দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিভৃতে, নীরবেই ইতিহাস রচিত হয়। আমেরিকার প্রবাসী ব্রাক্ষণ পরিবারের সন্তান সমীর বন্দ্যোপাধ্যায় জুনিয়র উইম্বলডনের ফাইনালে চলে গেল। সমীরের বয়স মাত্র ১৭। ওই তরুণ যদি খেতাব পেয়ে যান, তা হলে সেটি ভারতের কাছে গর্বের বিষয় হবে।
শনিবার সমীর সেমিফাইনালে হারাল ফ্রান্সের গুয়েমার্ড ওয়েনবার্গকে। খেলার ফল সমীরের পক্ষে ৭-৬ (৭-৩), ৪-৬, ৬-৩ গেমে। ম্যাচ দেখেই বোঝা গিয়েছে লড়াই হয়েছে ভালই, তবে শুরু থেকেই সমীর ম্যাচের রাশ বজায় রেখে দিয়েছিল।
প্রথম সেটে দারুণ ভাবে শুরু করেছিল সমীর। তৃতীয় গেমেই সে ব্রেক করে ওয়েনবার্গকে। কিন্তু তারপরেই ঘুরে দাঁড়ায় ওয়েনবার্গ। খেলা গড়ায় ৬-৬ গেমে। সেখান থেকে টাইব্রেকারে বিপক্ষকে দাঁড়াতে দেয়নি সমীর।
দ্বিতীয় সেটের শুরুতেই সমীরকে ব্রেক করেছিল ওয়েনবার্গ। এক সময় সমীর পিছিয়ে যায় ১-৩ গেমে। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-৩ করে দেয়। ওই সেটে হারলেও পরের সেটে দারুণ প্রত্যাবর্তন তার।
এবার শুরু থেকেই ম্যাচের রাশ নিজের হাতে নিয়ে নেয় এই প্রবাসী বাঙালি। শুরুতেই এগিয়ে যায় ২-১ গেমে। সেখান থেকে তাকে আর রোখা যায়নি। প্রতিপক্ষকে দু’বার ব্রেক করে সেট জিতে নেয় ৬-২ গেমে। এমনকি ফাইনালের টিকিটও অর্জন করে নেয়।
এর আগে ভারতীয় হিসেবে জুনিয়র উইম্বলডন জিতেছেন রমানাথন কৃষ্ণান এবং তাঁর ছেলে রমেশ। খেতাব জিতেছেন লিয়েন্ডারও ১৯৯১ সালে। কিন্তু কোনও বাঙালির এইভাবে স্বপ্ন দেখানো, সেই কাজটি করেছিলেন কলকাতার কিংবদন্তি প্রাক্তন টেনিস তারকা জয়দীপ মুখোপাধ্যায়। তিনিও ফাইনালে উঠে শেষ রক্ষা করতে পারেননি।
সেই জয়দীপ বলছিলেন, ‘‘আমাদের কাছে দারুণ গর্বের। শুনেছি সমীরের বাবা দিল্লিতে থাকতেন, তারপর আমেরিকা চলে যায়। সমীরের মা-ও বাংলার মেয়ে। আমি যা পারেনি, সেটাই ওকে পারতে হবে। ফাইনালের জন্য শুভেচ্ছা জানাই। বাংলায় প্রতিভার অভাব নেই, সেটিও বোঝা গিয়েছে।’’
জয়দীপের মতো খুশি জিশান আলি। প্রয়াত আখতার আলির ছেলে জিশানও জানালেন, ‘‘সমীর আমাদের কাছে গর্বের বিষয় নিয়ে এসেছে, ওকে ফাইনালে ওঠার জন্য শুভেচ্ছা, তবে চ্যাম্পিয়ন হতে হবে।’’