
শেষ আপডেট: 3 December 2023 16:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একই ঘরে চাঁদের আলো দ্বিতীয়বার পড়ল। রমেশবাবু প্রজ্ঞানন্দ তো ভারতীয় দাবায় ইতিহাস সৃষ্টিকারী এক বিস্ময়প্রতিভা। পাশাপাশি তাঁর দিদি বৈশালী রমেশবাবুও দাবায় মহিলাদের মধ্যে গ্র্যান্ডমাস্টার হলেন। ভাই দাবায় এসেছিলেন দিদিকে দেখেই। ভাই এগিয়েছেন একটু আগেই, দিদিও সেই সরণীতে পা দিলেন একইভাবে।
ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম তুললেন বৈশালীও। যিনি নিজেই জানিয়েছেন, ‘ভাই আমাকে দেখেই দাবায় আসে। বাবা আমাদের একটা দাবা বোর্ড কিনে দিয়েছিলেন। সেই শুরু, তারপর আমি খেলা শুরু করেছিলাম। আমাকে দেখে ভাই প্রজ্ঞাও খেলা শুরু করেছিল। আজ ভাল লাগছে আমি দেশের তৃতীয় মহিলা গ্র্যান্ডমাস্টার হিসেবে স্বীকৃতি পেলাম।’
বৈশালী নিজেই বলেছেন, তিনি একটা সময় হতাশায় দাবাই ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। কারণ একই ঘরে তাঁর থেকে বছর পাঁচেকের ছোট ভাই গ্র্যান্ডমাস্টার হয়ে গিয়েছেন, অথচ সেই কাঙ্খিত জিএম (গ্র্যান্ডমাস্টার) হতে পারছিলেন না। এটা লজ্জার, হতাশারও। যদিও সেটি কাটিয়ে উঠতে পেরেছিলেন বলেই এই দিনটা দেখতে পেলেন।
মহিলা গ্র্যান্ডমাস্টার পাওয়ার জন্য ১২ বছর ধরে ভারত যে অপেক্ষা করছিল, সেই অপেক্ষারও নিরসন হল। সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটালেন বৈশালী নিজেই। যিনি সার্বিকভাবে ভারতের ৮৪ তম গ্র্যান্ডমাস্টার হলেন।
আর বৈশালী গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়ার পরে বিশ্বে ইতিহাস তৈরি হল। দাবার ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনও ভাইবোনের জুটি গ্র্যান্ডমাস্টার হলেন। বৈশালীর ভাই রমেশবাবু প্রজ্ঞানন্দ আগেই গ্র্যান্ডমাস্টার হন। এবার বিশ্বনাথন আনন্দ, কোনেরু হাম্পি, দিব্যেন্দু বড়ুয়াদের তালিকায় যুক্ত হলেন চেন্নাইয়ের এই নামী দাবাড়ুও। ইতিহাস রচিত হয়েছে রমেশবাবুর পরিবারেও।
এই সম্মান পাওয়ার পরে বৈশালী বলেছেন, ‘আমার ভাই প্রজ্ঞা যখন কনিষ্ঠতম আন্তর্জাতিক মাস্টারের তকমা পায়, তখন ও প্রথমবারের জন্য আমার রেটিং পেরিয়ে যায়। আচমকা যাবতীয় আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে ভাই। তাতে আমি হতাশ হয়ে যাই। আমার মনে হচ্ছে সেই আবেগটা ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছিলাম। আজ তাই সফল হতে পেরেছি।’