দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে মুখ খুললেন রবি শাস্ত্রী। অ্যাডিলেড টেস্টে বিশ্রী হারের পরে তিনি খোলসে ঢুকে গিয়েছিলেন। যেই মেলবোর্নে দলের প্রত্যাবর্তন ঘটেছে, অমনি তিনি আগের ফর্মে ফিরে এসেছেন। ম্যাচ শেষে ভারতীয় দলের কোচ জানিয়েছেন, এটাই ক্রিকেট, আমি এই খেলাটাই দেখতে চেয়েছিলাম।
আগের ম্যাচে ৩৬ রানে অলআউট, দলের চারজন নিয়মিত সদস্যকে হারানো, ম্যাচ চলাকালীন আরেকজনের ছিটকে পড়া, দীর্ঘদিন ধরে ঘরের বাইরে বায়ো বাবলের মধ্যে থাকা এবং সব শেষে টস হেরে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাটিংয়ের কঠিন চ্যালেঞ্জ, মেলবোর্ন টেস্টে নিজেদের পক্ষে তেমন কিছুই পায়নি ভারত।
তবু ম্যাচ শেষে জয়ী দলের নাম ভারত, তাও কি না মাত্র আড়াইদিনের মধ্যে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে। সব ধরনের নেতিবাচক ভাবনা ঝেড়ে ফেলে ভারতীয় দল বর্ডার-গাভাসকর ট্রফিতে ১-১ সমতা ফিরিয়ে এনেছে। শেষ দুটি টেস্টের ওপর নির্ভর করে কোন দল জিতবে এই সিরিজ।
ভারতীয় ক্রিকেট দলের মূল কোচ রবি শাস্ত্রীর মতে, শুধু তাদের দেশের নয় বরং বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসেই এটি অন্যতম সেরা কামব্যাকের ঘটনা। ম্যাচ শেষে তিনি বলেছেন, ‘‘আমার মতে, এটা ভারতীয় ক্রিকেট শুধু নয়, সারা বিশ্বের ক্রিকেটে সেরা কামব্যাক।’’
শাস্ত্রী আরও যোগ করেন, ‘‘মাত্র ৩৬ রানে অলআউট হওয়া এবং তিনদিনের মধ্যেই পাল্টা আঘাত করতে প্রস্তুত হয়ে যাওয়া সত্যিই অসাধারণ। ছেলেরা এমন প্রত্যাবর্তনের জন্য পূর্ণ কৃতিত্ব প্রাপ্য। তারা সত্যিকারের একটা লৌহকঠিন মানসিকতা দেখিয়েছে, আমি ওদের জন্য গর্বিত।’’
এইসময় ভারতীয় কোচকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, গত ম্যাচে ৩৬ রানে অলআউট হওয়ার পর কী কথা হয়েছিল ড্রেসিংরুমে? উত্তরে তিনি বলেন, ‘‘কোনও কথাই হয়নি। আমার মতে, মেলবোর্নের আসার পর, ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য এ জিনিসটাই প্রয়োজন ছিল। অ্যাডিলেডে অনেক ইতিবাচক বিষয় ছিল। কিন্তু দিন শেষে আমরা হেরেছিলাম, এটাই সত্যি ঘটনা।’’
শাস্ত্রী মনে করেন, ‘‘অ্যাডিলেডের ঘটনা থেকে আমরা শিক্ষা নিয়েছিলাম। তবে এটাও বলব আমরা সত্যিকারের ভাল ক্রিকেট খেলেছি দ্বিতীয় টেস্টে। অস্ট্রেলিয়াকে নিজেদের মাঠে হারানো একটা দুটি সেশনের ব্যাপার নয়, পুরো ম্যাচ ভাল খেলতে হবে, ছেলেরা সেটাই করে দেখিয়েছে।’’
শাস্ত্রীর নিজের কাছেও এই টেস্ট ছিল অক্সিজেন। তাঁকে নিয়েও সমালোচনা হচ্ছিল। বলা হয়েছে, তিনি দলের সঙ্গে রয়েছেন বোঝাও যাচ্ছে না। তাঁর কোনও কার্যকারিতা ছিল না। এমনকি এও শোনা যাচ্ছিল শাস্ত্রীর পরিবর্তে দলের কোচ হতে পারেন টম মুডি কিংবা রাহুল দ্রাবিড়ের মধ্যে কোনও একজন। সিরিজ জিতলে শাস্ত্রী টিকে যাবেন, এমন অবশ্য ব্যাপার নেই। সবটাই নির্ভর করছে তাঁকে নিয়ে বোর্ড কী ভাবছে সেটির ওপর।