দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক দিকে আইলিগ না পাওয়ার দেড় দশক। অন্যদিকে ৯৮ বছরের ক্লাবের সামনে অনটনের কালো ছায়া। এর মধ্যে আবার গত মরশুম শেষ হওয়ার পর ইউবি গ্রুপের সঙ্গে দীর্ঘ দু’দশকের সম্পর্কে বিচ্ছেদ। আর ঠিক এই পরিস্থিতির মাঝেই আলোর ছটা লেসলি ক্লডিয়াস সরণির ক্লাবটায়। সপ্তাহ দুই আগের এক বৃহস্পতিবার। পার্ক স্ট্রিটের এক পাঁচতারা হোটেলে সাংবাদিক সম্মেলন করে কর্তারা জানিয়ে দিলেন ক্লাবে বিনিয়োগ করতে আসছে নতুন সংস্থা।
ময়দান সহ ভারতীয় ফুটবল পরিচিত হয়ে গিয়েছিল কিংফিশার ইস্টবেঙ্গল নামটার সঙ্গে। কয়েকমাস আগেই হাত গোটায় ইউবি গ্রুপ। আবার এখন কোয়েস ইস্টবেঙ্গল এফসি। ভারতীয় কর্পোরেট জগতের অন্যতম সংস্থা কোয়েস আসায় কোমর বেঁধে নেমেছেন লাল-হলুদ কর্তারাও। একদল কর্তা চলে গিয়েছেন বিশ্বকাপের দেশে। জনি অ্যাকোস্টার মতো এ বারের বিশ্বকাপারকে সইও করিয়ে ফেলেছেন। অনেকদূর কথা এগিয়েছেন ব্রাজিলীয় তারকা রবিনহোর সঙ্গেও। আইএসএল খেলার সমস্ত ইঙ্গিত দিয়ে রাখছেন তাঁরা।
কিন্তু কোয়েস ঠিক কী চায়? দেশের শীর্ষ এই কর্পোরেট সংস্থার ভাবনাই বা কী লাল-হলুদকে নিয়ে? কেনই বা ইস্টবেঙ্গলে টাকা ঢালতে এলেন তাঁরা? ‘ফোর্বস’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সংস্থার শীর্ষ কর্তা অজিত ইসাক জানিয়েছেন কী কারণে তাঁদের ইস্টবেঙ্গলে আসা।
ওই পত্রিকার তরফে অজিত ইসাককে প্রশ্ন করা হয় ক্রিকেট ছেড়ে কেন ফুটবলে বিনিয়োগ? উত্তরে কোয়েস কর্তা বলেন, তাঁদের সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে ফুটবলের জনপ্রিয়তা ভারতবর্ষে ক্রমবর্ধমান। সেখানে ক্রিকেট দেখার প্রবণতা ক্রমশ কমছে। সেই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, তাঁদের সংস্থার ব্যবসার ২০ শতাংশ দেশের বাইরে হয়। আর সেখানে ক্রিকেটের কোনও ব্যাপার নেই।
কিন্তু দীর্ঘদিন ইস্টবেঙ্গল আইলিগের মুখ দেখেনি। তাহলে কোয়েসের মতো একটা সংস্থা কেন এই ক্লাবে টাকা ঢালল? অকপট অজিত ইসাক জানিয়ে দেন, ৯৮ বছরের অইতিহ্য, দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা কয়েক কোটি সমর্থকই এর প্রধান কারণ। সেই সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের টানা আটবার ঘরোয়া লিগ জেতা, সুপার কাপে রানার্স হওয়ার কথাও বলেন কোয়েসের এই শীর্ষ কর্তা।
কোয়েস ইস্টবেঙ্গল এফসি’র বোর্ড অফ ডিরেক্টর্সে থাকবেন আট জন। চার জন কোয়েসের তরফে বাকি চার জন ক্লাব অফিসিয়াল। ইসাকের কাছে জানতে চাওয়া হয়, কীভাবে কোয়েস গোটা বিষয়টি কন্ট্রোল করবে? অন্ধকার কাটিয়ে ইস্টবেঙ্গলে আলো ফেরানো সংস্থার কর্তা জানিয়ে দেন, ফুটবলের টিম গঠন, কোচ নির্বাচন এবং আর যা যা বিষয় থাকে তার সবই দেখবেন ক্লাবে কর্তারা। কোয়েস কর্তারা দেখবেন ব্যবসায়িক দিক। কোয়েস ইস্টবেঙ্গল এফসি’কে গ্লোবাল ব্র্যান্ড হিসেবে তুলে ধরাই তাঁদের একমাত্র টার্গেট বলে জানান তিনি।