দ্য ওয়াল ব্যুরো : এতদিন ধরে যে জল্পনা চলছিল, তার অবসান হতেই এফএসডিএল (ফুটবল স্পোর্টস ডেভলপমেন্ট লিমিটেড) দরপত্র আবেদন করল ইস্টবেঙ্গলের কাছে। আইএসএলে লাল হলুদ বাহিনী খেলবে কিনা, সেই বড় প্রশ্নের সমাধান হতেই এবার খেলার নিয়মকানুন নিয়ে খোঁজ শুরু করলেন কর্তারা। ১৪ সেপ্টেম্বর শেষ দিন ধার্য হয়েছে। তার আগে ইমেলে আবেদন জানাতে হবে। এমনকি আবেদনের হার্ড কপিও সংস্থার মুম্বই অফিসে ক্যুরিয়র করে দিতে হবে ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে।
ইতিমধ্যেই আইএসএলের দশটি দল হয়ে গিয়েছে। বাকি একটি স্থানের জন্য মোট ছয়টি ফ্রাঞ্চাইজির লড়াই। তালিকায় রয়েছে দিল্লি, লুধিয়ানা, আমেদাবাদ, কলকাতা, শিলিগুড়ি এবং ভোপাল। এই দলগুলির মধ্যে একটি দলকে বেছে নেবে আয়োজক এফএসডিএল। যেহেতু ইস্টবেঙ্গলের পিছনে অনেক সমর্থক রয়েছেন, সেই কারণে তাদের নিলে অনেক লাভ সংগঠকদের। টিকিট বিক্রয়ের বিষয় রয়েছে।
শুরু থেকেই এফএসডিএল কর্তারা চাইছিলেন ইস্টবেঙ্গল ক্লাব ১৫ কোটি টাকা দিয়ে আবেদন পত্র তুলে রাখুক। কিন্তু মোহনবাগানের মতোই লাল হলুদ কর্তৃপক্ষও চায়নি নিজেদের ক্লাবের অর্থ খরচ করে আবেদন করবে। সেই জন্যই লাল হলুদ কর্তারা চেয়ে এসেছেন কোয়েস-এর মতোই একটি ইনভেস্টরের সন্ধান পেতে। শেষমেশ শ্রী সিমেন্টের সঙ্গে তারা চুক্তিবদ্ধ হতে সেই সমস্যাও মিটল। কিন্তু মোহনবাগান যেমন এটিকে-র সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে, তাদের ফ্রাঞ্চাইজি নাম নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের ফ্রাঞ্চাইজি নাম কী হবে, সেই নিয়ে ক্লাবে বৈঠক স্থির হয়েছে আগামী সোমবার। যেহেতু কলকাতা শহর থেকে তারা প্রতিনিধিত্ব করবে, সেই কারণেই কলকাতা ইস্টবেঙ্গল হলেও হতে পারে।
বিষয়টি নির্ভর করছে নয়া ইনভেস্টরের শীর্ষ ব্যক্তিদের ওপর। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সহসচিব ডাঃ শান্তিরঞ্জন দাশগুপ্ত জানালেন, ‘‘এখানে কোম্পানির নামের সঙ্গে সংযুক্তির বিষয় নেই, তাই শহরকেন্দ্রীক যদি নামও হয়, তা হলে সেটি সকলের পছন্দমতো হবে কিনা সেটিও একটা ব্যাপার। তবে ক্লাবের জার্সি, লোগো পরিবর্তনের কথা আদৌ বলেনি নয়া ইনভেস্টর। তারা সমর্থকদের আবেগ নিয়েই চলতে চায়। তিনি এও বলেন, বেঙ্গালুরুর তো নাম বদল হয়নি, শুধু এফসি যোগ হয়েছে, আমাদের ক্ষেত্রেও তাই হবে হয়তো।’’
ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের এখন প্রধান চিন্তা দলগঠন সারা নিয়ে। এই নিয়ে যাদের সঙ্গে আলোচনা করার কথা, শ্রী সিমেন্টের দুই শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি মালিক মোহন বাঙ্গুর ও তাঁর পুত্র বেনুগোপাল বাঙ্গুর দু’জনেই এখন রয়েছেন দুবাইতে। তাঁরা দুবাই থেকেই ব্যবসা সামলান। ইতিমধ্যেই তারা লাল হলুদ কর্তাদের জানিয়ে দিয়েছেন দলগঠনের জন্য ভারতীয় ফুটবলারদের নিয়োগ সংক্রান্ত কথাবার্তা চালাতে। বিদেশী নিয়োগ হবে ইনভেস্টরদের কর্তাদের উদ্যোগে। কর্তাদের কাছে শুধুমাত্র বিদেশীদের নাম চাওয়া হয়েছে। কিন্তু করোনাভাইরাসের আবহের মধ্যে বিদেশ থেকে কোনও ফুটবলার আসবেন কিনা, সেটিও একটি বিষয়। নভেম্বরেই আইএসএল শুরু, বেশি সময়ও নেই। তাই স্কাইপে কিংবা ভিডিও কলে বিদেশী কোচ নিয়োগ সম্পূর্ণ হতে পারে। কোচ নির্বাচনের জন্য একটি বিশেষ প্যানেল বাছাই হতে পারে। গত মরসুমের বহু ফুটবলারদের সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের চুক্তি রয়েছে। কেননা বলাই ছিল, যদি দল আইএসএল না খেলতে পারে, তা হলে তাদের রিলিজ করে দেওয়া হবে, তাই ফের আইএসএলে খেলার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় সেই ফুটবলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। বাকি দলগুলির দলগঠন প্রায় সম্পূর্ণ। সেদিক থেকে অনেকটা পিছিয়ে লড়াইয়ে নামল ইস্টবেঙ্গল। তবে তারা শেষ রাতে যেভাবে বাজিমাত করেছে, সেই ভাবে তারকাদের নিয়ে এসে হইচই ফেলে দিতে পারে।