দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার দুবাইয়ের তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই। তার মধ্যেই এশিয়া কাপে মুখোমুখি ভারত বনাম পাকিস্তান। শুধু তো ভারত বনাম পাকিস্তান নয়, বরং বলা ভাল ক্লান্ত ভারতের সামনে তরতাজা পাকিস্তান।
কেন ক্লান্ত ভারত?
একে গরম, তার উপর ১৬ ঘণ্টা আগে সবে মাত্র একটা ম্যাচ শেষ করেই নামতে হচ্ছে চির প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে। হংকং-এর বিরুদ্ধে যখন ভারত খেলা শেষ করল, তখন ভারতীয় সময় রাত একটা। আবার বুধবার বিকেল পাঁচটায় নেমে পড়তে হবে ব্লিড ব্লু’দের।
ঠিক একই কারণে তরতাজা পাকিস্তান। দু’দিন আগে তারা ম্যাচ খেলেছে হংকং-এর সঙ্গে। মাঝে টানা বিশ্রাম। এমনকী ম্যাচের আগের দিন বিশেষ অনুশীলনও করেনি পাক দল। হালকা গা ঘামিয়ে দুবাই শহরের শপিংমল, রেস্তোরাঁয় ঘুরে বেরিয়েছেন পাক ক্রিকেটাররা।
ইতিমধ্যেই সুনীল গাভাস্কার সহ একাধিক প্রাক্তনী প্রশ্ন তুলেছেন এশিয়া কাপের সূচি নিয়ে। কেউ কেউ বলেছেন, অমানবিক এবং অবৈজ্ঞানিক সূচি।
তবে ক্রিকেট মহলের অনেকের মতে, এ ম্যাচে ক্লান্ত, তরতাজা এই ফ্যাক্টরগুলো কাজই করে না। এই ম্যাচ এক দিকে, আর বাকি ক্রিকেট অন্য দিকে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এই ম্যাচ মানেই টানটান স্নায়ুযুদ্ধ। নার্ভ দখলে যার, ম্যাচের দখলও তার।
যুযুধান দুই দেশের শেষ দেখা হয়েছিল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে। ফাখার জামানের সেঞ্চুরি, মহম্মদ আমিরের দুরন্ত পেস বোলিংয়ের সামনে মুখ থুবড়ে পড়তে হয়েছিল টিম ইন্ডিয়াকে। সেদিক থেকে বুধবার বদলার ম্যাচ রোহিত শর্মাদের কাছে। কিন্তু বুধবার টসের আগেই এই ম্যাচ নিয়ে বেশ কিছু বিষয় উঠে আসছে যা হতে পারে নির্ণায়ক।
একদিকে ক্লান্তি। অন্য দিকে, শেষ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে, যে ভারতের হাতে পর্যদুস্ত হতে হয়েছে পাক দলকে, তার অন্যতম কাণ্ডারী বিরাট কোহলি নেই ভারতীয় দলে। বিরাটের নেতৃত্বে ভারত ও বিরাটহীন ভারতের মধ্যে কী পার্থক্য, গত রাতে বুঝিয়ে দিয়েছে হংকং। ক্যাপ্টেন কোহলি না থাকায় পাকিস্তানের পেস আক্রমণ সামলানোর প্রধান দায়িত্ব থাকবে শিখর ধাওয়ান-রোহিত শর্মা জুটির কাঁধে।
এই ম্যাচে টিমকে তাতাতে মাঠে উপস্থিত থাকতে পারেন প্রাক্তন পাক অধিনায়ক তথা সদ্য মসনদে বসা প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। জিও টিভি সূত্রে খবর, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ইমরানের প্রথম বিদেশ সফরে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। তাই এ দিন মাঠে ইমরানের উপস্থিতি বাড়তি তাগিদ জোগাতে পারে পাক দলকে।
কোহলির না থাকা শুধু ভারতের ব্যাটিং অর্ডারে প্রভাব ফেলছে তাই নয়, 'বিরাট' প্রভাব পড়তে পারে গ্যালারিতেও। স্থানীয় ভারতীয়রা নাকি অনেকেই টিকিট কেটেও মাঠে যাবেন না। শুধুমাত্র তাঁর না থাকার জন্য। আদৌ কি তা হবে নাকি শেষ মুহূর্তে স্টেডিয়ামমুখী হবেন তাঁরা তা বোঝা যাবে ম্যাচের পর গ্যালারির ছবি দেখেই।
ভারত পাক ম্যাচ মানেই ভারতীয় ব্যাটিংয়ের সঙ্গে পাক বোলিংয়ের লড়াই। এ দিনও তাই হতে চলেছে। পাক বোলিং যে কতটা শক্তিশালী তার প্রমান পাওয়া গেছে হংকং ম্যাচে। তাছাড়া এই মাঠে পাকিস্তান খেলেছে ১৫২ ম্যাচ। সেখানে ভারত খেলেছে মাত্র ২ টি ম্যাচ। অন্যদিকে বিরাট না থাকায় ভারতের ব্যাটিং কিছুটা কমজোর। তাই বলা যায় বুধবার দুবাইয়ের স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নামার আগে মাঠের ও মাঠের বাইরের বেশ কিছু বিষয় চিন্তায় রাখছে ভারতীয় দলকে।
কিন্তু ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট এ সবে পাত্তা দিচ্ছে না। সাপোর্ট স্টাফ থেকে ফিজিও সবার শরীরী ভাষাতেই ‘লড়কে লেঙ্গে’ জেদ।