দ্য ওয়াল ব্যুরো: এর থেকে ভাল রঞ্জি ট্রফির ফাইনাল বোধহয় আর হতে পারত না। প্রতিটা রানের জন্য লড়তে হল বাংলাকে। প্রতিটা উইকেটের জন্য ঘাম ঝরালেন সৌরাষ্ট্রের পেসাররা। তৃতীয় দিনের ব্যাটিং ব্যর্থতা থেকে বাংলাকে টেনে তুললেন সুদীপ চট্টোপাধ্যায় ও ঋদ্ধিমান সাহা। তারপর দু’জন আউট হতে ফের চাপে পড়ল বাংলা। কিন্তু সেখান থেকে ফের হাল ধরলেন সেই অনুষ্টুপ মজুমদার।
এদিন শুরু থেকে সাবধানে ব্যাটিং করেন সুদীপ ও ঋদ্ধি। তাঁরা জানতেন প্রথম সেশনের গুরুত্ব। সেইমতো দায়িত্ব নিয়ে খেললেন। ভাল পার্টনারশিপ গড়লেন। প্রথম সেশনে একটাও উইকেট ফেলতে পারেননি সৌরাষ্ট্রর বোলাররা। দলকে ২০০-র গণ্ডি পার করেন দুই ব্যাটসম্যান।
লাঞ্চের পরে খেলায় ফিরল সৌরাষ্ট্র। প্রথমে ৮১ রানের মাথায় সুদীপ চট্টোপাধ্যায় ও তারপর ৬৪ রানের মাথায় ঋদ্ধিমান সাহা আউট হলেন। দু’জনেই সেঞ্চুরি করতে পারতেন। কিন্তু সামান্য মনঃসংযোগের অভাবে উইকেট দিয়ে আসতে হল। তারপর পার্টনারশিপ গড়লেন অনুষ্টুপ মজুমদার ও শাহবাজ আহমেদ।
কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালে ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া শাহবাজ এদিন ১৬ করে আউট হন। ২৬৩ রানে ৬ উইকেট পড়ে যেতেই ম্যাচে জাঁকিয়ে বসে সৌরাষ্ট্র। দেখে মনে হচ্ছিল, এদিনই হয়তো শেষ হয়ে যাবে বাংলার ইনিংস। আর তখনই এগিয়ে এলেন সেই অনুষ্টুপ মজুমদার।
চলতি মরসুমে একার হাতে বাংলাকে সেমিফাইনাল ও ফাইনালে তুলেছেন অনুষ্টুপ। দুই ম্যাচেই প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি এসেছে তাঁর ব্যাটে। এদিনও অর্ণব নন্দীকে নিয়ে ভরসা দিলেন তিনি। পুরো তৃতীয় সেশনে একটাও উইকেট পড়ল না বাংলার। ২৬৩ রানে ৬ উইকেট থেকে দিনের শেষে বাংলার রান ৩৫৪ রানে ৬ উইকেট। অনুষ্টুপ ৫৮ ও অর্ণব ২৮ করে ব্যাট করছেন।
পঞ্চম দিনে যে প্রথম ইনিংসের লিডই রঞ্জির খেতাব নির্ধারণ করবে তা নিশ্চিত। তাই দু’দলের কাছেই টার্গেট রয়েছে। বাংলার দরকার ৭২ রান। তাহলেই সৌরাষ্টের প্রথম ইনিংসের থেকে বেশি রান হয়ে যাবে তাদের। অন্যদিকে সৌরাষ্টের দরকার চার উইকেট।
ভরসা দিচ্ছেন অনুষ্টুপ ও অর্ণব। এরপরে যদিও আকাশ দীপ ব্যাটটা করতে পারেন, কিন্তু তবুও এই জুটিকেই নিতে হবে দায়িত্ব। কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনালে অনুষ্টুপ পেরেছেন। ফাইনালেও পারবেন কি? উত্তর মিলবে আগামীকাল।