দ্য ওয়াল ব্যুরো: আবারও অনাকাঙ্খিতভাবে বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মুম্বই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েনশন অভিযোগ করেছে, বোর্ড প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরে সৌরভ তাদের যে ম্যাচ পাওয়া নিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি সেটি পালন করছেন না।
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের টেস্ট, ওয়ান ডে এবং টোয়েন্টি ২০ সিরিজ ভাগ করে দেওয়া হয়েছে তিনটি শহরের মধ্যে। মোট ১২টি ম্যাচ হবে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে। সেখানে দেখা গিয়েছে সূচী অনুযায়ী সাতটি ম্যাচ পেয়েছে আমেদাবাদ, দুটি ম্যাচ হবে চেন্নাইতে ও তিনটি পুনে শহরে।
দুটি টেস্ট ও পাঁচটি টি ২০ ম্যাচ আয়োজন করবে বোর্ড সচিব তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পুত্র জয় শাহর শহর আমেদাবাদ। তিনটি ওয়ান ডে হবে পুনেতে। দুটি টেস্ট হবে বিসিসিআই-র প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এন শ্রীনিবাসনের শহরে।
ম্যাচ পাওয়ার ক্ষেত্রে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্স কিংবা মুম্বইয়ের ওয়াঙখেড়ে অথবা ব্র্যাবোর্ন কেন নেই, সেই নিয়ে প্রশ্নের মুখে সৌরভ। মুম্বইয়ের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘‘এই শহরে থেকে বিসিসিআই-র শীর্ষ পদে আসিন হওয়ার পরে সৌরভ আমাদের বলে গিয়েছিলেন, এবার দেশের মাঠে যা ম্যাচই হবে, তাতে মুম্বই একাধিক ম্যাচ পেতে পারে। কিন্তু তিনি সেটি মানেননি।’’
ইডেনের বিষয়ে সিএবি কর্তারা মুখে কুলুপ এঁটেছেন। সংস্থার কর্তারা এমনিতেই অখুশি, এই মন্দা বাজারে কেন তারা একটি ম্যাচও পেল না। কিন্তু এই নিয়ে কোনও প্রতিবাদ করতে পারছেন না। কারণ যেহেতু সৌরভ রয়েছেন, কারণ বোর্ডের বিরুদ্ধাচরণ করতে গেলে সৌরভকে চটাতে হবে। সেটি সিএবি প্রেসিডেন্ট অভিষেক ডালমিয়া তা চান না। তিনি এই নিয়ে বলেছেন, আমার এই বিষয়ে কিছু বলার নেই!
যদিও সিএবি সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিষেক এই বিষয়ে বোর্ড প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। সৌরভ সেইসময় পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝিয়ে জানিয়েছিলেন, কোভিড পরিস্থিতিতে প্রোটোকল অনুযায়ী তিনটি শহরেই ম্যাচ দেওয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে রোটেশন প্রথা মেনে আমেদাবাদ, পুনে ও চেন্নাইয়ের ম্যাচ পাওয়ার কথা।
মুম্বইয়ের এই বিষয়েই আপত্তি। তারা বলছে, তাদের শহরে শেষ দুইবছর আগে কোনও আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছে, তারপরেও তারা কেন বঞ্চিত, সেটি জানাতে হবে বোর্ডকে। এই নিয়ে তারা চিঠিও দিয়েছে সৌরভকে। তারা অভিযোগ জানিয়েছে, কেন আমেদাবাদ বাড়তি সুবিধে পাবে? কেন তারা ১২টি ম্যাচের মধ্যে সাতটি আয়োজন করবে? তার ব্যাখ্যা দিতে হবে আমাদের।
নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের জন্য বিসিসিআই থেকে সেই কেন্দ্রকে দেওয়া হয় এক কোটি টাকা। তার মানে আয়োজনবাবদ সাত কোটি টাকা লাভ হবে সচিবের শহরের। এই প্রসঙ্গে মুম্বই রাজনীতির গন্ধও খুঁজছে। বলা হচ্ছে, যেহেতু সৌরভের প্রেসিডেন্ট হওয়ার নেপথ্যে অমিত শাহ ছিলেন, সেই কারণে তাঁর পুত্রকে ‘রিটার্ন গিফট’ দিচ্ছেন তিনি। কিন্তু বিসিসিআই-র এই ম্যাচ দেওয়া যে একার ওপর নির্ভর করে না, সেটি নিয়ে তারা কিছু ভাবতে নারাজ।
পুনেকে কেন তিনটি ম্যাচ দেওয়া হল, সেটি নিয়েও জানিয়েছে মুম্বই ক্রিকেট সংস্থা। তাদের কর্তাদের দাবি, পুনে শহরে একটি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম করা হচ্ছে। তাদের অর্থের প্রয়োজন রয়েছে, সেই কারণেই ম্যাচ দিয়ে তাদের অর্থসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
সবচেয়ে অস্বস্তিকর অবস্থা সিএবি-র। তারা না পারছে প্রতিবাদ করতে, না পারছে সিদ্ধান্ত মানতে। ঢেকি গেলার মতো অবস্থা তাদের। সিএবি সচিব আবার সৌরভের দাদা স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি কোনও চিঠি লিখলে সেটি নিমেষে শিরোনাম হয়ে যাবে, তাই সিএবি পরবর্তী সূচীর ওপর নির্ভর করছে।