দ্য ওয়াল ব্যুরো : ফুটবল মহলের ধারণা, নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে শেষমেশ বার্সেলোনায় থেকে গিয়েছেন লিওনেল মেসি। অনেকে এও বলছেন, শরীরটাই যা মেসির রয়েছে বার্সায়, না হলে হৃদয়টা অন্য কোথাও। না হলে নতুন মরসুমের জন্য বার্সেলোনার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েও সভাপতি জোসেফ মারিয়া বার্তিমিউর বিপক্ষে কথা বলছেন কী করে রাজপুত্র?
মেসি সম্প্রতি বলেছেন, ‘‘আমাকে বার্সা সভাপতি বলেছিলেন এবার আমি নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্লাব ছাড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারব, কিন্তু তিনি সেই কথা রাখেননি। আমিও চাইনি আমার এতদিনের ক্লাবকে আদালতে টেনে নিয়ে যেতে।’’ এতেই বোঝা যাচ্ছে প্রায় জোর করেই তিনি থেকে গেলেন পুরনো ক্লাবে। কারণ মেসিকে ক্লাব ছাড়তে হলে বার্সেলোনাকে দিতে হতো ৭০০ মিলিয়ন ইউরো।
মেসি বার্সায় থেকে যাওয়ায় খুশি কোচ রোনাল্ড কোম্যান। তাঁর প্রথমদিনের অনুশীলনে ছিলেন না মেসি। সেইসময় তিনি নিজেও সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি এ মরসুমে থাকবেন কিনা স্প্যানিশ এই ক্লাবটিতে। যদিও বার্সা কোচ মিডিয়াকে যা বলেছেন, তাতে উচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়ার কোনও বিষয় নেই। বরং এই অভিজ্ঞ কোচ মেসিকে প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে রেখেছেন এই বলে যে, ‘দলের জন্য যে ফুটবলার নিজেকে উজার করে দেবে, তাকে রেখেই দল সাজাবেন তিনি। এই কথার অর্থ কী, সেটি বেশ ভালই বোঝা গিয়েছে।
স্প্যানিশ সংবাদপত্র ‘মুন্দো ডিপর্তিভো’র লিখেছে, মেসিকে পেয়ে যে খুশি হয়েছেন সেটি জানিয়ে দিতে ভোলেননি বার্সার নয়া কোচ। সেইসঙ্গে কৌশলে যোগ করে দিয়েছেন, ক্লাবে শুধু প্রতিজ্ঞাবদ্ধ খেলোয়াড়দেরই দরকার। কোম্যানের কথায় তেমন প্রতিক্রিয়া দেখাননি মেসি। তিনি শুধু জানিয়ে রেখেছেন, ‘‘আমি পেশাদার, তাই চলতি মরসুমেও নিজের সবটুকু ঢেলে দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"
ঘুরেফিরে অবশ্য বিশ্ব ফুটবলের সেরা মহাতারকা ওই মুহূর্তগুলির কথা তুলে ধরেছেন। লিও মেসি দাবি করেছেন, ‘‘আমি ক্লাবকে বহুবারই বলেছি, প্রেসিডেন্টকেও জানিয়েছিলাম যে, আমি চলে যেতে চাই। আমি তাদের এই কথা পুরো বছরজুড়েই বলেছি। আমি মনে করি, সরে যাওয়ার সময় হয়েছে। কিন্তু তাঁরা আমাকে সরাসরি কিছু না বলে শেষমেশ অন্য কথা বললেন। এটা আমি আশা করিনি।’’
বার্সা রাজপুত্র আরও বলেন, ‘‘আমার মনে হয় এই ক্লাবে আরও তরুণ খেলোয়াড় প্রয়োজন। আমার বোধ হয় বার্সেলোনায় সময় শেষ হয়ে গেছে। আমি খুব দুঃখিত কারণ সবসময়ই বলেছি এখানে থেকে ক্যারিয়ার শেষ করতে চাই।’’