
শেষ আপডেট: 18 October 2023 18:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’জনের বয়স প্রায় একই। ফুটবলের ব্যাপ্তির বিচারে একে অপরের সঙ্গে কোনও তুলনাই চলে না। একজন যদি নদী হন, অন্যজন মহাসাগর।
একটা সময় জোস রামিরেজ ব্যারেটো যখন কলকাতায় দাপটের সঙ্গে খেলছেন, সেইসময় তাঁর সঙ্গে ব্রাজিলের তারকা ডিফেন্ডার লুসিওর বন্ধুত্বের কথা চলে আসত। কিন্তু রোনাল্ডিনহোর মতো কিংবদন্তি যে ব্যারেটোর পাড়াতেই থাকেন, সেটি মনে হয় অলক্ষ্যেই থেকে গিয়েছিল।
রোনাল্ডিনহোর কলকাতা সফরের সময় এই তথ্যটাই সামনে চলে এসেছে। দুই তারকাই থাকেন রিও ডি জেনেইরোর পোর্তো আলেগ্রেতে। রিওর কোলাহলশূন্য এলাকা রিও দ্য সুল নামক স্থানেই জন্ম রোনাল্ডিনহোর।
ব্রাজিলের ফাভেলা বস্তি থেকে উঠে এসেছেন ফুটবলের মহাতারকারা। বলা হয় ফাভেলা শুধু বস্তি নয়, সেটি ব্রাজিলের ফুটবলাদের ধাত্রীগৃহ। ওই বস্তিতেই থাকেন রোনাল্ডিনহোর ছোটবেলার কোচ কার্লোস বিয়ন্তা।
ফাভেলা সম্পর্কে বলা হয়, ওটি ব্রাজিলের অন্ধকারচ্ছন্ন এলাকা। সকালের ফাভেলা বদলে যায় সন্ধের পর থেকে। রোনাল্ডিনহো যে বারবার বিতর্কে জড়িয়েছেন, সেটি নাকি ফাভেলা বস্তির কুপ্রভাবের জন্যই।
ব্যারেটো অবশ্য এক আলাপচারিতায় বলেছিলেন, ব্রাজিলে পাড়ায় পাড়ায় ফুটবলারের জন্ম হয়। আমি যে গ্রাম থেকে উঠে এসেছি, সেখানেও বিকেলে ফুটবলারদের মেলা বসে যায়। একটা বড় মাঠে সবাই খেলছে। যদিও একই গ্রামের দুই ফুটবলারের জীবন একেবারেই অন্য পথে হেঁটেছে।
ব্যারেটো একেবারেই বিতর্কহীন তারকা। তাঁর জীবন সোজা-সরল। পারিবারিক বুনোট অনেক বেশি, স্ত্রী ও সন্তান ছাড়া আর কিছু জানেন না। রোনাল্ডিনহো একেবারে অন্য মেরুর বাসিন্দা। তাঁর জীবন শুরু থেকেই গোলমেলে। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন। মা ও দুই দাদার কাছে মানুষ হয়েছেন এই তারকা ফুটবলার।
অভাব অবশ্য ব্যারেটোর মতো তিনিও ছোট বয়স থেকে পেয়েছেন। রোনাল্ডিনহোর মা ব্রাজিলে বাড়িতে বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতেন। এক দাদা কাজ করতেন বেকারিতে। ফুটবল যাঁর রক্তে, তাঁর জীবন বদলে গিয়েছে ম্যাজিকের মতো। কিন্তু এও ঠিক, জীবনে সংযম ধরে রাখলে রোনাল্ডিনহো আরও এগোতেন। ফুটবল দুনিয়া তাঁকে মনে রাখবে শিল্পী ফুটবলার হিসেবেই।
ব্রাজিলের গ্রেমিও থেকে রোনাল্ডিনহোর ফুটবল জীবন শুরু। কী অবাক করা বিষয়, ব্যারেটোও খেলেছেন গ্রেমিওতে। ফুটবলারদের ভেদাভেদ থাকে না। দক্ষতায় একে অপরের মধ্যে ফারাক থাকলেও ফুটবলই দুই তারকাকে কোথাও গিয়ে মিলিয়ে দিয়েছে।