দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্ষশেষে কলকাতা ময়দানে প্রবল চাঞ্চল্য, আচমকা আইএফএ সচিবের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায়। তিনি যে সচিব হিসেবে দারুণ কাজ করেছেন, তা নয়, তবুও চেষ্টা করছিলেন ভাল কাজ করার।
শনিবার সকালেই তিনি আইএফএ সভাপতি অজিত বন্দ্যোপাধ্যায় ও চেয়ারম্যান সুব্রত দত্তকে চিঠি দিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। যদিও জয়দীপকে আই লিগ পর্যন্ত কাজ চালিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন দুজনেই।
কেন কী কারণে তিনি সরে গেলেন, সেই নিয়ে ময়দানে নানা জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে। কেউ বলছেন ইস্টবেঙ্গলের মহিলা দলকে নিয়ে তিনি কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না। কেননা মহিলা দলটি বারবার ভিনরাজ্যের ফুটবলার খেলিয়ে অপরাধ করছে, অথচ শাস্তি দিতে হলে পুরো ক্লাবকে দিতে হবে। সেটি দিতে গেলে তিনি সকলের বিরাগভাজন হবেন, সেই আশঙ্কায় তিনি চেয়ার ছেড়ে দিতে চাইছেন।
শুধু তাই নয়, ইস্টবেঙ্গলের কর্মসমিতির অন্যতম সদস্য হলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দাদা অজিত বাবু, লাল হলুদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হলে তিনিও বিরক্ত হবেন, এমনকি তিনি সচিবের বিপক্ষে চলে যেতে পারেন। এও মনে করা হচ্ছে, অজিত বাবু সচিবের চেয়ারে বসাতে চাইছেন সিএবি-র প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ বিশ্বরূপ দে-কে। সেটি জয়দীপ বুঝতে পেরেই সরে যেতে চাইছেন কোনও বিতর্ক ছাড়াই।
আবার অনেকে মনে করছেন জয়দীপের অন্য ব্যবসা রয়েছে, তিনি সিনেমায় প্রযোজনা করেন। সেক্ষেত্রে তিনি অন্য কাজে সময় দিতে পারছেন না বলে এই অজুহাত দিয়ে সরে যেতে চাইছেন। তিনি অবশ্য সরে যাওয়ার কারণ ‘ব্যক্তিগত’ দেখাতে চেয়েছেন।
এমনকি আইএফএ অত্যন্ত ম্যাড়মেড়েভাবে শিল্ড আয়োজন করেছে। কয়েকটি ভিনরাজ্যের দল এনে নামকোওয়াস্তে টুর্নামেন্ট করা হয়েছে। তাতে জৈব সুরক্ষা বলয়ের ব্যবস্থাও ছিল না। ওই কারণেই মহামেডান ফুটবলারদের অনেকেরই কোভিড পজিটিভ এসেছে। এই নিয়ে সচিব হাস্যকর যুক্তি দেখিয়েছিলেন, তিনি বলেন, বায়ো বাবল থাকলেও করোনা হতে পারে। তাই আমরা এটি করিনি।
অনেকেই মনে করছেন যেভাবে তিনি সচিব হয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেটি রাখতে পারছেন না বলেই তিনি সরে যেতে চাইছেন। জয়দীপের বিশ্বস্তমহল আবার বলছে, আইএফএ-তে ঘুঘুর বাসা, সেই বাসার মধ্যে তিনি কাজ করতে পারছিলেন না। সেই কারণেই তিনি সরে এসে হিরো হতে চাইলেন।