দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিদেশ সফরে গেলে কিংবা আইসিসি টুর্নামেন্ট চলাকালীন ক্রিকেটারদের স্ত্রী ও বান্ধবীরা কতদিন দলের সঙ্গে থাকতে পারবেন তার একটা নির্দিষ্ট নির্দেশিকা ছিল। সেই সময়ের বাইরে প্লেয়ারদের পরিবার তাঁদের সঙ্গে যোগ দিতে পারত না। কিংবা এ বার থেকে সেই দায়িত্ব তুলে দেওয়া হলো টিম ম্যানেজমেন্টের হাতে। প্রশাসনিক কমিটি জানিয়ে দিয়েছে, ক্রিকেটারদের স্ত্রী ও বান্ধবীরা কতদিন তাঁদের সঙ্গে থাকতে পারবেন, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন কোচ ও অধিনায়ক, অর্থাৎ রবি শাস্ত্রী ও বিরাট কোহলি। আর এই সিদ্ধান্তের পরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
শনিবার প্রশাসনিক কমিটি জানিয়েছে, বিশ্বকাপের আগে দলের তরফে এক সিনিয়র ক্রিকেটার তাঁদের কাছে আবেদন করেছিলেন, যাতে পুরো সফরেই স্ত্রী ও বান্ধবীরা তাঁদের সঙ্গে থাকতে পারেন। সেই সময় এই আবেদনে সাড়া দেওয়া হয়নি। কিন্তু তারপর প্রশাসনিক কমিটি ঠিক করেছে, ক্রিকেটের বাইরের কিছু সিদ্ধান্ত ম্যানেজমেন্টের হাতেই ছেড়ে দেওয়া উচিত। তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কিন্তু এই সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের অন্দরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। এক সিনিয়র ক্রিকেটার জানিয়েছেন, "এটা দলের মধ্যে ক্রিকেটীয় স্পিরিটে সমস্যা করতে পারে। দলের সবার সঙ্গে কোচ ও অধিনায়কের সম্পর্ক সমান নয়। তাই যদি অধিনায়ক ও কোচ কোনও ক্রিকেটারের আবেদনে সাড়া না দেন, ও অন্য কোনও ক্রিকেটারের আবেদনে সাড়া দেন, তাহলে দলের মধ্যে ভাঙন ধরতে পারে। এই নির্দেশিকা বিসিসিআই-এর হাতে থাকা ঠিক ছিল। তাহলে অন্তত সবার জন্য সমান নির্দেশ থাকত।"
এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন বোর্ডের এক কর্তাও। তাঁর কথায়, "কোহলি ও অনিল কুম্বলের মধ্যে বিতর্ক কী নিয়ে হয়েছিল? হয়েছিল প্র্যাকটিসের সময় ও ব্যক্তিগত সময় নিয়ে। হ্যাঁ, এখন হয়তো কোহলি ও শাস্ত্রীর সম্পর্ক খুব ভালো, কিন্তু এই বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যেও সমস্যা হতে পারে। কোনও ক্রিকেটারের ক্ষেত্রে কোহলি যা ভাববেন, শাস্ত্রী তা নাও ভাবতে পারেন। আর সে রকম হলে এই স্ত্রী ও বান্ধবীদের থাকা নিয়েই দু'জনের সিদ্ধান্ত দু'রকম হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আখেরে দলেরই সমস্যা হবে।"
এই ব্যাপারে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি আরএম লোধা। এই লোধা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ীই বোর্ডের মাথায় প্রশাসনিক কমিটি বসানো হয়েছিল। বিচারপতি লোধা জানিয়েছেন, "এই কমিটি করার উদ্দেশ্য ছিল, এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া যাতে বোর্ড বা টিম ম্যানেজমেন্ট নিজেদের ইচ্ছে মতো সব কিছু করতে না পারে। কিন্তু নিজেদের ক্ষমতা না বুঝে এই কমিটি এমন একটা সিদ্ধান্ত নিল, যা আমাকেই অবাক করলো। শুধু তাই নয়, ভারতের ক্রিকেটের উপরেই খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে এই সিদ্ধান্ত।"