দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইতালিবাসীর এমন একটা শোকাতুর দিন, আর সেদিনই একটি বিশ্রী ঘটনা ঘটে গেল। আর যাঁকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি কখনই কাঙ্খিত নয়।
পাওলো রসির বিদায়ের পরে ইতালির মন খারাপ। এমন এক সদাহাস্যময় ফুটবল কিংবদন্তির চিরবিদায়ের জন্য প্রস্তুত ছিল না কেউই। ভুগছিলেন অবশ্য ক্যানসারে, কিন্তু আচমকা চলে যাবেন, এমন পরিস্থিতি ছিল না। গত বৃহস্পতিবার তাঁর মৃত্যু হওয়ার পরে রবিবার ইতালির উত্তর-পূর্বের শহর ভিচেনৎসারের একটি গির্জায় শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান চলছিল।
পরিবারের সদস্যরা ও পরিজনেরা যখন পাওলোর শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে ব্যস্ত ছিলেন, সেইসময় ফ্লোরেন্সের বিশাল ফার্ম হাউসে চুরি হয়ে গিয়েছে। ওই বাড়িতেই রসির পরিবার একটি অর্গানিক ফার্মিং কোম্পানি চালান। চুরি হয়েছে সেই বাড়িতেও। যেই চুরি করে থাকুক না কেন, সে সুযোগ বুঝেই এমন কাজ করেছে, তাও বোঝা গিয়েছে।
ইতালির একটি নামী নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ‘‘প্রয়াত রসির স্ত্রী ফেদেরিকা কাপেলেত্তি শেষকৃত্য অনুষ্ঠান থেকে ফিরে দেখেন লন্ডভন্ড হয়ে আছে সারা বাড়িঘর। চোরের দল রসির একটি দামি ঘড়ি ও কিছু টাকাসহ আরও অনেক কিছু নিয়ে গেছে। স্থানীয় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।’’
১৯৮২ বিশ্বকাপ স্মরণীয় হয়ে রয়েছে পাওলো রসির কারণে। ৬ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পাশাপাশি সেরা খেলোয়াড়ও হয়েছিলেন রসি। ইতালির জার্সিতে ৪৮ ম্যাচে ২০ গোল করা স্ট্রাইকার জুভেন্টাস ও এসি মিলানের মতো ক্লাবে খেলেছেন। তবে ১৯৭৫ সালে পেশাদার ক্যারিয়ারে প্রথম ম্যাচ খেলা রসি সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন ভিচেনৎসা ক্লাবের হয়ে। ওই ক্লাবের হয়ে দাপটে খেলে তিনি ১৯৭৬-৭৭ মরসুমে দলটিকে সিরি এ লিগে তোলেন, সেটিও তাঁর একক কৃতিত্বে।
শেষযাত্রায় রসির কফিন বয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন ১৯৮২ বিশ্বকাপে তাঁর প্রিয় সতীর্থরা। সেখানে ছিলেন মার্কো তারদেল্লি, আন্তোনিও কাবরিনি, জিয়ানকার্লো আন্তোনিওনি, আলেসান্দ্রো আলতোবেল্লি, ফ্রাঙ্কো কাউসো, ফুলভো চোল্লাভাতি ও জিউসেপ্পে বার্গোমি। ইতালির রাই টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচারও করেছে শেষকৃত্য অনুষ্ঠান।
পাওলোর কফিন যখন শেষবারের জন্য যাচ্ছিল, সেইসময় রাস্তার দুই ধারে অসংখ্য মানুষ তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য হাজির ছিলেন। ইতালিতে তারপর থেকে যত ম্যাচ হয়েছে, সব ম্যাচের আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। মিলান স্টেডিয়ামে জায়ান্ট স্ক্রিনে পাওলোর খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়। আর সেইসময় পর্দায় ফুটে উঠছিল ওই লেখাটি, ‘‘নায়কদের কোনওদিন মৃত্যু নেই, বিদায় পাওলো।’’