বইয়ের নামকরণ করা হয়েছে, ‘মাঝমাঠের রাজপাট’ (Majhmather Rajpat)। জানা গিয়েছে, বইটি দীপ প্রকাশন (Deep Prokashoni) থেকে প্রকাশিত হবে রথের দিন। বইটিতে অনুলেখকের কাজ করেছেন সাংবাদিক সুপ্রিয় মুখোপাধ্যায়।

শেষ আপডেট: 19 May 2025 20:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পদ্মশ্রী প্রয়াত পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়, চুনী গোস্বামী আত্মজীবনী লিখেছিলেন। এমনকী তাঁদের দুই সফল উত্তরসূরী সুব্রত ভট্টাচার্য এবং প্রয়াত সুভাষ ভৌমিকও আত্মজীবনী লিখেছিলেন। মহান ফুটবলারদের মতোই আরও এক বাংলার কিংবদন্তী মাঝমাঠের সোনার ছেলে প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়েরও (Prashanta Bandhopadhyay) আত্মজীবনী (Autobiography) প্রকাশ পেতে চলেছে।
বইয়ের নামকরণ করা হয়েছে, ‘মাঝমাঠের রাজপাট’ (Majhmather Rajpat)। জানা গিয়েছে, বইটি দীপ প্রকাশন (Deep Prokashoni) থেকে প্রকাশিত হবে রথের দিন। বইটিতে অনুলেখকের কাজ করেছেন সাংবাদিক সুপ্রিয় মুখোপাধ্যায়।
#REl
প্রশান্ত খেলা থেকে অবসর নিয়েও ময়দানের সঙ্গে সমান সক্রিয়। তিনি ভারতীয় ফুটবলের অধিনায়কও ছিলেন প্রি অলিম্পিক এবং এশিয়ান গেমসে। অবসর নিয়েছিলেন ১৯৯১-৯২ মরশুমে ইস্টবেঙ্গল জার্সিতেই। তবে তিনি মোহনবাগানের জার্সিতেও সুনামের সঙ্গে খেলেছেন।
তিনি ফুটবলার হিসাবে তো সফলই, পাশাপাশি অধিনায়ক, কোচ হিসাবেও। এমনকী বিশেষজ্ঞের ভূমিকাতেও তাঁর জুড়ি মেলা ভার। তাঁর সারা জীবনের সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ গীতাঞ্জলী নামক এক সংস্থা প্রশান্তকে ‘কলকাতার রত্ন’ (Kolkata Ratna) সম্মানে ভূষিত করবে।
সম্প্রতি প্রশান্ত নিজের জীবনের সেরা ডার্বি হিসাবে চিহ্নিত করেছেন ১৯৭৬ সালের লিগের ম্যাচকে। ইডেন গার্ডেন্সে ওই ম্যাচে আকবর ১৭ সেকেণ্ডে গোল করে রেকর্ড গড়েছিলেন মোহনবাগান জার্সিতে। খেলায় প্রশান্ত লাল-হলুদ জার্সিতে খেললেও তাঁর সেদিনের ফুটবলশৈলিতে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিল কলকাতা-সহ সারা বাংলা। তিনি অলিখিত ম্যাচের সেরা হন। পরেরদিন চুনী গোস্বামীর মতো মহা কিংবদন্তিও ভূয়সী প্রশংসা করেন তাঁর। প্রশান্ত সেই স্মৃতি হাতড়িয়ে বলছিলেন, “ওই ম্যাচে ভাল না খেললে হয়তো আমি হারিয়ে যেতাম। ওই ডার্বি ম্যাচই আমার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট।’’ ওই ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল হারলেও দারুণ খেলেছিলেন মাঝমাঠের তারকা প্রশান্ত। তিনি ইডেন থেকে ইস্টবেঙ্গল তাঁবুতে এসেছিলেন সমর্থকদের কাঁধে করে।
নিজের দেখা সেরা বিদেশি ফুটবলারের নাম বলতে গিয়ে আলাদাভাবে কারও কথা জানাননি। তবে প্রশান্ত জানান, ‘‘আমাদের সময়ে মজিদ, জামশিদ খেলতে এসেছিল। মজিদ ভাল খেললেও তাঁর ব্যাপ্তি কম ছিল। সেদিক থেকে জামশিদ অনেকদিন খেলেছে। পরে এমেকা, চিমাদের দেখেছি, খেলেওছি। মাঠের বাইরে থেকে ব্যারেটো, রন্টি, ওডাফাদের খেলা দেখেছি। ব্যারেটো সেদিক থেকে বাকিদের থেকে এগিয়ে।’’
বাংলার ফুটবল নিয়েও হতাশ প্রশান্ত। প্রাক্তন এই মিডফিল্ড জেনারেল বলেছেন, ‘‘এখন টুর্নামেন্ট কমে গিয়েছে অনেকটাই। আইএসএল একটা প্রধান টুর্নামেন্ট হয়েছে। স্থানীয় ফুটবলার কমছে, বরং বাড়ছে ভিনরাজ্য ও বিদেশি তারকা। শুধু ফুটবলারই নয়, কোচ ও কর্মকর্তাও সেই মানের উঠে আসছে না। দখল করতে সবাই একে অপরকে দোষারোপ করছে।’’