দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৩৭ বছর আগের কথা, এখনও স্মৃতিপটে জাগ্রত ওই ঘটনা। যেন মনে হয় সেদিনের মুহূর্ত।
১৪ জানুয়ারি, ১৯৮৪। নেহরু কাপে ভারত ও আর্জেন্টিনা ম্যাচ কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে। ওই ম্যাচে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলে যাওয়া দলের নামী তারকা রিকার্ডো গারেকা বর্তমানে কোপায় পেরু দলের কোচ। তিনি পেরু দলের হেডস্যার গত ২০১৫ সাল থেকে। তাঁর কোচিংয়ে পেরু দলের প্রভূত উন্নতি হয়েছে।
ব্রাজিলের কাছে হেরে কোপা অভিযান শেষ হয়ে গেলেও তাঁর কোচিংয়ে পেরু বহুক্ষণ আটকে রেখেছিল ব্রাজিলের মতো মহাশক্তিধর দেশকে। পেরুর কোচের পদে গারেকাকে দেখে আপ্লুত সেদিনের ভারতীয় দলের অধিনায়ক প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানালেন, ‘‘গারেকা বিশ্বের অন্যতম নামী ফরোয়ার্ড ছিলেন। সেইসময় মারাদোনার আগে তাঁর নাম উচ্চারিত হতো। সেই গারেকার বিরুদ্ধে খেলা আমাদের সবার কাছেই ঐতিহাসিক ম্যাচ ছিল সেটি।’’
প্রশান্ত ওই ভারতীয় দলের নেতা হলেও সেই দলের সবাই ছিলেন ময়দানী মহাতারকা। গোলে ছিলেন প্রাক্তন এশিয়ান অলস্টার গোলরক্ষক অতনু ভট্টাচার্য্য। তিনিও ওই ম্যাচ নিয়ে উচ্ছ্বসিত। অতনু বলছিলেন, ‘‘গারেকা তো ছিলই, ওই ম্যাচে পুরো আর্জেন্টিনা দলটাই ভাল ছিল। কারোর একার ওপর নির্ভর ছিল না। সেই দলে মারাদোনা না থাকলেও পুরো আর্জেন্টিনা দলটাই একটা ইউনিট হিসেবে খেলেছিল।’’
সেবার নেহরু কাপে ভারতীয় দল মোট পাঁচটি ম্যাচ খেলেছিল। গোল হজম করে সাতটি গোল, আর একটিমাত্র গোল দেয় প্রতিপক্ষ পোল্যান্ডের বিপক্ষে। ভারতের হয়ে একমাত্র গোলটি ছিল বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য্য। ময়দানের বিশু জানালেন, ‘‘গারেকাকে দেখে ভাল লাগল, ওঁর কোচিংয়ে পেরু দল ফাইনালে উঠেছে, এটা বিশাল সাফল্য। গারেকা নিজে ফরোয়ার্ড হলেও তিনি দলকে দারুণভাবে গড়ে তুলেছেন। পুরো দলে সুন্দর একটা ভারসাম্য রয়েছে।’’
ভারতের ওই দলের কোচ ছিলেন যুগোস্লাভিয়ার চিরিচ মিলোভান। যাঁর প্রশংসা শোনা যায় ভারতীয় দলের ওই তারকাদের মুখে। বিশ্বজিৎ জানালেন, ‘‘মিলোভান আমাদের ভারতীয় দলকে একটা আলাদা স্তরে নিয়ে গিয়েছিলেন। ওঁর জন্যই আমরা ওই ম্যাচটি আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে জিতেও যেতাম।’’