
অলিম্পিকে সোনার পদকের মঞ্চে দুই সাঁতারু, মলি ও আরিয়ার্সে। (ছবিঃ গেটি ইমেজেস)
শেষ আপডেট: 30 July 2024 17:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহিলাদের ২০০ মিটার ফ্রিস্টাইলের ফাইনাল। প্যারিস অলিম্পিকে লা ডিফেন্স এরেনায় সোমবার রাতেই পদকের লড়াই। শেষে সোনা-রুপো, দুই পদকই জিতলেন দুই অস্ট্রেলীয়। সোনা জিতলেন মলি ও'ক্যালাহান। রুপো জিতলেন আরিয়ার্নে টিটমাস। ব্রোঞ্জ জিতলেন হংকং-এর সেহবান বার্নাডেট হহি।
মলি ও আরিয়ার্নে দু'জনেই অস্ট্রেলীয়, এইটুকুতে সবটা বলা হয় না। দু'জনে একইসঙ্গে ট্রেনিং করেন। খুব ভাল বন্ধুও। মলির বয়স ২০। আরিয়ার্নের ২৩। টোকিও অলিম্পিকে ১৭ বছরের মলি স্কোয়াডে ছিলেন। কিন্তু পোডিয়ামে ওঠা আর হয়নি তাঁর। কিন্তু প্যারিসে সব আক্ষেপ পুষিয়ে নিয়েছেন তিনি। শনিবার, অলিম্পিক শুরুর দিনেই, ৪x১০০ মিটার ফ্রিস্টাইল রিলেতে সোনা জেতে অস্ট্রেলিয়া। পোডিয়ামে ওঠেন ক্যালাহান।
কিন্তু সোমবার ছিল ব্যক্তিগত শৌর্যের লড়াই। তাতেই শেষ হাসি হেসেছেন ক্যালাহান।
এবারের অলিম্পিকে মহিলাদের ২০০ মিটার ফ্রিস্টাইল ছিল অন্যতম সেরা আকর্ষণ। মলি ও'ক্যালাহান এবং আরিয়ার্নে টিটমাস, দুজনেই অন্যতম দ্রুততম সাঁতারু হিসেবে বিশ্বখ্যাত। প্যারিসেই তাঁদের আসল পরীক্ষা।
৫০ মিটার, ১০০ মিটার, এমনকি ১৫০ মিটার অবধিও মলি ছিলেন পাঁচ নম্বরে। কিন্তু শেষ ল্যাপেই বাজিমাত করেন তিনি। প্রায় ২ সেকেন্ড বেশি দ্রুততায় সেহবান হহিকে পিছনে ফেলে প্রথম স্থান দখল করেন মলি। শেষ করার পরেই চোখেমুখে ফুটে উঠেছিল স্বস্তি। যাক!
আমাদের মনে থাকবে, টোকিওতে নীরজ চোপড়ার সেই সোনার থ্রো! বর্শা শূন্যে উড়ে যেতেই দু'হাত তুলে নীরজ জানান দিয়ে দেন, তিনি জানেন, বর্শা সোনার লক্ষ্যেই ধেয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু তারপরেই ঘটল সেই মনে রাখার মত মুহূর্ত। সোনা জিতেই আগে মলি ও'ক্যালাহান সটান গিয়ে পুলের মধ্যেই টিটমাসকে জড়িয়ে ধরেন।
মলি ও আরিয়ার্নে, দু'জনেরই উঠে আসা একই জায়গা থেকে। ব্রিসবেনের সেন্ট পিটার্স ওয়েস্টার্ন ক্লাব। অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে বহু পদকজয়ী অলিম্পিক সাঁতারুকে তৈরি করেছে এই ক্লাব। কিন্তু তাঁদের বন্ধুত্বের সেরা দৃশ্য দেখা গেল পদকের মঞ্চে। যখন মলি সোনার জন্য নির্ধারিত উঁচু পোডিয়ামে উঠে ডেকে নিলেন টিটমাসকে। অলিম্পিকের ট্রায়ালে টিটমাসই জিতেছিলেন। কিন্তু বড় মঞ্চে বাজিমাৎ করেও বন্ধুকে কিছুতেই ছাড়লেন না মলি।
সোনার পদকের মঞ্চে, মলি আর আরিয়ার্নে হাতে-হাত ধরে দাঁড়ালেন। একজনের জায়গায় দাঁড়ালেন দু'জন, দুই বিজয়িনী। বেজে উঠল জাতীয় সঙ্গীত, 'অ্যাডভান্স অস্ট্রেলিয়া ফেয়ার'। দুই বন্ধু, যারা একে অপরের প্রতিপক্ষ, আবার একে অপরের অনুপ্রেরণা। সাংবাদিকদের সামনেও নিজের সোনার চাইতে সবার আগে মলি টিটমাসের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন। 'ও এটাই ডিজার্ভ করে! এটা অসাধারণ! মাত্র তিন দিন হয়েছে, কিন্তু ও দ্বিতীয় পদক জিতে নিল।'