দ্য ওয়াল ব্যুরো: তূষের আগুনের মতো ধিকধিক করে জ্বলছিলই বিতর্ক, অবশেষে তা দাবানলের রূপ নিতে চলেছে। বহুদিন ধরেই ইনভেস্টর শ্রী সিমেন্টের কর্তাব্যক্তিরা ক্লাব কর্তৃপক্ষকে চুক্তিপত্রে সই করার আবেদন জানিয়ে এসেছেন। কিন্তু সেটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলিয়ে রেখেছেন ক্লাব কর্তারা। তাই শ্রী সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ এবার চরমপত্র দিল ক্লাব কমিটিকে। তারা জানিয়ে দিয়েছে, এক সপ্তাহের মধ্যে যদি তারা চুক্তিপত্রে সই করে তাদের না পাঠায়, তা হলে তারা আগামীবছর ইনভেস্টর হিসেবে থাকবে না। বিষয়টি জানাজানি হতেই ক্লাব মহলে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
এই নিয়ে শ্রী সিমেন্টের পক্ষ থেকে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারা জানিয়েছে, আমাদের শর্তাবলী দিয়ে যে চুক্তিপত্র আপনাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল, সেগুলি সম্পর্কে অবহিত থাকার পরেও আপনারা সেটিতে সই করেননি। তাই অবিলম্বে আপনারা কী ভাবছেন, সেটি আমাদের জানান। না হলে আমরাও বিষয়টি নিয়ে অনেকদূর পর্যন্ত ভাবতে বাধ্য হব।
এও বলা হয়েছে, আপনাদের একসপ্তাহ সময় দিচ্ছি, চুক্তিপত্র স্বাক্ষর না করে পাঠালে আমরা সামনের বছর থেকে ক্লাবের পাশে থাকব কিনা, সেটিও ভাবতে হবে। কেন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের পক্ষ থেকে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করা নিয়ে গড়িমসি করা হচ্ছে?
এই নিয়ে ক্লাবের এক কর্তা জানালেন, গড়িমসির কোনও ব্যাপার নয়। কোম্পানি জানিয়ে দিয়েছে, চুক্তিপত্রের নিচে সই করে তার স্ক্র্যান কপি ইমেল করলে কোম্পানি নেবে না, সেটি তাদের হেড অফিসে দিয়ে আসতে হবে। তাই আমাদের দিতে দেরি হচ্ছে।
বিষয়টি অবশ্য সেটি নয়, কারণ চুক্তিতে এমনকিছু পরিচ্ছেদ রয়েছে, যা নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ কর্তারা। তাঁদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনার সময় এক বলা হয়েছিল, আর চুক্তি করতে গিয়ে আরও দাবি করেছে ইনভেস্টররা। এতেই সমস্যা বেঁধেছে। চুক্তিপত্রে রয়েছে, শ্রী সিমেন্ট ইস্টবেঙ্গল ক্লাব ফাউন্ডেশন নামে এই জয়েন্ট ভেঞ্চারে ৭৬ শতাংশ শেয়ার থাকবে ইনভেস্টরের, আর বাকি ২৪ শতাংশ থাকবে ক্লাব কর্তৃপক্ষের।
দলগঠন থেকে শুরু করে কোচ, সাপোর্ট স্টাফদের বিষয়ে সব সিদ্ধান্ত নেবে ইনভেস্টররা, এমনকি কোন টুর্নামেন্টে অংশ নেবে দল, সেটিও ঠিক করবে যারা বিনিয়োগ করছে, সেই সংস্থা। সদস্যদের বিষয়েও যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেবে ইনভেস্টর, এটা নিয়েই মূলত আপত্তি তুলেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, কাদের সদস্যপদ দেওয়া হবে, এটি কখনই ইনভেস্টর ঠিক করতে পারে না।
ক্লাবের প্রশাসনিক বিষয়েও হস্তক্ষেপ করতে পারে ইনভেস্টর, চুক্তিতে সেটিও রয়েছে। এই নিয়ে অবশ্য ইনভেস্টরদের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি। শ্রী সিমেন্টের মুখ্য আধিকারিক অবসরপ্রাপ্ত কর্ণেল শিবাজী সমাদ্দার জানিয়েছেন, এই নিয়ে কিছু বলা যাবে না এখনই, তবে এই বিষয়ে ক্লাবকে অনেক আগেই চিঠি দেওয়া রয়েছে। তারা আমাদের কোনও লিখিত সম্মতি দেয়নি।
এমনকি ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের পক্ষ থেকেও এই চিঠির কথা স্বীকার করা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্তা জানালেন, ‘‘জানি না এরকম চিঠি এসেছে কিনা, এলে আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব উত্তর কী দেওয়া যায়!’’
তবে এই নিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় রীতিমতো যুদ্ধংদেহী সুরে শ্রী সিমেন্টের পক্ষ থেকে শ্রেণিক শেঠ জানিয়েছেন, ‘‘আমরা বহুদিন ধরে এই গড়িমসি সহ্য করেছি। মৌখিক কথাবার্তার ওপর ভিত্তি করে দিনের পর দিন কিভাবে আমরা অর্থ বিনিয়োগ করতে পারি? আমরা এসেছিলাম তো ক্লাবের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করব বলে, তারপর যদি এমন হয়, তা হলে সরে যেতে বিন্দুমাত্র ভাবব না।’’
এমনিতেই দলের পারফরম্যান্সে বীতশ্রদ্ধ ইনভেস্টররা। আইএসএলে ভাল খেলবে দল, তারা সেটিই ভেবেছিল। কিন্তু ক্রমেই দলের ফল হতশ্রী হচ্ছে। তারপর ইনভেস্টর ও ক্লাব বিবাদ ফের লাল হলুদ সংসারে নতুন করে সমস্যা সৃষ্টি করছে।