শুভ্র মুখোপাধ্যায়
বাঙালির তিনি কেন অন্যতম আইডল, সেটি বারবার বোঝান সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় (Sourav Ganguly)। এমনও হয়েছে, খেলা পড়েছে দুর্গা পুজোর (Durga Puja) মধ্যে, সেইসময়ও হোটেলের ঘরে থাকা মা চন্ডী ঠাকুরের ছবিতে ধূপকাঠি, মোমবাতি দিয়ে পুজো করেছেন মহারাজ।
বরাবর বলে এসেছেন, ‘‘শারদোৎসবের সময় আমার বাইরে খেলতে যেতে ভাল লাগে না। কিন্তু কী করব, আমাদের কাছে খেলাটাও তো অন্যদের মতো কাজের মধ্যেই পড়ে, তারওপর দেশের দায়বদ্ধতা, যেতেই হবে।’’
নিমরাজি হয়েও যেতে হয়েছে ভিনরাজ্যে কিংবা বিদেশেও। তবু কলকাতার প্রতি টান অনুভব করেছেন। বারবার স্ত্রী ডোনা কিংবা কন্যা সানাকে ফোন করে জানতে চেয়েছেন, ‘‘রাস্তায় ভিড় হচ্ছে গতবারের মতো? আমাদের পাড়ার ঠাকুরটা কেমন হয়েছে এবার?’’
এটাই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘সিগনেচার স্টাইল’। বাঙালি মনন রবীন্দ্রনাথ, রসগোল্লার মতো সৌরভকেও নিজের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন, সবসময়। সেই আবেগবিহ্বল বিখ্যাত বাঙালি কাল নবমীর দিন উড়ে যাচ্ছেন দুবাইতে আইপিএলের ফাইনাল উপলক্ষ্যে।
আরও পড়ুন: রাসেল বাইরেই, দলে শাকিব, শুরুতেই দিল্লিকে চাপে রেখেছে কেকেআর
দাদা খারাপ লাগছে না, ভিড়ের মধ্যে কেউ একজন প্রশ্ন ছুঁড়েছিলেন, তিনি এবারও সপ্রতিভ, ‘‘খারাপ লাগলে কী করব গো! যেতে হবেই, বোর্ড প্রেসিডেন্ট বলে কথা। অনেক কাজ আছে।’’
তিনি এমনভাবে কথা বলেন, যেন পাশের বাড়ির ছেলে। না থেমেই বলছিলেন, ‘‘ফিরে এসে আবারও হয়তো যেতে হবে, কারণ টি ২০ বিশ্বকাপও মরুশহরে হবে।’’ যে সৌরভ পুজোয় বাইরে থাকা অপছন্দ করেন, তাঁকেও দশমীর আগেই বাইরে যেতে হচ্ছে।
সব থেকে বড় কথা, এবার তাঁর সঙ্গে স্ত্রী-কন্যা নেই, তিনি ‘একা’ থেকেও কলকাতার বাইরে তাঁদের কাছে লন্ডনে যাননি। প্রতিটি বাঙালির মতোই সৌরভও পুজোর আনন্দ সবটা উপভোগ করেন। সেই কারণে এক মিডিয়া প্রতিনিধিরা মহারাজকে প্রশ্ন করেছেন, দাদা, মেয়ে সানা নেই এবার, কী বলবেন?
ক্রিজে যেমন করে স্টেপআউট করে সিক্স মারতেন, সেইভাবেই সটান ওভার বাউন্ডারি মারলেন মাঠের বাইরেও। ‘‘হ্যাঁ, মন খারাপ লাগলেও কিছু করার নেই, আগে তো কেরিয়ার, পুজো আসবে-যাবে, কেরিয়ার আগে গড়ে নিক, আনন্দ পরেও করা যাবে।’’ জানিয়েছেন ভারতের অন্যতম সেরা প্রাক্তন অধিনায়ক।
একদিকে তিনি দায়িত্বশীল পিতা, পাশাপাশি আবার সচেতন মানুষও। প্রতিটি বাবার মতোই তিনিও চিন্তিত মেয়ের কেরিয়ার নিয়ে। তাই পুজোর মধ্যে কন্যা বাইরে থাকলেও মন থেকে মেনেও নিয়েছেন তিনি। সানা লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি নিয়ে পড়াশুনো করছেন। সৌরভের বরাবর ইচ্ছে ছিল মেয়ে যেন অক্সফোর্ডে গিয়ে পড়াশুনো করে, তাঁর স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তিনি আজ সত্যিই গর্বিত পিতা।
বুধবারও অষ্টমীর দিন বড়িশা প্লেয়ার্স কর্নারের পুজো প্যান্ডেলে গিয়েছিলেন মহারাজ। তিনি এমনই, তারকাসুলভ আচরণ তাঁর নেই। পাড়ার পুজোয় তিনি ঢাকও বাজান। এদিন তিনি আরতি দেখেছেন, সাদা পাজামা-পাঞ্জাবী পরে এসেছিলেন, কর্তাদের সঙ্গে কথাও বলেন। এমনকি কেউ এসে তাঁর সঙ্গে সেলফি তুলতে গেলেও তিনি ফেরাননি। কেউ বলে গিয়েছেন, দাদা এবারও দাদাগিরির ফর্ম ফাটাফাটি! তিনি মুচকি হেসেছেন।
সৌরভ ‘দ্য ওয়াল’কে অষ্টমীর দিন একান্তভাবে জানিয়েছেন, ‘‘দুর্গা পুজোয় আমি দারুণ আনন্দ করি, আমি খুব ভালবাসি এই পুজো। শুধু মনে হয়, দুর্গা মা এসে গিয়েছেন, আর কোনও কষ্ট নেই বাঙালির, সবাইয়ের মুখে হাসি।’’
চলতি বছরে কত উত্থানপতন তাঁর জীবনে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন, তাঁর বুকে স্টেন্টও বসেছিল। ওসব যে ধূসর অতীত, সেটি মহারাজ ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দেন। এদিনও ভিড়ের মধ্যে তিনি বলেছেন, ‘‘না, না, আমি সম্পূর্ণ ফিট, তবে বাইরের খাবার খাব না, ডাক্তার বারণ করেছেন, সেই কারণেই ফেভারিট বিরিয়ানি খাব না আমি। বাড়ির সব রান্না এবারও খাব।’’
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'