দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণের জেরে মার্চ মাস থেকে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ক্রিকেট। দীর্ঘ ১১৭ দিন পরে ফের বাইশ গজে ফিরল ক্রিকেট। বুধবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সাউদাম্পটনে টেস্ট ম্যাচ খেলতে নামছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ইংল্যান্ডে যাওয়ার পর প্রথমে ২১ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হয়েছে পুরো দলকে। তারপর নিজেদের মধ্যেই প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে হয়েছে হোল্ডারদের। প্রথম টেস্ট খেলতে নামার আগে একাধিক নিয়ম মানতে হবে দু’দলকে।
আইসিসি জুন মাসে জানায় অনিল কুম্বলের নেতৃত্বাধীন চিফ এগজিকিউটিভ কমিটির তরফে যে যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে তা মেনে নেওয়া হয়েছে। কারণ, আইসিসির কাছে সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার ও ম্যাচ অফিসিয়ালদের সুরক্ষা। তাই তাদের সুরক্ষার জন্য দরকারি সব নিয়ম মানতে হবে ক্রিকেটারদের।
প্রথম যে পদক্ষেপ আইসিসির তরফে নেওয়া হয়েছে, তা হল সফররত দলকে কোয়ারেন্টাইনে থাকা। জুন মাসেই ইংল্যান্ডে পৌঁছে যায় জেসন হোল্ডারের নেতৃত্বাধীন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তারপর ২১ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হয় ক্রিকেটারদের। সবার নমুনা পরীক্ষা করে দেখা হয়।
এই টেস্টে যে যে নিয়ম দু’দলের ক্রিকেটারদের মানতে হবে সেগুলি হল-
কোভিড ১৯ রিপ্লেসমেন্ট: বছর খানেক আগে ক্রিকেটে কনকাসন সাবস্টিটিউট শুরু হয়। অর্থাৎ কোনও ক্রিকেটারের যদি মাথায় আঘাত লাগে, তাহলে চলতে ম্যাচের মধ্যেই তাঁর বদলি নেওয়া যাবে। এবার শুরু হল কোভিড রিপ্লেসমেন্ট। অর্থাৎ যদি টেস্ট ম্যাচ চলাকালীন কোনও ক্রিকেটারের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা যায়, তাহলে তাঁর বদলে অন্য ক্রিকেটারকে খেলতে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে।
বলে লালা লাগানো নিষিদ্ধ: আগে বোলারদের অন্যতম প্রধান অস্ত্র ছিল এই লালা ও ঘাম। বলের একদিকের শাইন বজায় রাখা, যাতে সুইং ও রিভার্স সুইং হয়, তার জন্য লালা ও ঘামকেই ব্যবহার করতেন ক্রিকেটাররা। কিন্তু নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, বলে লালা কিংবা ঘাম ব্যবহার করা যাবে না।
আইসিসি জানিয়েছে, এই বিষয়ে নজর রাখবেন আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারি। যদি কাউকে লালা মাখাতে দেখা যায়, তাহলে ওয়ার্নিং দেওয়া হবে। দুটি ওয়ার্নিং হলে বিপক্ষ দল ৫ রান পেনাল্টি হিসেবে পাবে। লালা লাগাতে দেখা গেলে সেই বলে ফের খেলা শুরু হওয়ার আগে তা ভালভাবে পরিষ্কার করতে হবে। তবে টাওয়েল বা কাপড়ের ব্যবহার করে বলের শাইন বজায় রাখা যেতে পারে।
বাইরের আম্পায়ার নিষিদ্ধ: আগে কোনও দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হলে সাধারণত যে দুই দল খেলছে, তার বাইরের কোনও দেশের আম্পায়ারকে নিযুক্ত করা হত। কিন্তু বর্তমানে সেই নিয়ম বাতিল করা হয়েছে। বাইরের আম্পায়ারকে আনা মানে তাঁর ঝুঁকি বাড়ানো। তাই সে দেশে সিরিজ হবে, সেই দেশের আম্পায়াররাই ম্যাচ পরিচালনা করবেন।
অতিরিক্ত ডিআরএস: যেহেতু বাইরের আম্পায়ার নয়, ঘরোয়া আম্পায়ার দিয়েই ম্যাচ পরিচালনা করা হবে, তাই তাঁদের অভিজ্ঞতা কম থাকায় অতিরিক্ত ডিআরএস-এর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ আগে প্রতিটি দল প্রতিটি ইনিংসে দুটি ডিআরএস নিতে পারতেন। এবার থেকে প্রতি ইনিংসে তা তিনটি করা হয়েছে।
জার্সিতে অতিরিক্ত লোগোর ব্যবহার: বর্তমানে ৩২ বর্গইঞ্চির কম মাপের একটি লোগো জার্সিতে অথবা সোয়েটারে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে। করোনা সতর্কতার বার্তা থাকবে সেখানে। অর্থাৎ আগের নিয়মে তিনটি লোগোর সঙ্গে একটি অতিরিক্ত লোগো, অর্থাৎ মোট চারটি লোগো থাকবে জার্সিতে।