আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে মেয়েদের খেলাধুলায় ট্রান্সজেন্ডার নারীদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করে নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন। আইওসির নতুন নীতি সেই অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

কির্স্টি কোভেন্ট্রি
শেষ আপডেট: 27 March 2026 11:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সের (Los Angeles Olympics 2028) আগে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (IOC)। ২৬ মার্চ নতুন নীতি ঘোষণা করে জানানো হয়েছে—প্রতিযোগিতার মহিলা বিভাগে এখন থেকে শুধু জৈবিকভাবে নারী হিসেবে জন্মানো অ্যাথলিটরাই অংশ নিতে পারবেন। সেখানে ট্রান্সজেন্ডার বা রূপান্তরাকামী মহিলাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ।
কী বলছে নতুন নীতি?
আইওসি স্পষ্ট জানিয়েছে, ‘অলিম্পিক্স বা আইওসির যে কোনও আয়োজনে মহিলা বিভাগে অংশগ্রহণ এখন থেকে শুধু জৈবিক নারীদের জন্য সীমাবদ্ধ!’ যোগ্যতা নির্ধারণ হবে একটি বিশেষ জিন পরীক্ষার মাধ্যমে। যার নাম এসআরওয়াই জিন স্ক্রিনিং। সংস্থার বক্তব্য, নয়া নীতি মহিলা বিভাগে ‘ন্যায্যতা, নিরাপত্তা ও সততা’ রক্ষা করলেও এই নিয়ম পূর্ববর্তী কোনও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করবে না। তৃণমূল স্তরের বা বিনোদনমূলক খেলাধুলাতেও এটা প্রযোজ্য নয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিক্সে পুরুষ হিসেবে জন্মানো কোনও ট্রান্সজেন্ডার নারী অ্যাথলিট অংশ নেননি। তার আগেই অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও সাইক্লিং—তিনটি শীর্ষ ক্রীড়া সংস্থা নিজেদের মতো করে ট্রান্সজেন্ডার নারীদের বিষয়ে নিয়ম তৈরি করেছিল।
ট্রাম্পের সঙ্গে ‘আদর্শগত’ মিল
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ইতোমধ্যে মেয়েদের খেলাধুলায় ট্রান্সজেন্ডার নারীদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করে নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন। আইওসির নতুন নীতি সেই অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। তবে সংশ্লিষ্ট সংস্থা এই তত্ত্ব মানতে নারাজ। সরাসরি ট্রাম্পের আদেশকে ‘কারণ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। তাদের যুক্তি বৈজ্ঞানিক। নীতি দলিলে বলা হয়েছে, পুরুষ হিসেবে জন্মানো মানুষের শরীরে তিনটি পর্যায়ে টেস্টোস্টেরনের প্রভাব পড়ে—মাতৃগর্ভে থাকাকালীন, শৈশবে ও বয়ঃসন্ধিতে। এই প্রক্রিয়া শক্তি ও সহনশীলতায় যে সুবিধা দেয়, তা পরে পরিবর্তিত হলেও পুরোপুরি মুছে যায় না।
ডিএসডি অ্যাথলিটদের উপরেও প্রভাব
নতুন নীতিতে শুধু ট্রান্সজেন্ডার নারী নন, ডিএসডি (DSD) অর্থাৎ যৌন বিকাশে ফারাক আছে এমন নারী অ্যাথলিটদের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপিত হয়েছে। তালিকার অন্যতম মুখ দু’বারের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন দৌড়বিদ ক্যাস্টার সেমেনিয়া (Caster Semenya)।
আইওসির নতুন প্রেসিডেন্ট কির্স্টি কোভেন্ট্রি (Kirsty Coventry) গত জুনে দায়িত্ব নিয়েই চর্চিত বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। ১৩২ বছরের ইতিহাসে প্রথম মহিলা সভাপতি আর তাঁর নেতৃত্বেই এহেন যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। অলিম্পিক্সে মহিলা বিভাগের সংজ্ঞা কী হবে—সেই প্রশ্নের জবাব এতদিন অস্পষ্ট ছিল। এবার আইওসি সেখানে একটা স্পষ্ট লক্ষণরেখা টেনে দিল।