
শেষ আপডেট: 17 February 2024 19:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতায় এমনকিছু ক্লাব রয়েছে, যে ক্লাবগুলি থেকে উঠে এসেছেন নক্ষত্ররা। এরকমই একটি ক্লাব হল ভবানীপুর নর্দান পার্কের বালক সংঘ। যদুবাবুর বাজার থেকে পায়ে হাঁটা দুরত্বে এই নামী ক্লাব পা দিল শতবর্ষে।
এখনও এই ক্লাব ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, অ্যাথলেটিক্সেও অংশ নিয়ে থাকে। আগে যাঁরা এই ক্লাব থেকে ময়দানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্ব করেছেন, তাঁরা দেশের হয়েও দাপটে খেলেছেন। সেই বিখ্যাত ক্লাবের শতবর্ষ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন সন্দীপ পাতিল। ১৯৮৩ সালে কপিলের বিশ্বকাপ জয়ী দলের অন্যতম সদস্য পাতিল। তিনি জাতীয় দলের কোচ ও নির্বাচকও হয়েছেন।
পাতিল ছাড়াও ছিলেন সিএবির সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়সহ আইপিএল কাউন্সিল সদস্য অভিষেক ডালমিয়া, প্রাক্তন ক্রিকেটার বরুণ বর্মন, উদয় ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, স্পিনার বরুণ বর্মণ। ছিলেন সিএবির প্রাক্তন সচিব বিশ্বরূপ দে। অনুষ্ঠানে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিককেও দেখা গিয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ চমক ছিল ঘুড়ি উৎসব। তারকারা সবাই এই উৎসবে শামিল হয়েছিলেন। ঘুড়ি ওড়াতে দেখা যায় প্রবীণ অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিককেও।
বালক সংঘের স্মৃতির অনুষ্ঠানে হাজির থেকে স্নেহাশিস বলেছেন, আমার এই ক্লাবের সঙ্গে ছোটবেলার সম্পর্ক। আমি প্রথম সিএবি লিগের ম্যাচ খেলেছিলাম এই মাঠে। ইরানি ট্রফির শিবিরও বসেছিল এই নর্দান পার্কের মাঠে।
অভিষেক ডালমিয়া জানান, আমার বাবা প্রয়াত জগমোহন ডালমিয়া এই মাঠে একবার ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন। উনি এই ক্লাবের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
পাতিল বেশ আবেগাপ্লুত এই ক্লাবের বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পেরে। তিনি বলেছেন, এই ক্লাবের হয়ে একটা সময় খেলেছেন দিলীপ দোশী ও দেবাঙ গান্ধীর মতো ক্রিকেটার। অরুণ লালও খেলেছেন, দারুণ ব্যাপার। আমি তাই এই গর্বিত এমন একটা অনুষ্ঠানে আসতে পেরে। কলকাতা আমার প্রিয় শহর। তাই বারবার ছুটে আসি নানা আমন্ত্রণে।
এই ক্লাবকে বিভিন্ন সময়ে গৌরবান্বিত করেছেন কৃতি ক্রীড়াবিদরা। ফুটবলে বিদেশ বসু, ক্রিকেটে হাজারো নামের মধ্যে স্মৃতিতে ভাস্বর ভলিবলের উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ও। তিনি এই ক্লাব থেকে উঠে এসে ভারতীয় ভলিবল দলের অধিনায়কত্ব করেছিলেন। তিনি ছিলেন ভাল অ্যাথলিটও। এই ক্লাবের হয়ে বহু পদক জিতেছেন। তাঁর সেই স্মৃতি ভাণ্ডার ক্লাবের অনুষ্ঠানে সাজানো হয়।
উদয়ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় ওই নামী ভলিবল তারকার স্মৃতি প্রসঙ্গে জানান, ওঁর ক্যারিশমা আমাদের প্রেরণা ছিল। খুব কাছ থেকে দেখেছি, এই পার্কের পাশের রাস্তাতেই ওঁর বাসভবন ছিল। বালক সংঘ ক্লাবকে প্রতিষ্ঠা দেওয়ার পিছনে এই তারকাদের সাফল্যই ছিল প্রধান বিষয়।
বাংলা ভলিবলের তারকার তারকা উজ্জ্বল চটোপাধ্যায়ের সুযোগ্য পুত্র ক্রীড়াদরদী মানুষ সজল বাবুও জানালেন, সারা দিন বালক সংঘের নানা কর্মসূচিতে অংশ থাকতে পেরে ভাল লেগেছে। বাবার নানা স্মৃতি মালা সাজানো হয়েছিল ক্লাব প্রাঙ্গনে। নিজেকে গর্বিত মনে হয়েছে। বালক সংঘের কর্তাদের প্রচেষ্টা আরও সুন্দর করে তুলেছিল অনুষ্ঠানকে।