
রিকার্ডো কাকা
শেষ আপডেট: 23 April 2025 07:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃষ্টিস্নাত এথেন্স স্টেডিয়াম। সদ্য লিভারপুলকে (Liverpool) হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি (Champions Trophy) জিতেছে এসি মিলান (AC Milan)। নিয়েছে দু’বছর আগে ঐতিহাসিক পরাজয়ের মধুর প্রতিশোধ। ইস্তানবুলে ২০০৪ সালের ফাইনালে প্রথমার্ধে ৩-০ গোলে এগিয়েছিল মিলান। বিরতির পর সবকিছু গুবলেট। গোল করে ব্যবধান কমান লিভারপুল অধিনায়ক স্টিভেন জেরার্ড (Steven Gerrard)। তারপর আরও দু’গোল করে শেষমেশ পেনাল্টিতে জয় হাসিল করে রাফা বেনিতেজের লিভারপুল।
তিনটে অ্যাসিস্টের সৌজন্যে (যার মধ্যে হারনানা ক্রসপোকে বাড়ানো ডিফেন্স-চেরা থ্রু বল চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে অন্যতম দৃষ্টিনন্দন গোলের রাস্তা খুলে দেয়) ম্যাচের নায়ক হয়ে উঠতে পারতেন রিকার্ডো কাকা (Ricardo Kaka)। বদলে মাঠ ছেড়েছিলেন নতমুখে।
This through ball by Kaka and finished by Crespo was out of this world pic.twitter.com/iEcDJcqyfj
— Former Footballers (@FinishedPlayers) July 29, 2024
দু’বছর আগে এথেন্সের সেই হতাশা সুদে-আসলে মিটিয়েছিলেন কাকা। মিলান জিতেছিল চ্যাম্পিয়নস লিগ। আর ফুটবলের অমর চিত্রকথায় নিজের নাম খোদাই করে ফেলেছিলেন ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার।
চোটের কবলে বর্ণময় কেরিয়ারে ছেদ পড়ে। তার আগে অবশ্য লা লিগা, সিরি আ, চ্যাম্পিয়নস লিগ, সুপার কাপ, বিশ্বকাপ সহ ফুটবলের সমস্ত আলোচিত খেতাব জিতে নিয়েছেন কাকা। রোনাল্ডো, মেসির জমানা শুরুর পর নয়া প্রজন্ম কাকাকে সেভাবে মনে রাখেনি ঠিকই, কিন্তু ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম প্লেমেকার এবং স্কিলফুল ফুটবলার হিসেবে নিজের গরিমা ছড়িয়ে দিয়েছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি খেলোয়াড়।
গতকালই ৪২ পেরিয়ে ৪৩-এ পা রেখেছেন কাকা (Ricardo Kaka's Birthday)। কিন্তু এখনও তাঁর জীবন ও কেরিয়ারের অনেক তথ্যই অজানা। এক নজরে জেনে নিন এমনই কিছু রকমারি ঘটনা:
১. ‘টাইম’ ম্যাগাজিন বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের যে তালিকা প্রকাশ করে, সেখানে একবার নয়, পরপর দু'বার জায়গা করে নেন কাকা। প্রথমবার ২০০৮ সালে৷ পরের বার ২০০৯-এ।
২. রাষ্ট্রসংঘের ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের অন্যতম মুখ কাকা। এ ছাড়া একাধিক চ্যারিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। স্পেশাল অলিম্পিক্সের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবেও কাজ করেছেন৷
৩. বিশ্বের প্রথম ক্রীড়াবিদ হিসেবে ‘এক্স’ (আগে যার নাম ছিল ট্যুইটার)-এ ১ কোটি ফলোয়ার্সের তালিকায় নাম লিখেছেন কাকা। ফেসবুকেও বিপুল অনুরাগী তাঁর। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভালমতো সক্রিয় ব্রাজিলীয় ফুটবলার। পোস্ট লেখেন তিনটি ভাষা: ইংরেজি, স্প্যানিশ ও পর্তুগিজে৷
৪. লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলতে নেমেছিল ব্রাজিল-আর্জেন্তিনা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী টিমের বিরুদ্ধে সেই দ্বৈরথে সম্ভবত কেরিয়ারের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন গোল করেছিলেন কাকা। সেটাও লিওনেল মেসিকে ঘোল খাইয়ে! ম্যাচে তখন ২ গোলে এগিয়েছিল ব্রাজিল৷ আর্জেন্তিনা বাধ্যত অল অ্যাটাকে। ৮৮ মিনিটের মাথায় মাঝমাঠ বল রিসিভ করে ছুট লাগান কাকা। পেছনে মেসি৷ কয়েক সেকেন্ড তাড়া করলেও কাকার ক্ষিপ্রতর গতির কাছে হার মানতে বাধ্য হন মেসি৷ দৌড় পর্যন্ত থামিয়ে দেন। আর অপ্রতিরোধ্য কাকা পেনাল্টি বক্সে ঢুকে ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েলকে বোকা বানিয়ে একটি জটিল কোণ থেকে শট নিয়ে বল জালে জড়ান।
৫. আসল নাম রিকার্ডো। কিন্তু লোকে কাকা বলে চেনে। তার কারণও বেশ অদ্ভুত! ছেলেবেলায় কাকার ভাই নাকি ‘রিকার্ডো’ শব্দটা ঠিকঠাক উচ্চারণ করতে পারত না। প্রথমে কথা জড়িয়ে, তারপর বদলে গিয়ে দাঁড়ায় ‘কাকা'-য়। তবে থেকে সেটাই ছড়িয়ে পড়ে, সেই নামেই বিখ্যাত হন তিনি৷
৬. ব্রাজিল মোটের উপর গরিব দেশ। ব্রাজিলের অধিকাংশ তারকা ফুটবলারও দু:স্থ পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। ব্যতিক্রম কাকা। তিনি বেশ সম্পন্ন পরিবারের ছেলে। পেয়েছেন কোচিংয়ের সুযোগ। সেটাও বেশ টাকা খরচের পর।
৭. ফুটবলার কাকার কেরিয়ার কিন্তু শুরু হয়েছিল টেনিসের কোর্টে। ১৫ বছর বয়সে ফুটবলে ফিরে আসেন।
৮. ১৮ বছর বয়সে চোট পান কাকা। সেটাও সুইমিং পুলে সাঁতার কাটতে গিয়ে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন আর উঠতে পারবেন না কাকা। ফুটবল খেলা তো অনেক দূরের কথা! কিন্তু সমস্ত জল্পনা দূর করে দু'বছর বাদে জাতীয় দলে জায়গা করে নেন কাকা। ২০০২ সালে জেতেন বিশ্বকাপ। ২০০৭-এ চ্যাম্পিয়নস লিগ৷