
শেষ আপডেট: 11 December 2020 15:56
শেষমেশ আবার মনবীরই খলনায়ক হয়ে যান হায়দরাবাদের নিখিলকে বক্সের মধ্যে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন মনবীরই। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি দিলে তা থেকে গোল করে যান জোয়াও ভিক্টর। খেলার বয়স সেইসময় ৬৩ মিনিট।
ম্যাচে সমতা ফেরার পরেও হায়দরাবাদ ও মোহনবাগানের খেলা জমে উঠেছিল। কোচ হাবাস তারপর দলে বদল আনেন তিনটি। জয়েশ আসেন গ্লেন মার্টিন্সের পরিবর্তে, সুমিত রাঠিকে বসিয়ে নামান শুভাশিসকে। তারপরে খেলায় সৃজনশীলতা ফিরলেও কাজের কাজ হয়নি।
প্রথমার্ধে এটিকে-মোহনবাগান বেশ কয়েকবার গোলের সুযোগ তৈরি করেছে। তা থেকে তিনটি গোল হতেই পারত। হয়নি, তার একটাই কারণ হায়দরাবাদ গোলের নিচে অভিজ্ঞ সুব্রত পাল ছিলেন বলে। একবার রয় কৃষ্ণের শট দুরন্ত সেভ করেছেন ঝাঁপিয়ে পড়ে। না হলে সেইসময়ই সবুজ মেরুন দল এগিয়ে যেতে পারত।
গার্সিয়ার লম্বা সেন্টার থেকে গোল করার পরিস্থিতিতে পৌঁছে গিয়েছিলেন ইনম্যান। কিন্তু ফের একবার ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন সুব্রত। খেলার ৩৫ মিনিটে প্রবীর দাসের ডানপ্রান্তিক প্রয়াস দক্ষতার সঙ্গে ফিস্ট করলেন সুব্রত। ফিরতি বলে গার্সিয়ার জোরালো হেড আবারও ফেরালেন তিনি।
বারবার মনে হয়েছে গোলের নিচে সুব্রত যদি না থাকতেন, তা হলে আরও আগেই এগিয়ে যেত মোহনবাগান। তাদের খেলায় অবশ্য সেইসময় খুব একটা পরিকল্পনা ছিল না। প্রবীর দাসকে কোচ হাবাস ব্যবহার করেছেন রাইটব্যাক পজিশনে।
বিরতির আগে হাবাস দলের ছককে সাজিয়েছিলেন সামনে দুই স্ট্রাইকার রেখে, রয় কৃষ্ণের পাশে মনবীর। তবে রক্ষণ থেকে মাঝমাঠের মধ্যে সেইসময় সমন্বয় দেখা যায়নি, সেই কারণে গোলের আক্রমণ দানা বাঁধেনি।
হায়দরাবাদ দলটি অনেক উন্নতি করেছে খেলায়। তারা মাত্র দুটি বিদেশী নিয়ে খেলেছে। দলের আলো কেড়ে নিয়েছেন লিস্টন কোলাসো, তিনি বারবার মোহনবাগান ডিফেন্সকে বিব্রত করে গিয়েছেন, তার পুরস্কারও পেল হাবাসের দলের মতো হেভিওয়েট দলকে রুখে দিয়ে।
এটিকে-মোহনবাগান: অরিন্দম ভট্টাচার্য, সন্দেশ ঝিঙ্গান, সুমিত রাঠী (শুভাশিস), প্রীতম কোটাল, কার্ল ম্যাকহুগ, মনবীর সিং, ব্র্যাড ইনম্যান (ডেভিড উইলিয়ামস), প্রবীর দাস (রেজিনস), গ্লেন মার্টিন্স (জয়েশ), এডু গার্সিয়া (প্রণয়), রয় কৃষ্ণ।
হায়দরাবাদ এফসি : সুব্রত পাল, চিংলেনসানা সিং, ওনায়িনদিয়া, আশিস রাই, আকাশ মিশ্র, সৌভিক চক্রবর্তী, জোয়াও ভিক্টর, হিতেশ শর্মা, নিখিল পূজারি, হালিচরন নার্জারি, লিস্টন কোলাসো।