দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্যর্থতা থেকে যে শিক্ষা নেয়, সেই টিকে থাকে। আর সাফল্যে যার মাথা ঘুরে যায়, সেই তলিয়ে যায়, এটাই সার কথা জীবনের। সেটি মনে হয় জানেন প্রণতি নায়েক, যিনি অনেক আশা নিয়ে টোকিও গিয়েছিলেন। ফিরছেন খালি হাতে, কিন্তু অভিজ্ঞতায় পূর্ণ হয়ে, অনেক শিক্ষা নিয়ে।
অলিম্পিকের বাকি জিমনাস্টরা যখন গত একটা বছর অত্যাধুনিক ট্রেনিং নিয়েছেন, সেইসময় প্রণতি পিংলায় তাঁর নিজের গ্রামের বাড়িতে বসেই ছিলেন। লকডাউন চলছে, ট্রেনিংই করতে পারেননি। শুধু ওজন না বেড়ে যায়, তার জন্য যোগ ব্যায়াম করে গিয়েছিলেন। কিন্তু তা দিয়ে কী আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাপটে পারফরম্যান্স করা যায়।
শেষ দু’মাস সাইতে ট্রেনিং করলেও তা যথেষ্ট ছিল না। সেটাই টোকিও অলিম্পিকে ব্যর্থ হওয়ার পরে ফেসবুকে লিখেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘‘আমি আমার পারফরম্যান্সে খুশি। আমি তো ভাবতেই পারিনি এই অপর্যাপ্ত ট্রেনিং নিয়েও এখানে পারফরম্যান্স করতে পারব। গত একটা বছর তো আমি ট্রেনিংই করতে পারিনি। তারপরেও যতটা পেরেছি সেটি আমার স্যার লক্ষ্মণ শর্মার জন্যই।’’
কোচ এবং ছাত্রী একই ফ্রেমে রয়েছেন এরকমই একটি ছবি পোস্ট করে প্রণতি লিখেছেন, “টোকিও অলিম্পিকে পারফর্ম করতে পেরে আমি খুব খুশি। এত বড় একটা মঞ্চে নামার জন্য নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে করছি।” এর পরেই প্রণতি তাঁর কোচ লক্ষ্ণণ মনোহর শর্মাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। উল্লেখ করেছেন, মাত্র দু’ মাসের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি অলিম্পিকের মতো মেগা ইভেন্টে নেমেছেন।
বাংলার অন্যতম সেরা জিমনাস্টের বক্তব্য, “লক্ষ্ণণ মনোহর শর্মা স্যারকে ধন্যবাদ জানাই। একজন জিমনাস্টই শুধুমাত্র জানেন, দু’মাসের প্রস্তুতি নিয়ে অলিম্পিকের মতো প্রতিযোগিতায় নামা যায় না। করোনা মহামারি পরিস্থিতির জন্য একবছর আমি ভাল করে প্রস্তুতি নিতে পারিনি। কিন্তু কোচ লক্ষ্ণণ স্যরই আমাকে বুঝিয়েছিলেন যে বড় মঞ্চে আমি নিজের সেরাটা দিতে পারব।”
টোকিও অলিম্পিকের মতো মেগা আসরে তিনি যে পারফরম্যান্সের মতো অবস্থায় নেই, সেটি প্রণতি জানতেন। কিন্তু তাঁর কোচ যে পরিমান আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছেন, তাতেই তাঁর মধ্যে একটা আশা তৈরি হয়েছিল। সেই কারণেই ওই সুদর্শন কোচের প্রতি প্রণতি কৃতজ্ঞতাই দেখিয়েছেন। ঝাড়গ্রামের মেয়েটি লিখেছেন, ‘‘স্যার আমাকে যেভাবে ভরসা দিয়েছেন, তাতে আমিও আশা দেখেছিলাম। স্যার আমাকে ভাইয়ের মতো বন্ধু ও মেন্টরের মতো পথ দেখিয়েছেন। আমিও স্যারকে কথা দিচ্ছি, ওঁকে একদিন আমি গর্বিত করব। ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়েই ফিরব।’’