দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিতর্ক ও সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় যেন পাশাপাশি হাঁটে সর্বদা। না হলে আবারও তাঁকে ঘিরে তৈরি হয়েছে স্বার্থের সংঘাতের পুরনো অভিযোগ। যদিও এবার আরও বৃহৎ আকারে। শুধু তাই নয়, খতিয়ে দেখা গিয়েছে বিসিসিআই প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যে কোম্পানি গুলির চুক্তি রয়েছে, সেই সংস্থা আবার বোর্ডের স্পনসরের প্রতিপক্ষ প্রতিষ্ঠান। এই নিয়ে ফের বিতর্ক সামনে চলে এসেছে।
একটি অনলাইন গেমিং অ্যাপের সঙ্গে তাঁর চুক্তি, এই নিয়ে আইপিএলের সময় একবার বিতর্ক ওঠে। বলা হয়, এই অ্যাপগুলি মূলত বেটিংকে উসকে দেয়, সেখানে বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি এগুলি করছেন কী করে! সেই বিতর্ক ধামাচাপা পড়ে যাওয়ার পরে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্নে ফের বিদ্ধ ভারতের অন্যতম সেরা প্রাক্তন অধিনায়ক।
খতিয়ে দেখা গিয়েছে, সৌরভ এগটেক ক্লাসপ্লাস গ্রুপের মাই ইলেভেন সার্কেল (My 11 circle) সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ, তিনি আবার ওই সংস্থার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডরও। কিন্তু এই সংস্থা আবার ঘোষিত প্রতিপক্ষ বিসিসিআই-র যে স্পনসর রয়েছে তাদের। বোর্ডের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে ড্রিম ইলেভেন, যাদের সঙ্গে আইপিএলে ২২২ কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এমনকি এদেরই বাইজু ভারতীয় ক্রিকেট দলের জার্সির স্পনসর।
বোর্ডের অন্দরে প্রশ্ন উঠছে, এটা কী করে সম্ভব? একজন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট তিনি যে সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ, সেই সংস্থা বোর্ডের স্পনসরের নিকটতম প্রতিপক্ষ। এই নিয়ে আগামী ২৪ ডিসেম্বর বোর্ডের বার্ষিক সাধারণ সভায় আলোচনা হতে পারে। এবং এই নিয়ে প্রশ্ন করা হতে পারে বিসিসিআই-র সচিব জয় শাহকে।
যদিও এটাও ঠিক, সৌরভ যখন মাই ইলেভেন সার্কেলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন, সেইসময় তিনি বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ছিলেন না। কিন্তু তারপরে যখন ড্রিম ইলেভেন বোর্ডের স্পনসর হল, সেইসময়ও ওই অনলাইন অ্যাপ সৌরভের চুক্তির বিরোধিতা করেননি। এই নিয়ে মাই ইলেভেন সার্কেলের শীর্ষ আধিকারিক ভাবিন পান্ডিয়া জানান, ‘‘আমাদের সঙ্গে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের যে চুক্তি হয়েছে, সেটি একজন প্রাক্তন দলনায়কের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। উনি যে বোর্ডের প্রেসিডেন্ট হিসেবে রয়েছেন, ওইভাবে আমরা দেখছি না। এটিকে মেলালে ভুল করা হবে।’’
তাদের সংস্থা থেকে বরং বলা হয়েছে, ‘‘ওটিকে স্বার্থের সংঘাত বলা হতো যদি সৌরভ বোর্ডের স্পনসরের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতেন, অথবা তিনি একেধারে বোর্ডের মসনদে রয়েছেন, তা তো তিনি করেননি। তিনি একটি পৃথক সংস্থার সঙ্গে চুক্তি সেরেছেন, এতে কোনও অন্যায় নেই।’’
যদিও বিতর্ক উঠছে নানা দৃষ্টান্ত দেখিয়ে। বলা হচ্ছে, ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো যদি মাস্টার কার্ডের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হতেন, আর ফিফার মূল স্পনসর ভিসা, তা হলে এই নিয়ম তাঁর ক্ষেত্রে মানা হতো? তা হলে বোর্ড প্রেসিডেন্ট কী করে প্রতিপক্ষ সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন।
এমনকি উঠে আসছে সাম্প্রতিক সময়ের একটি ঘটনা। যেখানে বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স সংস্থার প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান কো এক লক্ষ মার্কিন ডলারে চুক্তি বদ্ধ ছিলেন নাইক সংস্থার সঙ্গে, কিন্তু অ্যাথলেটিক্স সংস্থার স্পনসর অ্যাডিডাস, তিনি সেই কারণে নাইকের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করেছেন, তা হলে কী করে একই নিয়মে দুটি পৃথক ফল হবে, সেই প্রশ্নও তোলা হবে বোর্ডের সভায়।