দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোনার বার্সেলোনা দলকে মনে করাল বায়ার্ন মিউনিখ। সেই দুরন্ত ধারাবাহিকতা নিয়ে খেলে তারা চমক দেখাল ক্লাব বিশ্বকাপ জিতে। কাতারের দোহায় ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে মেক্সিকান ক্লাব তিগ্রেসকে ১-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে বায়ার্ন। একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেন ফরাসী ফুটবলার বেঞ্জামিন পাভার্ড।
এ নিয়ে গত এক বছরে ছয়নম্বর ট্রফি জয় বায়ার্নের। একটি মরসুমে যতগুলো ট্রফি জয় সম্ভব, তারা সবই জিতেছে এই ক্লাব বিশ্বকাপ জয়ের মধ্য দিয়ে। ২০১৯-২০ মরসুমে মোট ৬টি ট্রফিই জিতে নিল জার্মান ক্লাবটি। বুন্দেশলিগা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ডিএফবি পোকাল, উয়েফা সুপার কাপ, জার্মান সুপার কাপ এবং সবশেষে ক্লাব বিশ্বকাপ। এই নজিরকেই বায়ার্নের ক্ষেত্রে ‘সিক্স প্যাক’ বলা হচ্ছে, মানে ছয়টি খেতাব।
ম্যাচের ১৮ মিনিটেই জশুয়া কিমিচের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দুর্দান্ত শট জালে জড়ালেও রেফারি ভিএআরের সাহায্য নিয়ে গোল বাতিল করে দেন। রবার্ট লেভানদস্কি সেইসময় অফসাইডে ছিলেন, এই কারণে।
তিগ্রেস গোলরক্ষক নাহুয়েন গুজম্যানকে অনেক বড় পরীক্ষা দিতে হয়েছে বায়ার্ন ফুটবলারদের সামনে। কারণ একের পর এক চাপ সামলাতে হয়েছে তাঁকে। বেঞ্জামিন পাভার্ড, আলফানসো ডেভিস, লেরয় সান, এদের শট রুখে নিশ্চিত গোল থেকে দলকে রক্ষা করেছেন তিনি।
৫৯ মিনিটে পাভার্ডের মাটি কামড়ানো শটটি আর ঠেকাতে পারেননি। পাভার্ডের শট পোস্ট ঘেঁষে জালে জড়িয়ে যায় কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নদের। ওই ১ গোলেই শেষ পর্যন্ত জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয় ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে।
একটা সময় পেপ গুয়ার্দিয়লার হাত ধরে তৈরি হয়েছিল বার্সেলোনার সেই সোনালি প্রজন্ম। মেসি, ইনিয়েস্তা, জাভি, পিকেরা সোনার দল গড়েছিল। পেপের মগজাস্ত্রে অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়েছিল সেই বার্সা। সেবারই এক ক্যালেন্ডার বর্ষে সর্বাধিক ছয়টি ট্রফি জিতেছিল তারা। সেই লক্ষ্যে পৌঁছে গেলেন তারা।
ফাইনালের আগে দলের সেরা তারকা টমাস মুলারের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ হওয়ার কারণে আসাটা ধাক্কাটা আসে জার্মান ক্লাবটির জন্য। দলের অন্যতম অভিজ্ঞ তারকাকে হারানোর ফলে মানসিকভাবেও ভেঙে পড়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্লাবটি।
যার প্রভাব দেখা যায় খেলার মাঠে। যে ম্যাচ বায়ার্নের জেতার কথা একতরফাভাবে, সেটাতে কোনোমতে ১-০ গোলে জয় পেল তারা। তাও বেঞ্জামিন পাভার্ডের সেই গোলটিও প্রথমে অফসাইডের জন্য বাতিল হয়। পরে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) গোলটিকে বৈধ বলে ঘোষণা করে।
চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কারণে পাশাপাশি ব্যক্তিগত পুরস্কারগুলিও বায়ার্নের ফুটবলাররাই জিতে নিয়েছেন। টুর্নামেন্টের সেরা ফুটবলার হিসেবে সোনার বল জিতেছেন লেভানদস্কি। রুপোর বল অবশ্য জিতেছেন তিগ্রেসের তারকা আন্দ্রে পিয়ের জিগন্যাক, ব্রোঞ্জের বল জিতে নিয়েছেন জোশুয়া কিমিচ।