
শেষ আপডেট: 30 August 2018 04:44
তখন চোটের কবলে স্বপ্না[/caption]
বুধবার রাতে স্টেডিয়াম ফাঁকা হয়ে যাওয়ার পরও ট্র্যাকে দাঁড়িয়ে ছিলেন স্বপ্না। স্বপ্ন সত্যি হওয়ার স্টেডিয়ামকে ছেড়ে যেতে কারই বা মন চায়। অনেক রাতে গেমস ভিলেজে ফেরেন। দাঁতের যন্ত্রণার কারণে গালে লাগানো রঙিন পেইন কিলার প্যাচ আর গলায় সোনার মেডেল।
স্বপ্নার কোচ জানান, হাঁটুর চোটের সময় অনেকেই ভেবেছিলেন স্বপ্নার কেরিয়ার শেষ। সঙ্কোচ যে তাঁরও ছিল তাও জানান তিনি। কিন্তু স্বপ্না অন্য ধাতুর মেয়ে। অভাবের সংসার থেকে ট্র্যাকে আসা। তাই দৌড়ও ছিল ক্ষুধার্ত চিতার মতো। ফিরে আসার জন্য সব ছেড়ে দিনে ১৫-২০ কিলোমিটার সাঁতার কাটতেন স্বপ্না। সেই চোট সারিয়েই মাস কয়েক আগে গুয়াহাটিতে আন্তঃ রাজ্য মিটে ৮০০ মিটার শেষ করেছিলেন ২.১৬ মিনিটে। জ্যাভেলিনে যে থ্রো স্বপ্না করেছেন সতীর্থরা বলছেন স্বপ্নের থ্রো।
শেষবার বাংলার কেউ এশিয়াডে সোনা জিতেছিলেন ১৬ বছর আগে। ২০০২ সালে বুসানে সোনা পান সরস্বতী দে। তার আগে ব্যাঙ্কক এশিয়াডে জোড়া সোনা জিতেছিলেন জ্যোতির্ময়ী শিকদার। ইভেন্ট শেষ করে নিজের হাতে থাকা জাতীয় পয়াকা নিয়ে জাকার্তার স্টেডিয়ামে স্বপ্না জড়িয়ে নিলেন জোড়া সোনা জয়ী জ্যোতির্ময়ীকে।
একদিকে চোট। অন্যদিকে অভাব। দুটোকেই হারিয়ে দিয়েছেন স্বপ্না। বারবার। সব সংশয় ঘুচিয়ে দিয়ে ফিরে এসেছেন নিজের ক্ষিপ্রতায়। আরও এক বার ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে লেখা হলো বোল্টের সেই কথা- “খিদের যন্ত্রণা না থাকলে আগুন ঝরে না।”