দ্য ওয়াল ব্যুরো: শচীন তেন্ডুলকার প্রায়ই বলেন এই কথাটি, তাঁর দু’বার জন্ম হয়েছে, একবার পৃথিবীতে প্রথমবার ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময়। দ্বিতীয়বার ১৯৯৮ সালে, যেবার ডন ব্র্যাডম্যানের বাড়িতে তিনি গিয়েছিলেন, সেদিনও ছিল ২৭ অগাস্ট, ডনের ৯০তম জন্মদিবসে তাঁদের দেখা হয়েছিল।
শচীনকে সেদিনও বলেছিলেন, তুমি আমার মতো ক্রিকেট খেলো। শুনে শচীন বিগলিত হয়েছিলেন, ক্রিকেট ঈশ্বরের মুখ থেকে এমন কথা শুনে তিনি বিস্ময়াভূত হন।
বলা হয়, ক্রিকেট যতদিন, ডন ততদিনই। ক্রিকেটের যেমন মৃত্যু হবে না, তেমনি ডন চিরঅমর হয়ে থাকবেন ক্রিকেট প্রেমীদের হৃদয়ে। ১১৩ বছরে পা দিল তাঁর জন্মবার্ষিকী, কিন্তু আজও তিনি প্রাসঙ্গিক সমানভাবে। কিংবদন্তিদের মৃত্যু হয় না, তাঁরা বেঁচে থাকেন পরম্পরা ধরে।
১৯৩১ সালের ২ নভেম্বর, নিউ সাউথ ওয়েলসের হয়ে একটি প্রদর্শনী ম্যাচ খেলতে নামেন স্যার ডন ব্র্যাডম্যান। তখনকার দিনে ওভার হতো ৮ বলে। সেই ম্যাচে ৩ ওভারে উঠেছিল ১০২ রান। যার মধ্যে সতীর্থ ওয়েন্ডেল বিল করেছিলেন মাত্র ২ রান। বাকি ১০০ রান অর্থাৎ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছিলেন স্যার ডন, তাও মাত্র ৩ ওভারের মধ্যে। সেই ম্যাচে মোট রান করেছিলেন ২৫৬, যার মধ্যে ছিল ২৯ টি বাউন্ডারি ও ১৪ টি ওভার বাউন্ডারি।
https://twitter.com/sachin_rt/status/1431173782329196550
ডিজনি ওয়ার্ল্ডের একটি বিখ্যাত কার্টুন চরিত্র আছে, ‘ডোনাল্ড ডাক’। ১৯৩২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সহ আমেরিকা সফরে যায় অষ্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দল। সেই সফরে ৫১টি ম্যাচের মধ্যে স্যার ডনের সংগ্রহে ছিল সাড়ে তিন হাজারের ওপর রান।
এই পুরো সফরে একটি ম্যাচে স্যার ডন আউট হয়েছিলেন শূন্য রানে। সেই খবর ফলাও হয়ে প্রকাশ পেয়েছিল প্রতিটি সংবাদপত্রে। কারন সেই সময়ে স্যার ডনের শূন্য রানে আউট হওয়া ছিল এক অলৌকিক ব্যাপার। এই খ্যাতি দেখে ওয়ার্ল্ড ডিজনি সৃষ্টি করেন এক অমর চরিত্র ডোনাল্ড ডাক। স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানের নাম ক্রিকেট ছাড়াও অমর হয়ে যায় আপামর কার্টুন প্রিয় মানুষের কাছে।
https://twitter.com/Sportskeeda/status/1431127035728908291
২৭ অগাস্ট ১৯৯৮. এই দিনে স্যার ব্র্যাডম্যানের বাড়িতে শচীন গেলে হাতে তুলে দিয়েছিলেন নিজের সই করা ব্যাট। নিজের তৈরি সর্বকালের সেরা প্রথম একাদশে ডন স্থান দিয়েছিলেন আধুনিক সময়ের ডন শচীনকেই।
ব্যাটিং গড় ৯৯.৯৪. শেষ ইনিংসে এরিক হোলিসের বলে শূন্য রানে আউট না হলে তাঁর ব্যাটিং গড় হতো ১০০.০০। কিন্তু রক্ত মাংসে গড়া অন্য মানুষদের মতোই তাঁর জীবনেও রয়ে গিয়েছে এই অতৃপ্তি। তবুও ডন থাকবেন ক্রিকেট প্রেমীদের হৃদয়ে, চিরকালীন সৃষ্টি হিসেবে।