দ্য ওয়াল ব্যুরো: কৃষক আন্দোলনে শচীন তেন্ডুলকারের বক্তব্য ঘিরে একের পর এক বিতর্ক ধেয়ে আসছে। মাস্টারকে নানাভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। শারদ পাওয়ার বলেছিলেন, না জেনে কোনও বিষয়ে মন্তব্য করা উচিত নয়, এটা শচীনের বোঝা উচিত ছিল।
তারপরেই রবিবারই পাঞ্জাবের কংগ্রেস সাংসদ যশবীর গিল বেনজিরভাবে শচীনকে আক্রমণ করে জানিয়েছেন, ‘‘শচীন ভারতরত্ন হওয়ার যোগ্যই নন। উনি কেন্দ্র সরকারের থেকে কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা করেন, সেই কারণেই কৃষি আইন নিয়ে তাদের সমর্থনে গলা মিলিয়েছেন।’’
এখানে না থেমে ওই সাংসদ আরও বলেছেন, ‘‘শচীন এখন মনেপ্রাণে চান ওঁর পুত্র অর্জুন যেন এবার আইপিএলে সুযোগ পায়। সেই কারণেই বিজেপি-র সমর্থনে কথা বলছেন। আমার তো মনে হয় ওঁর ভারতরত্ন পাওয়ার অধিকার নেই।’’
সবচেয়ে তাৎপর্য্যের বিষয়, শচীন নিজেও কংগ্রেস সমর্থিত রাজ্যসভার সাংসদও বটে। বলা যেতে পারে, নিজ দলের এক সাংসদের কাছেই তিনি ‘অসম্মানিত’ হলেন। এই নিয়ে যদিও অধিকাংশই সমালোচনায় মুখর। বলা হচ্ছে, শচীনের মতো আইকনকে এভাবে আক্রমণ করা মানা যায় না।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়ে ভারতের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন বিশ্বখ্যাত পপস্টার রিহানা, পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ থেকে প্রাক্তন পর্নস্টার মিয়া খালিফাও। এমনকি দেশের অন্যান্য তারকারাও এই বিষয়ে সরব হয়েছিলেন।
শুক্রবারই কেরলে শচীনের বক্তব্যের প্রতিবাদে তাঁর কাট আউটে কালি মাখিয়ে দেন যুব কংগ্রেসের একদল কর্মী। সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই বিতর্ক শুরু হয়। দেশের সমস্ত বিষয়ে কথা না বলার পরামর্শ দিয়েছেন এনসিপি প্রধান শরদ পওয়ারও। এর মাঝেই ফের বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন কংগ্রেস সাংসদ গিল।
অন্যান্য তারকার পাশাপাশি শচীনও টুইট করেছিলেন, “ভারতের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে কোনও আপোস নয়। বিদেশি শক্তি দর্শক হতে পারে, দেশের কোনও ঘটনার অংশীদার নয়। ভারতীয়রা দেশকে ভাল করেই চেনেন এবং দেশের সম্পর্কে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আমাদের এ ক্ষেত্রে সকলের ঐক্যবদ্ধ থাকা উচিত।”
এর পর থেকেই একাধিক কুরুচিকর আক্রমণের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁকে। অনেকে অবশ্য এও বলেছেন, শচীনকে বাধ্য করা হয়েছে এরকম টুইট করার জন্য। এমনকি রাজ থ্যাকারে পর্যন্ত জানিয়েছেন, ‘‘লতা মঙ্গেশকর ও শচীন দুইজনই ভিন্ন ক্ষেত্রে কিংবদন্তি, কিন্তু তাঁরা তারপরেও সাধারণ মানুষই, তাই তাঁরা তাঁদের নিজস্ব মত তুলে ধরেছেন। যদিও একই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা উচিত হয়নি।’’