দ্য ওয়াল ব্যুরো: কৃষক পরিবার থেকে উঠে আসা এক অ্যাথলিট। দু’বেলা ভাল করে পেট পুরে খেতেও পেত না। হতদরিদ্র বলতে যা বোঝায়, হিমা দাস তাই ছিলেন। অসমের এক অঁজ গ্রাম থেকে উঠে এসে তিনি ভারতীয় অ্যাথলিট জগৎকে আলোকিত করেছিলেন।
এর আগে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের কেউ সোনা পাননি। হিমা যুব অনুর্ধ্ব ২০ বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স আসরে মোট ৫টি সোনা অর্জন করে বুঝিয়েছিলেন তিনি লম্বা রেসের ঘোড়া। তারপর অবশ্য সেই ভাবে সফলতা পাননি, কিন্তু হিমা এবারও টোকিও অলিম্পিকে ভারতীয় অ্যাথলিটদের মধ্যে বড় আশা।
বৃহস্পতিবার হিমাকে অসম প্রশাসন পুলিসের বড় পদে বসিয়েছে। তাঁকে ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট (ডিএসপি) পদে বসানো হয়েছে। বুধবার রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল। সেখানেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার মধ্যেই ছিল হিমা দাসের বিষয়টিও।
গরিব পরিবার থেকে উঠে আসা বছর কুড়ির হিমা ট্র্যাকে নিজের দ্রুত গতির জন্য গোটা দেশে ‘ধিং এক্সপ্রেস’ নামে পরিচিত। ইতিমধ্যে বহুবার রাজ্য তথা দেশের নামও উজ্জ্বল করেছেন তিনি। আর তাই তাঁকে সম্মান জানিয়ে পুলিসের অন্যতম নামী কর্তী করা হয়েছে।
https://twitter.com/KirenRijiju/status/1359565314778800128
শুধু হিমার ব্যাপারে এই সিদ্ধান্ত নেওয়াই শুধু নয়, রাজ্যের ক্রীড়ানীতিতেও বদল আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। বৈঠকে ঠিক হয়েছে, এবার থেকে রাজ্যের ক্রীড়াবিদদের ক্লাস-১ এবং ক্লাস-২ অফিসার পদে নিয়োগ করা হবে। পুলিশ, আবগারি, পরিবহণ-সহ বিভিন্ন দপ্তরে তাঁদের পোস্টিং হবে।
হিমা যেমন অসম পুলিশের ডিএসপি পদে আসীন হয়েছেন, তেমনি রাজ্যের অলিম্পিক, এশিয়ান গেমস এবং কমনওয়েলথ গেমসে পদকজয়ীদের নিয়োগ করা হবে ক্লাস-১ অফিসার হিসেবে। এমনটাই জানিয়েছেন সরকারের মুখপাত্র তথা শিল্পমন্ত্রী চন্দ্রমোহন পাটোয়ারি।
https://twitter.com/KirenRijiju/status/1359723236481658882
এদিকে, অসম সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে টুইট করেছেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তিনি বরাবরই হিমাকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত, অত্যন্ত স্নেহও করেন। কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী নিজেই বুধবার রাতে টুইট করে এ খবরটি দিয়েছিলেন।
তিনি হিমা সম্পর্কে লিখেছেন, ‘‘অনেকেই আমার কাছে জানতে চায়, হিমার খেলোয়াড়ী জীবন কেমন চলছে? আমি তাদের বলেছি, হিমা অলিম্পিক যোগ্যতা বাছাইয়ের জন্য এই মুহূর্তে রয়েছে পাতিয়ালা জাতীয় শিবিরে। হিমা প্রতিভাবান অ্যাথলিট সন্দেহ নেই, কিন্তু ওর অনেকদিন কোনও চাকরি ছিল না। অসম পুলিসে থাকলেও বড় পদে ছিল না। ওদের রাজ্য সরকার যে হিমার মতো প্রতিভাবানদের জন্য কিছু ভেবেছে, ভাল লাগছে।’’