দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবাসরীয় লুঝনিকিতে তখন ঘড়ির কাঁটা বলছে ৫৬ মিনিট খেলা হয়েছে। বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্স তখন এগিয়ে ২-১ গোলে। হঠাৎ দেখা গেল মাঠের মধ্যে ঢুকে পড়েছেন রুশ পুলিশের পোশাক পড়া তিন জন মেয়ে ও এক জন ছেলে। ফ্রান্সের ফুটবলার এমব্যাপের সঙ্গে হাই ফাইভ করতেও দেখা গেল এক মহিলাকে। নিরাপত্তারক্ষীরা তৎক্ষণাৎ মাঠে ঢুকে তাঁদের ধরে বের করে নিয়ে এলেন মাঠের বাইরে। কারা এরা? কী করতে ঢুকে পড়েছিলেন মাঠে?
পরবর্তীকালে জানা গেল এই চারজন হলেন রাশিয়ান পাঙ্ক গ্রুপ ‘পুসি রায়টের’ চার সদস্য। মহিলা তিনজনের নাম ভেরোনিকা নিকুলশিনা, ওলগা কুরাচেভা, ওলগা পাকতুসোভা এবং পুরুষ সদস্যের নাম পিটার ভার্জিলভ। কিন্তু কী উদ্দেশ্যে মাঠে ঢুকেছিলেন তাঁরা? গিয়েছিলেন প্রতিবাদ জানাতে। রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট পুতিনের আসল চেহারাটা বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে। রাশিয়ান পুলিশের প্রকৃত ছবিটা সবার সামনে দেখাতে।
https://www.youtube.com/watch?time_continue=165&v=7zQGV7XBkLE
ঘটনার পরেই ওই সদস্যরা একটি ভিডিও পোস্ট করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে তাঁরা পুরো ঘটনার দায় স্বীকার করে খেলা চলাকালীন মাঠে ঢোকার কারণ জানান। তাঁদের বক্তব্য রাশিয়ার আইন-কানুন বিপর্যস্ত। নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে আইনকে ব্যবহার করেন ক্ষমতাবানরা। বিশ্বকাপ চলাকালীন গোটা পৃথিবীর লোকেরা রাশিয়ান পুলিশের যে ভালো মানুষ চেহারাটা দেখেছে সেটা আদপেও আসল নয়। বিশ্বকাপের পরেই বেরিয়ে আসবে তাঁদের আসল চেহারা। সেটা যাতে না হয় তার জন্য কিছু দাবিও জানান তাঁরা।
সেগুলি হলো-
১. সব রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে।
২. কোনও নির্দিষ্ট পার্টি বা মতাদর্শকে পছন্দ করলে তার জন্য গ্রেফতার করা যাবে না।
৩. মিছিল চলাকালীন কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না।
৪. সুষ্ঠ ভাবে সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দিতে হবে।
৫. কারণ ছাড়া কাউকে জেলে আটকে রাখা যাবে না।
৬. পুলিশ একটু মানবিক মুখ দেখানোর চেষ্টা করুন।
https://twitter.com/pussyrrriot/status/1018535251264638976
তাঁদের বক্তব্য, ফাইনাল চলাকালীন সারা বিশ্বের চোখের সামনে মাঠে রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট পুতিন উপস্থিত ছিলেন বলে ওই সময়টাকেই তাঁরা বেছে নিয়েছিলেন প্রতিবাদ দেখানোর জন্য। কিন্তু সেই পুলিশের হাতেই তাঁদেরকে গ্রেফতার হতে হলো। রীতিমতো টেনে-হিঁচড়ে তাদেরকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।
তারপর সারা রাত তাঁদের থানায় বসিয়ে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন ‘পুসি রায়ট’ দলের সদস্যরা। এমনকী তাঁদের আইনজীবীদের সঙ্গেও দেখা করতে দেওয়া হয়নি। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ দায়ের করে পুলিশ। অবশেষে রাশিয়ার আদালত তাঁদের ১৫ দিনের জেলের নির্দেশ দিয়েছে। ফলে তাঁদের অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ হয়ে গেল কয়েক ঘণ্টা পরেই।