
মহম্মদ সিরাজ
শেষ আপডেট: 7 April 2025 10:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চার ম্যাচে তিনটিতে জয়, একটি পরাজয়। আইপিএলের (IPL 2025) পয়েন্ট তালিকায় দু’নম্বরে রয়েছে গুজরাত টাইটানস (Gujrat Titans)। চলতি টুর্নামেন্টে দুরন্ত ফর্মে শুভমান গিলেরা। এই ছন্দে থাকার অন্যতম কারিগর দলের বোলিং ইউনিট। যাকে অধিনায়ক ‘গেম চেঞ্জার’ বলে কুর্নিশ জানিয়েছেন। আর ইউনিটের অন্যতম সদস্য মহম্মদ সিরাজ (Mohammed Siraj)। যিনি গতকালও প্রতিপক্ষ সানরাইজার্স হায়দরাবাদের (Sunrisers Hyderabad) দুর্ধর্ষ ব্যাটিং লাইন আপকে একা হাতে মুড়িয়ে দিয়েছেন। ৪ ওভার বল করে দিয়েছেন মাত্র ১৭ রান। নিয়েছেন ৪ উইকেট।
আপাতত আইপিএলে সর্বাধিক উইকেট সংগ্রাহকদের তালিকায় তিন নম্বরে রয়েছেন সিরাজ। ৪ ইনিংসে ঝুলিতে এসেছে ৯ উইকেট। সবকিছু মিলিয়ে খুশিতেই থাকার কথা টিম ইন্ডিয়ার পেসারের। কিন্তু এতকিছুর মধ্যেও আইপিএলে তুখোড় ফর্মে থাকা সিরাজ কিছুতেই ভুলতে পারছেন না চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নামতে না পারার যন্ত্রণা।
রোহিত শর্মারা ট্রফি জিতলেও দল ঘোষণার সময় বিতর্কের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল মহম্মদ সিরাজের বাদ পড়া। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শুরুর আগে জসপ্রীত বুমরাহ চোটের জন্য খেলতে পারবেন না—এটা নিশ্চিত হওয়ার পর কোন কোন বোলার দুবাই যেতে চলেছেন, তা নিয়ে ধন্দ শুরু হয়। কতজন পেসার, কতজন স্পিনারকে বেছে নেওয়া হবে, সেই সংশয় মিটতে না মিটতে দানা বাঁধে নয়া বিতর্ক। যখন জানা যায়, হর্ষিত রানা কিংবা অর্শদীপ সিংয়ের মতো অনভিজ্ঞ পেসারকে দলে রেখে বাদ দেওয়া হয়েছে মহম্মদ সিরাজকে। তাঁর জায়গায় দলে এসেছেন একজন স্পিনার—বরুণ চক্রবর্তী।
এই ইস্যু নিয়ে এরপর একাধিকবার অধিনায়ক রোহিত শর্মাকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। সাংবাদিকদের সওয়ালের জবাবে রোহিত জানান, তাঁরা অলরাউন্ডার বাছাইকে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণভাবে তুলে ধরেন আরেকটি কারণ। যেখানে রোহিত যুক্তি ছিল, পুরোনো বলে সিরাজ ততটা ‘কার্যকরী’ নন। দুবাইয়ের ময়দানে মিডল অর্ডারে বিপক্ষ দলের পার্টনারশিপ ভাঙতে এমন বোলার তাঁরা খুঁজছেন, যিনি জেল্লা-উঠে যাওয়া বলেও ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারবেন।
সেই সময় কিছু না বললেও দল ট্রফি জিতে দেশে ফেরার পর মুখ খোলেন সিরাজ। বলেন, ‘গত বছর দুনিয়ার সেরা দশ জন সিমারের মধ্যে আমি পুরোনো বলে সর্বাধিক উইকেট নিয়েছি। তার উপর ইকোনমি রেটও যথেষ্ট কম। পরিসংখ্যানই আমার হয়ে কথা বলছে। আমি পুরোনো ও নতুন—দু’ধরনের বলেই যথেষ্ট ভাল পারফর্ম করেছি।‘ আইপিএলে নামার আগে একটি সাংবাদিক বৈঠকে একথা আত্মবিশ্বাসের সুরে ঘোষণা করেন তিনি।
এবার ফের একবার সেই বিষয়টিই নতুন করে চাগাড় দিয়ে উঠল। হায়দরাবাদকে কার্যত একাহাতে শেষ করার পর সিরাজ বলে দিলেন, ‘একটা সময় এমন এসেছিল যখন আমি দল থেকে বাদ পড়ার বিষয়টি হজম করতে পারছিলাম না। কিন্তু তারপরেও আমি উদ্যম জারি রাখি। ফিটনেস নিয়ে নিরন্তর খেটে যাই। খেলাতেও আরও উন্নতির চেষ্টা চালাই।‘
যদিও ভারতীয় ক্রিকেটে টিকে থাকতে গেলে এ ধরনের লড়াই করাই যে দস্তুর, প্রতিযোগিতায় লাগাতার জিতে চলার পরই যে জাতীয় দলের জার্সি পরার সুযোগ জুটবে, এই বিষয়ে নিঃসন্দেহ তিনি। সিরাজের কথায়, ‘একজন পেশাদার হিসেবে যখন আপনি একনাগাড়ে অনেক দিন টিম ইন্ডিয়ার হয়ে খেলেন, তখন মনের ভেতরে একটা সংশয় দানা বাঁধে—আমি ফের দলের বাইরে চলে যাব না তো? কিন্তু আমি এই সময় নিজেকে উজ্জীবিত করে তুলি ও আইপিএলের অপেক্ষায় দিন কাটাই।‘
এর আগে নেমেছেন বেঙ্গালুরুর হয়ে। এখন গুজরাতের হয়ে মাঠে নামলেও সিরাজ আদতে হায়দরাবাদের ভূমিপুত্র। তাই ঘরে ফিরে কিছুটা হলেও অনুভূতিপ্রবণ শোনাল তাঁর গলা। বললেন, ‘ঘরের মাঠে খেলার অনুভূতি সব সময় আলাদা। আজ আমার পরিবার দর্শকদের ভিড়ে বসেছিলেন। আমায় লাগাতার সমর্থন জুগিয়ে এসেছেন। আমি ৭ বছর আরসিবির হয়ে খেলেছি। এখন আমি আমার বোলিং এবং মানসিকতা—দুটো নিয়েই খাটাখাটনি করছি। আর এটা কাজেও দিচ্ছে।‘ জাতীয় দলে আপাতত ব্রাত্য হয়েও ফিরে আসার প্রত্যয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মহম্মদ সিরাজ।