দ্য ওয়াল ব্যুরো : কলকাতার দুই প্রধানের মতোই বাংলার অন্য প্রধান ক্লাব মহামেডান স্পোর্টিংও বড় ইনভেস্টর জোগাড় করে ফেলল। ইংল্যান্ডের একটি স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি তাদের বিনিয়োগ করবে বলে এগিয়ে এসেছে। তাদের যদিও শাখা রয়েছে দিল্লিতে। এই বহুজাতিক সংস্থার কর্তাদের উপস্থিতিতে আগামী মঙ্গলবার মহামেডান তাঁবুতে এই ইনভেস্টরের নাম ঘোষণা করা হবে।
মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গলের ইনভেস্টর প্রাপ্তি নিয়ে বিস্তর সমস্যা ছিল। কিন্তু মহামেডানের ক্ষেত্রে সেই সমস্যা হয়নি। ১৩০ বছরের প্রাচীন ক্লাবের গরিমা সম্পর্কে সবাই অবহিত। এমনকি বিদেশেও মহামেডান নিয়ে সমর্থকদের আগ্রহ রয়েছে। কিন্তু ইনভেস্টর পাওয়ার পরে ক্লাবে অভ্যন্তরীন সমস্যা এতটাই মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে যে একটা সময় সবাই ধরেই নিয়েছিলেন, হাতের লক্ষ্মী না পায়ে চলে যায়!
ঘটনা এতদূর গড়িয়েছিল যে যিনি উদ্যোগ নিয়ে এই কোটি টাকার ইনভেস্টর নিয়ে আসছিলেন, সেই সচিব ওয়াসিম আক্রামের ইস্তফাপত্রও তৈরি ছিল। কারণ সচিবসহ বেশকিছু শীর্ষ কর্তা ইনভেস্টর নিয়ে আসার পক্ষে সওয়াল করলেও কমিটির বাকি সদস্যরা গোঁ ধরে বসেছিলেন কখনই ক্লাবকে কারোর হাতে তুলে দেওয়া যাবে না।
এই নিয়ে সভায় বিতণ্ডা চরমে ওঠে। ক্লাব সচিব কমিটির সদস্যদের জানান, ‘‘এই যদি সকলের সিদ্ধান্ত হয় যে ইনভেস্টর এলে ক্লাব বিক্রি হয়ে যাবে, তা হলে আমাকে সরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক। কেননা আমি সচিব থেকে আপনাদের বোঝাতেই পারছি না এই আর্থিক সঙ্কটের সময় একটি কোম্পানির এগিয়ে আসা আমাদের সকলের পক্ষে কতটা মঙ্গলজনক হতে পারে।’’
সচিবের এই কথা শুনেই বরফ গলে। সেইসময় ঠিক হয় ইনভেস্টরদের হাতে থাকবে ৬৫ শতাংশ শেয়ার, বাকি থাকবে ক্লাবের। এমনকি দলগঠন থেকে শুরু করে কর্মী নিয়োগ বিষয়ে ক্লাবের সঙ্গে কথা বলেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ক্লাবের আরও এক নামী কর্তা বিলাল আমেদ খান সবসময় সচিব ওয়াসিমের পাশে ছিলেন। কমিটির সদস্যরা যখন ইনভেস্টর না আনার পক্ষে বলছিলেন। সেইসময় ঠিক হয় আইনজীবি ও চাটার্ড অ্যাকাউন্টের সঙ্গে বসে বৈঠক হবে, সেই মতোই শনিবার রাতে মধ্য কলকাতার এক নামী হোটেলে আলোচনায় বসেন শীর্ষ কর্তারা। সেখানেই চূড়ান্ত হয় ইনভেস্টর নিয়ে আসা হবে, এতে কোনও আইনি জটিলতা নেই।
মহামেডান ক্লাব এই ঘটনায় যে আগামী ৫০ বছর এগিয়ে গেল, সেই কথাও জোর দিয়ে জানান এই কর্মকান্ডের হোতা সচিব স্বয়ং। ওয়াসিম বলেছেন, ‘‘পেশাদারী পরিকাঠামোয় যদি মহামেডান ক্লাবকে আমরা না নিয়ে যাই, তা হলে একটা সময় এই ক্লাবের কোনও অস্তিত্বই থাকবে না। তাই এটাই উপযুক্ত সময় শক্ত হাতে হাল ধরার।’’ তিনি আরও জানান, আমাদেরও লক্ষ্য ভাল দলগঠন করে আইএসএলে খেলা। সেই লক্ষ্যেই আমরা সামনের বার এগোবো।
এবার অবশ্য মহামেডান আই লিগের দ্বিতীয় ডিভিশন খেলতে নামবে। ৮ অক্টোবর থেকে টুর্নামেন্ট শুরু। কল্যাণীতে আবাসিক শিবিরে রয়েছেন ফুটবলাররা। বড় টুর্নামেন্ট খেলতে নামার আগে ক্লাবের ইনভেস্টর প্রাপ্তির ঘটনায় সদস্য, সমর্থক থেকে শুরু করে ফুটবলারদের মধ্যেও উৎসাহ ও আশার সঞ্চার ঘটেছে, তা বলাই বাহুল্য।