
রজত পাটিদার
শেষ আপডেট: 8 April 2025 12:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানটান ম্যাচ দল জিতেছে ১২ রানে। নিজে করেছেন ৩২ বলে ৬৪ রান। টিম তুলেছে ২২১ রান। তা সত্ত্বেও জয়ের কৃতিত্ব বোলারদের হাতে তুলে দিয়েছেন আরসিবি অধিনায়ক রজত পাটিদার। শুধু তাই নয়। নিজে ম্যাচের সেরা হয়েও সেই খেতাব যে আদতে টিমের বোলিং ইউনিটের প্রাপ্য—তাও সাফ ভাষায় ঘোষণা করেছেন বেঙ্গালুরু অধিনায়ক।
চলতি আইপিএলে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে আরসিবি। ৪ ম্যাচে ৩টিতে জিতে আপাতত পয়েন্ট তালিকায় তিন নম্বরে বেঙ্গালুরু। আগের সপ্তাহে চেন্নাইকে তাদের ঘরের মাঠ চেন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে হারিয়েছেন বিরাটরা। কেটেছে ১৭ বছরের শনির দশা। একইভাবে দীর্ঘ এক দশক বাদে মুম্বইকে ওয়াংখেড়েতে পরাস্ত করে গড়েছে নয়া নজির।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ২২১ রান তোলে বেঙ্গালুরু। ছন্দে ছিলেন বিরাট কোহলি। ৪২ বলে করেন ৬৭ রান। সঙ্গত দেন দেবদত্ত পাড়িক্কল। সংগ্রহে ২২ বলে ৩৭ রান। মিডল অর্ডারে ঝোড় ইনিংস খেলেন রজত পাটিদার। তাঁর করা ৩২ বলে ৬৪ রানের সুবাদে আরসিবি ২২১ রানে পৌঁছে যায়।
পরে বল হাতে গোড়াতেই মুম্বইকে চেপে ধরে আরসিবি। এক সময় ৯৯ রানে ৪ উইকেট খুইয়ে ধুঁকতে থাকে তারা। তারপর হাল ধরেন তিলক ভার্মা ও হার্দিক পান্ডিয়া। খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে ধরেন। বিস্ফোরক ৮৯ রানের পার্টনারশিপের দৌলতে লড়াইয়ে ফেরে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। তবে শেষরক্ষা হয়নি। শেষ ওভারে তুলতে হত ১৯ রান। কিন্তু মাত্র ৭ রান খরচ করে ও একের পর এক উইকেট নিয়ে দলকে জয় উপহার দেন ক্রুণাল পান্ডিয়া। ৪৫ রানের বিনিময়ে তুলে নেন ৪ উইকেট।
আর এর ফলেই যুদ্ধ জিতে ম্যাচের সেরা রজত পাটিদার বলে দিলেন, ‘এক সময় পরিষ্কার হয়ে গেছিল খেলা শেষ পর্যন্ত গড়াতে চলেছে। তাই আলোচনার পর ঠিক হয় ক্রুণালের জন্য অন্তত এক ওভার রাখতে হবে। উইকেট খুব ভাল ছিল।‘ পাশাপাশি ব্যাটিংয়ের রণকৌশল নিয়ে তাঁর ব্যাখ্যা, ‘বল ঠিকমতো ব্যাটে আসছিল। তাই আমি যখন খেলছিলাম তখন হার্দিকের ওভার শেষ হতেই আক্রমণে যাই।‘
এরপরই বোলারদের কুর্নিশ জানিয়ে বলেন, ‘ম্যাচটা সত্যি দুর্দান্ত ছিল। বোলাররা সাহসের সঙ্গে বল করেছে। সত্যি বলতে, এই সেরার খেতাব দলের বোলারদের প্রাপ্য। যেভাবে ফাস্ট বোলাররা তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করেছে, তা সত্যি অসাধারণ। ক্রুণালও অসামান্য বল করেছে। শেষ ওভারে কাজটা সহজ ছিল না। কিন্তু যেরকম সাহস দেখিয়ে ক্রুণাল এগিয়ে আসে তা এককথায় দুর্দান্ত!’
প্রসঙ্গত, গত পরশু হায়দরাবাদকে হারানোর পর গুজরাত টাইটানসের অধিনায়ক শুভমান গিল তাঁর বোলারদের একই সুরে কুর্নিশ জানান। বলেন, ‘বোলাররাই খেলা বদলায়, ওরাই গেম-চেঞ্জার, বিশেষত এই ফরম্যাটের ক্রিকেটে। অনেকেই টি-২০-কে ব্যাটিং আর হিটিংয়ের খেলা বলে মনে করে। কিন্তু আসলে ম্যাচ জেতায় বোলাররাই। এই কারণে ফ্র্যাঞ্চাইজিরা তাদের বিশেষ গুরুত্ব দেয়।’