দ্য ওয়াল ব্যুরো : শিরশিরানি জাগানো একটা ম্যাচ। এই ম্যাচ আইপিএলের বাজারে সেরা বিজ্ঞাপন হতে পারে। একটা ম্যাচে সাড়ে চারশোর মতো প্রায় রান উঠছে, কী বলা যেতে পারে। সবাই যখন ভাবছিল একপেশে ভাবে জিতবে কিংস ইলেভেন। সেখানে পুরো চিত্রটাই বদলে দিল রাজস্থান।
কিংসের জয়ের মুথ থেকে গ্রাস কেড়ে নিয়ে রাজস্থান ম্যাচ জিতে নিল চার উইকেটে। এজন্য বড় অবদান রাহুল তেওটিয়ার, হরিয়ানার এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের ৩১ বলে ৫৩ রান লোকেশ রাহুলের জয়ের স্বপ্নকে ধূলিস্রাৎ করে দিল। টম কুরানের চার ফেন্সিং ছুঁতেই ইতিহাস শারজায়। এত রান তাড়া করে জয় এর আগে দেখেনি আইপিএল, সেটাই হল কিংসের ২২৩ রান টপকে রাকস্থানের ২২৬/৬ সবদিক থেকে স্বপ্নের ম্যাচ হিসেবে থেকে যাবে। রাহুল তেওটিয়ার সাতটি ছয়ই সবকিছু ওলোটপালট করে দিয়েছে ম্যাচের।
কেন ক্রিস গেইল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব দলে সুযোগ পাচ্ছেন না, তার হাতেগরমে প্রমাণ দিলেন মায়াঙ্ক আগরওয়াল। দলের ক্যাপ্টেন লোকেশ রাহুলকে (৫৪ বলে ৬৯, ৭টি চার, ১টি ছয়) সঙ্গী করে মায়াঙ্কের ব্যাট থেকে এসেছে ৫০ বলে ১০৬ রানের ইনিংস, যার মধ্যে রয়েছে ১০টি চার, ৭টি ছয়। তার মানে চার-ছয়ের মাধ্যমেই তিনি সংগ্রহ করেছেন ৮২ রান। এই দুই ওপেনার এমন ভয়ানক হলে দলের রান দুশো পার করবে না, তা হয় না, হয়ওনি। কিন্তু সবটাই গৌণ হয়ে গিয়েছে রাজস্থানের চার উইকেট জয়ে।
আরও একটি ঘটনা ঘটেছে শারজার মাঠে। সেটি হল নিকোলাস পুরানের ফেন্সিং টপকে অভাবনীয় ক্যাচের ঘটনা। যা দেখে শচীন তেন্ডুলকার ট্যুইট করেছেন, ‘‘এমন ফিল্ডিং আমি আমার ক্রিকেট জীবনে কোনওদিন দেখেনি, এ তো অবিশ্বাস্য। কী করে করলে নিকোলাস?’’ স্যামসমের শট ডিপ মিড উইকেটের ওপর দিয়ে বাউন্ডারি পেরলে সেটি একপ্রকার উলটে দিকে দাঁড়ানো পুরান যেভাবে শরীর ছুঁড়ে তালুবন্দী করেছেন, তাতে আউট হয়তো হননি সঞ্জু, কিন্তু এই ক্যাচ দেখলে সার্কাসের ট্র্যাপিজের খেলা মনে পড়বে। সর্বকালের সেরা ক্যাচ বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাজস্থান দলের ব্যাটিং ভাল হলেও বোলিং বিভাগ কমজোরি। যে দলে বোলিং ওপেন করেন উনাদকাট ও অঙ্কিত রাজপুত, সেই দলের তেমন মশলা নেই, বোঝাই যায়। আর মায়াঙ্ক ও রাহুল যে গতিতে ব্যাটিং করেছেন, তা রোলস রয়েসকেও হার মানায়। মায়াঙ্কের ব্যাট থেকে এসেছে ২৬ বলে প্রথম ৫০, তারপর শেষ হাফসেঞ্চুরি এসেছে মাত্র ১৯ বলে! না হলে নিকোলাস পুরানের ৮ বলে ২৫ রান দেখে মনে হবে তিনি যেন রানমেশিনে চড়ছেন, তিনটি ওভার বাউন্ডারি মেরেছেন ৮ বলে খেলেই, একটি চারও ছিল।
শারজার উইকেট দেখেই মনে হয়েছে রানের খনি। এই পিচে কোনও জুজু নেই, সেটি ফের দেখালেন সঞ্জু স্যামসন। যেভাবে এদিনও দলের হয়ে রান করলেন তিনি এই আইপিএলে নায়ক হওয়ার দৌড়ে থাকবেন। সঞ্জুর ব্যাট থেকে এসেছে ৪২ বলে ৮৫ রান, যাতে রয়েছে ৭টি ছক্কা, আর চারটি বাউন্ডারি। তবে দিনের সেরা অবশ্য অনামী রাহুল তেওটিয়ার ম্যাচের রং বদলানো ব্যাটিং।
সংক্ষিপ্ত স্কোর : টসে জিতে রাজস্থান প্রথমে ফিল্ডিং নিয়েছে।
কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব : ২০ ওভারে ২২৩/২। মায়াঙ্ক ১০৬, লোকেশ ৬৯, পুরান ২৫।
রাজস্থান রয়্যালস : ২০ ওভারে ২২৬/৬ । স্যামসন ৮৫, স্মিথ ৫০, তেওটিয়া ৫৩।
রাজস্থান জয়ী চার উইকেটে।