দ্য ওয়াল ব্যুরো: চ্যাম্পিয়ন্স লিগে না হলেও ইউরোপা লিগে বজায় থাকল স্প্যানিশ আধিপত্য। ফের একবার এই টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন হল সেভিয়া। ফাইনালে ইতালি ইন্টার মিলানকে ৩-২ গোলে হারিয়ে গত ছ’বছরে তিন নম্বর ইউরোপা লিগ জিতল সেভিয়া। এই নিয়ে ছ’বার এই কাপ জিতল তারা। অন্যদিকে যে লুকাকুর গোলে স্বপ্ন দেখা শুরু হয়েছিল ইন্টার মিলানের সেই লুকাকুর আত্মঘাতী গোলেই হল স্বপ্নভঙ্গ।
এবারের টুর্নামেন্টে ইন্টার মিলানের খেলা দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন, এবার হয়তো টুর্নামেন্ট জিতবে আন্তোনিও কন্তের ছেলেরা। শুরুটাও সেভাবেই হয়েছিল। ম্যাচের ৫ মিনিটেই মিলানকে এগিয়ে দেন ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড থেকে আসা স্ট্রাইকার রোমেলো লুকাকু। পেনাল্টি থেকে গোল করেন এই টুর্নামেন্টে নজর কাড়া এই স্ট্রাইকার।
গোল খাওয়ার পরেই অবশ্য খেলায় ফেরে সেভিয়া। ১২ ও ৩৩ মিনিটের মাথায় জোড়া গোল করে স্পেনের ক্লাবকে এগিয়ে দেন ডাচ স্ট্রাইকার লুক দে জং। অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি এই লিড। দু’মিনিট পরেই ফের খেলায় ফেরে ইন্টার। গোল করেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের প্রাক্তন অধিনায়ক দিয়েগো গদিন। উরুগুয়ের এই ডিফেন্ডারের গোলে প্রথমার্ধে ২-২ ব্যবধানে মাঠ ছাড়ে দু’দল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ফের আক্রমণ প্রতি আক্রমণের খেলা চলতে থাকে। দু’দলই অনেকগুলো ভাল সুযোগ তৈরি করলেও গোল আসছিল না। দেখে মনে হচ্ছিল অতিরিক্ত সময়ের দিকে গড়াবে খেলা। আর তখনই ছন্দপতন মিলানের। আত্মঘাতী গোল করলেন লুকাকু। ৩-২ গোলে এগিয়ে গেল সেভিয়া। সেই গোল আর শোধ হয়নি। চ্যাম্পিয়ন হলেন জুলেন লোপেতেগুইয়ের ছেলেরা।
শুক্রবার রাতে ইউরোপা লিগের পরে রবিবার রাতে বিশ্বের সেরা ক্লাবের শিরোপা জেতার জন্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে মুখোমুখি হতে চলেছে বায়ার্ন মিউনিখ ও প্যারিস সেন্ট জার্মেইন। একদিকে রয়েছেন, রবার্ট লেওয়ানডস্কি, থমাস মুলাররা, তো অন্যদিকে নেমার জুনিয়র, কিলিয়ান এমব্যাপেরা। একদিকে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বার্সাকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বায়ার্ন, তো অন্যদিকে টিম গেমের ছবি দেখা গিয়েছে পিএসজির খেলাতেও।
চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের খেলা বিচার করলে বায়ার্ন ফেভারিট হিসেবে শুরু করবে ফাইনালে। তারুণ্যের সঙ্গে অনেক অভিজ্ঞ ফুটবলারও রয়েছে তাদের দলে। অন্যদিকে এই প্রথমবার ফাইনাল খেলবে পিএসজি। সেদিক থেকে দেখতে গেলে তাদের উপর আবার চাপ কম। নেমার, এমব্যাপেরা আবার একক দক্ষতায় খেলার রং বদলে দিতে পারেন। সব মিলিয়ে হাড্ডাহাড্ডি ফাইনালের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে ফুটবল বিশ্ব।