
জশ ইংলিস
শেষ আপডেট: 23 February 2025 13:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি সাতসকালে ইংলিশ ব্রেকফাস্ট পছন্দ করেন কি না জানা নেই। কিন্তু অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের নতুন তারকা জশ ইংলিস (Josh Inglis) যে ফুটবলের পোকা এবং তাঁর প্রিয় দল ম্যাঞ্চেস্টার সিটি—একথা অস্ট্রেলিয়ার (Australia) দুঁদে ক্রিকেটভক্তদের বিলক্ষণ মালুম রয়েছে। আর থাকবে না-ই বা কেন? আজ থেকে আট বছর আগে এক সাক্ষাৎকারে অকপট স্বীকার করে জশ বলেছিলেন, তিনি শুধু ফুটবলে নয়, ক্রিকেটেও ইংল্যান্ডের (England) সমর্থক। তখনও অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেননি তিনি। কিন্তু হয়ে ওঠার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। ঘাম ঝড়াচ্ছেন ঘরোয়া ক্রিকেটের ময়দানে। তাই সে সময় তাঁর সেই বক্তব্য নিয়ে তেমন চর্চা হয়নি। যেটা শুরু হয়েছে গতকাল থেকে। যখন ওয়ান ডে ক্রিকেটে অভিষেকের মঞ্চে ইংল্যান্ডকেই একাহাতে নিধন করেছেন তিনি। ডেবিউতেই সেঞ্চুরি। সেটাও আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির (Champions Trophy) মতো গ্র্যান্ড মঞ্চে!
সাংবাদিকেরা যদিও মহাকাব্যিক ইনিংস খেলে নায়কোচিত ঢঙে নিজের নাম ঘোষণা করা জশকে রেহাই দেননি। তুলে এনেছেন ২০১৭ সালের সেই বক্তব্যের রেকর্ড। পেশ করেছেন সবার সামলে। আর অস্ট্রেলীয় মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানও পাশ না কাটিয়ে সওয়ালের মুখোমুখি হয়েছেন। চালিয়েছেন তুখোড় স্ট্রেট ড্রাইভ—‘তখন ইংরেজ সমর্থক ছিলাম, আজ নই।‘—সাফ জানিয়েছেন তিনি।
জশ ইংলিসের ইংল্যান্ড-যোগের একটা প্রেক্ষাপট রয়েছে। তাঁর জন্ম ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারে। সেখানেই জীবনের শৈশব ও কৈশোরের ১৪ বছর কেটেছে। তখন যুব দলের হয়ে আকছার মাঠে নামতেন তিনি। কাউন্টি ক্রিকেট ইংল্যান্ডে আবেগের জায়গা। সেখানে খেলা মানে তো এক অর্থে ‘ঘরের ছেলে’ই বনে যাওয়া!
ইংলিস তাই হয়ে উঠেছিলেন। লক্ষ্য ছিল দেশের হয়ে মাঠে নামা। কিন্তু সেই সময় আচমকা ছন্দপতন। ব্যাক্তিগত কারণে পরিবারের সঙ্গে ইংল্যান্ড পাট চুকিয়ে অস্ট্রেলিয়া চলে আসেন তিনি। বয়স মোটে ১৫ বছর। সেই থেকে অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে যুদ্ধে নামা। আর শুরু হয় জাতীয় দলের জার্সি পরার অনন্ত প্রতীক্ষা।
এক বছর, দু’বছর নয়। দীর্ঘ ১৪ বছর মাটি কামড়ে লড়াইয়ের প্রতিদান মিলেছে গতকাল। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে গ্রুপ ফেজের প্রথম লড়াইয়ে ময়দানে পা রাখেন জশ ইংলিশ। প্রতিপক্ষ একদা ‘নিজের দেশ’ ইংল্যান্ড। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৩৫১ রান তোলেন জো রুটরা। তাড়া করতে নেমে কয়েক ওভার বাকি থাকতেই তা হাসিল করে অস্ট্রেলিয়া। নেপথ্যে ইংলিসের মারমার কাটকাট ইনিংস। ৮৬ বলে ১২০ রান। ৮টি চার আর ৬টি লম্বা ছক্কায় সাজানো ইনিংস। একাহাতে ম্যাচ ইংল্যান্ডের থেকে ছিনিয়ে আনেন তিনি।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, দলের পাঁচজন ক্রিকেটার চোটের জন্য বাদ না পড়লে হয়তো ইংলিসের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে মাঠে নামার সুযোগই মিলত না! যদিও এখন সেসব কিছু মনে রাখতে রাজি নন তিনি। আগামি ম্যাচেও এই মারকুটে দাপুটে ইনিংসের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান জশ ইংলিস।