দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডে যখন টিম ইন্ডিয়া খেলছিল, তখন কি মাঠের বাইরেও কোনও খেলা চলছিল? তারই কি খেসারত দিতে হলো ভারতকে? বিশ্বকাপের পরের 'ইনস্টাগ্রাম' কাণ্ড কিন্তু সে দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে হারের পর বিরাট কোহলি নিজের ইনস্টাগ্রামে লিখেছিলেন, "আমি সমর্থন করার জন্য প্রত্যেক দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমাদের কাছে খুব স্মরণীয় সিরিজ গেল। আমরা সবাই মিলে নিজেদের সবটা দিয়েছি। কিন্তু সেমিফাইনালে বাদ হয়ে যাওয়ার জন্য আমরা খুব দুঃখিত। কিন্তু আমাদের এই ব্যর্থতা ভুলে এগিয়ে যেতে হবে।" কোহলির পোস্টের পরেই নিজের ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন বিরাটের ডেপুটি রোহিত শর্মাও। তিনি লেখেন, "আমরা একটা দল হিসেবে খেলতে ব্যর্থ হয়েছি। ৩০ মিনিটের খারাপ খেলা আমাদের টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিয়েছে। আমার মন খুব খারাপ। আশা করি আপনাদেরও তাই। আমাদের সমর্থন করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।"
রোহিত এই দল হিসেবে খেলতে না পারার কথা বলার পরেই শুরু হয় গুঞ্জন। কেন এই ধরণের কথা লিখলেন বিশ্বকাপে ভারতের সেরা ব্যাটসম্যান। তাহলে কি দল এক হয়ে খেলেনি। বিশ্বকাপের পর ভারতীয় দল ফাইনাল পর্যন্ত ম্যাঞ্চেস্টারে থাকলেও রোহিত কিন্তু দেশে ফিরে আসেন আগেই। দলের সঙ্গে ফেরেননি তিনি।
এর মাঝেই শুরু হয় ইনস্টাগ্রাম বিতর্ক। অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে আনফলো করে দেন রোহিত। সম্প্রতি বিরাটের স্ত্রী অনুষ্কা শর্মাকেও আনফলো করেছেন এই মুম্বইকর। অন্যদিকে বিরাট এখনও রোহিতকে ইনস্টাগ্রামে ফলো করলেও আনফলো করে দিয়েছেন রোহিতের স্ত্রী ঋতিকাকে।
আর এই ডুয়েলে জড়িয়ে পড়েছেন দুই তারকার স্ত্রীরাও। বিশ্বকাপের পরে রোহিত ও ঋতিকা দু'জনকেই আনফলো করে দিয়েছেন অনুষ্কা। একই কাজ করেছেন ঋতিকাও। তিনি আনফলো করে দিয়েছেন বিরাট ও অনুষ্কাকে। আর এই আনফলো নিয়েই জল্পনা আরও বেড়েছে দলের মধ্যে। কী এমন হয়েছে, যাতে সোশ্যাল মিডিয়াতে কার্যত যুদ্ধ চলছে ভারতের অধিনায়ক ও ডেপুটির।
দলের ভেতরে কি তাহলে ভাঙন ধরেছে। বোর্ডের এক কর্তার বক্তব্যে কিন্তু তারই ইঙ্গিত। বিসিসিআই-এর এক কর্তার কথায়, দলের মধ্যে এখন দুটো লবি। একটা বিরাট কোহলি ও অন্যটা রোহিত শর্মার। দু'জনেই প্রায় একই সময়ে ভারতীয় দলে ঢুকেছেন। একটা সময়ে ব্যাটসম্যান হিসেবে অনেকটা এগিয়ে ছিলেন বিরাট, কিন্তু সম্প্রতি সেই ব্যবধান কমেছে। এ বার বিশ্বকাপে বিরাটকে অনেকটাই ছাপিয়ে গিয়েছেন রোহিত। তার মধ্যে তিনি মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক। সেই দলে খেলেন বুমরাহ, পান্ড্যরা। আর তাই কি দলের মধ্যে শক্তির দুটি কেন্দ্র তৈরি হয়েছে। আর তারফলেই দলের মধ্যে সেই একতা নেই।
যদিও বাইরে থেকে সেরকম কোনও ছবি ধরা পড়েনি। কোনও প্লেয়ার বা সাপোর্ট স্টাফ সামনে কিছু বলেননি। কিন্তু এই ইনস্টাগ্রাম কাণ্ডের পর কিন্তু সে রকমই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। নাহলে কেন দলের ক্যাপ্টেন ও ভাইস ক্যাপ্টেন এবং তাঁদের স্ত্রীরা এই ধরণের কাজ করতে যাবেন? হয়তো বেশিদিন চাপা থাকবে না কারণ। বেরিয়ে আসবে আসল ঘটনা। কিন্তু তাতে দলের ক্ষতি হবে না তো? এই চিন্তা ভাবাচ্ছে সমর্থকদের।