটা পিছনে ঠেলে দিয়েছে।
যে যাই বলুক, একটা দল বিদেশের মাঠে ৩৬ রানে অলআউট হয়ে যাচ্ছে, সেই দলের রোগটা প্রকট, সেই রোগ যত দ্রুত নির্ধারণ করতে পারবে তত মঙ্গল।