দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতিভা (Talent) লুকিয়েই থাকে, কখন কীভাবে তার বিচ্ছুরণ ঘটে, কেউ টের পায় না।
না হলে আমেরিকার (America) বোস্টনে একটি স্কুল বাস্কেটবল (Basketball) টুর্নামেন্টে এক মুসলিম কন্যা কোর্টে নেমে জাদু দেখাতেই বাজিমাত। জামাদ ফিন (Jamad Fiin) নামে ওই ২১ বছর বয়সী বোরখা পরে নেমে একের পর এক বাস্কেট করছে। সবাই তা দেখে তাজ্জব, এই মেয়ে ছিল কোথায় এতদিন?
মুসলিম কন্যা, তাও আবার বোরখা পরে, রক্ষণশীল পরিবারে সবার সামনে খেলবে, লাফাবে, কারই বা পছন্দ হয়। ভাগ্যিস, এই কন্যা বড় হয়েছেন আমেরিকায়, সৌদি কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের কোনও দেশে হলে তাঁর পরিবারকে একঘরে করে দেওয়া হতো।
আরও পড়ুন: ভারতের মরণবাঁচন ম্যাচে দল বদলের ভাবনা, প্রাক্তনদের দাবিতে চাপে বিরাট
আমেরিকায় থেকেও অবশ্য প্রতিকূলতার মুখে পড়েছেন। কিন্তু জামাদের পরিবার তাঁর পাশে রয়েছে, তাই দেদার আনন্দে খেলে চলেছেন। এমনকি পুরুষদের সঙ্গেও পাল্লা দিয়ে কোর্টে নেমে বাস্কেট করছেন সহজাত ভঙ্গীতে।
জামাদ যে খেলতে পারে, সেটি সারা বিশ্বের কাছে ভাইরাল হয়েছে, তার এক ভাইপোর জন্যই। তিনি পিসির বাস্কেটবল খেলা মুহূর্তে ইউটিউবে ছাড়তেই সেটি কোটি কোটি ভিউ হয়েছে। ভাইরাল হয়ে যেতেই সকলের টনক নড়েছে যে জামাদের প্রতিভা।
তাই তিনি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ‘‘আমাকে দেখে বিশ্বের বাকি মহিলাদের মধ্যে থেকে ভয় কেটে যাবে। আমি যদি পারি, তা হলে অন্যরা কেন পারবে না। আমি তো বাধাগতের বাইরে গিয়ে সবার সামনে খেলতে পারছি, অন্যদের উৎসাহিত করতে পারছি, তা হলে অন্যরাও পারবে।’’
সব থেকে বড় কথা, মুসলিম মহিলাদের সংস্কৃতি বজায় রেখেই জামাদ খেলছেন। তিনি মুসলিমদের ভাবধারাকে অসম্মান করেননি। তিনি প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছে থাকলে অসাধ্যসাধন করা যায়। জামাদকে আমেরিকার নামী বাস্কেটবল তারকারা সবাই চেনেন। এমনকি সম্প্রতি জামাদ বোস্টনে খুলেছেন তাঁর নিজস্ব বাস্কেটবল ক্লিনিক। সেখানে ছেলেরা যেমন আসছে, তেমনি ট্রেনিং করতে আসছে মহিলা কন্যারাও।
সেই জন্যই এই মুসলিম কন্যা বলেছেন, ‘‘এটাই আমার সার্থকতা। আমার দেখাদেখি ইমানুয়েল কলেজে বহু মুসলিম মেয়েরা বাস্কেটবল ছাড়াও নানা খেলার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। আমার ভাল লাগছে এই লড়াই অবশেষে সার্থকতা পেল।’’
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'