দ্য ওয়াল ব্যুরো: অ্যাডিলেড টেস্টে ভারতীয় দলের বিশ্রীজনক ব্যাটিং ও ৩৬ রানে শেষ হয়ে যাওয়ার পরে নানা দিকে সমালোচনা ধেয়ে আসছে। অনেকেই বলছেন, অতিরিক্ত টোয়েন্টি ২০ ক্রিকেট খেলার কুফলই এই পারফরম্যান্স। কারোর মতে, দলের ক্রিকেটারদের ‘রাষ্ট্রনায়ক’ হিসেবে দেখা হয় বলেই এমন ফর্ম!
তার মধ্যে ভারতীয় দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলির দেশে ফিরে আসার ঘটনাকে অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না। তাঁদের বক্তব্য, ''সন্তান জন্মানো অবশ্যই একটা জীবনের বড় সন্ধিক্ষণ, কিন্তু আপনি যখন দেশের অধিনায়ক, সেইসময় কিছু ত্যাগ স্বীকার করতেই হবে।""
কেউ আবার কোহলিকে সমর্থন করে বক্তব্য রেখেছেন। জানিয়েছেন, বিরাট যখন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কাছে ছুটির আবেদন করে, সেইসময় তো আর অ্যাডিলেড টেস্টের ৩৬-র লজ্জা সামনে আসেনি, তা হলে এই প্রশ্ন উঠছে কী করে? কিন্তু টেস্ট সিরিজ শুরুর আগেরদিন কোহলি ও স্টিভ স্মিথের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।
সেই সাক্ষাৎকার পর্বে স্মিথকে ভারত অধিনায়ক জানিয়েছিলেন, তিনি জীবনের যে কোনও মাহেন্দ্রক্ষণের থেকে দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা বজায় রাখা সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেবেন, আর সেটি যে কোনও মূল্যে। সেই মন্তব্য তা হলে তিনি কী লোক দেখানো করেছিলেন? সেই প্রসঙ্গও উঠছে সমানভাবে।
কোহলি যেহেতু ভারতীয় ক্রিকেটের মহাজ্যোতিষ্ক, এবং তিনি দলের নেতা, সেই কারণে দেশের প্রাক্তনদের একটা অংশ তাঁকে নিয়ে বেশি সরব হননি, বা হচ্ছেন না। কিন্তু ভারতের নামী প্রাক্তন স্পিনার ইংল্যান্ডবাসী দিলীপ দোশি এক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘‘কোহলির উচিত হয়নি দলকে ফেলে রেখে বাড়ি ফিরে আসা। কারণ ভারতীয় দলের অবস্থা এখন ডুবন্ত জাহাজের মতো। দলের অধিনায়ক হলেন নাবিক, তা হলে তো কঠিন সময়ে সেই জাহাজকে ফেলে রেখে নাবিক চলে গেলেন, এটাই তো মানে দাঁড়ায়, তাই নয় কী!’’
দেশের হয়ে ৩৩টি টেস্ট ও ১৫টি ওয়ান ডে ক্রিকেট ম্যাচ খেলা এই নামী স্পিনারের বক্তব্য, ‘‘তুমি যখন দেশের অধিনায়ক হয়েছ, সেইসময় তোমাকে কিছুটা কর্তব্যপালন করতেই হবে। আমি বলছি না যে নিজের সন্তানের প্রতি কর্তব্য নেই। সেটি থাকতেই হবে। কিন্তু দলের যখন এমন শোচনীয় অবস্থা, সেইসময় বিরাটের উচিত ছিল দলের পাশে থাকা। আমি হলে কখনই এই পরিস্থিতিতে দেশে ফিরে আসতাম না।’’