দ্য ওয়াল ব্যুরো: মোহনবাগানের অস্ত্রেই বাগান বধ করার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন চেন্নাইয়ের কোচ আকবর নওয়াজ। প্রেসিং ও পাসিং ফুটবল দেখা গেল কাটসুমিদের পায়ে। আর তাতেই কিছুটা খেই হারালেন মোহনবাগান ফুটবলাররা। বলের আধিপত্য চেন্নাইয়ের বেশি থাকলেও সুযোগ তৈরি করল দু'দলই। গোলও এল। কিন্তু যে পরিকল্পনা চেন্নাই কোচ নিয়েছিলেন তা কাজে এল। বাগানকে কল্যাণীতে আটকে দিল চেন্নাই। ড্র করেই সন্তুষ্ট থাকতে হল লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দোরগোড়ায় থাকা ক্লাবকে।
এদিন শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তুলেছিল চেন্নাই। নিজেদের মধ্যে বল রেখে আক্রমণে উঠছিলেন মিরান্ডা, জকসন, কাটসুমিরা। তার ফলও মেলে। ১০ মিনিটের মাথায় কাটসুমির পাস থেকে মিরান্ডার বাঁ'পায়ের জোরালো শট ভাল বাঁচান শঙ্কর। ১৪ মিনিটের মাথায় জকসনের শট পোস্টে লেগে ফেরে।
মাঝমাঠে বলের দখল নিতে পারছিল না মোহনবাগান। বারবার দলে পরিবর্তনের ফলে কিছুটা বোঝাপড়ার অভাব হচ্ছিল বাগান ফুটবলারদের মধ্যে। বিশেষ করে ডিফেন্স ও মাঝমাঠে বারবার পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছিলেন কোচ কিবু ভিকুনা। ২৭ মিনিটের মাথায় বা'প্রান্তে বল ধরে একক কৃতিত্বে ৪-৫ জন বাগান ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢোকেন কাটসুমি। তাঁর পাসে মিরান্ডার শট পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়।
৩০ মিনিটের পর কিছুটা খেলায় ফেরে মোহনবাগান। ৩১ মিনিটের মাথায় বেইতিয়ার ফ্রিকিক বারে লেগে ফেরে। প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে মোরান্তের লং বল চেন্নাইয়ের ডিফেন্ডার রোহিত মির্জার ভুলে পান নংদম্বা নওরেম। বক্সের মধ্যে অরক্ষিত বাবার উদ্দেশে ঠিকানা লেখা ক্রস বাড়ান তিনি। ডান পায়ের শটে সান্তানার ডানদিক দিয়ে বল জালে জড়িয়ে সবুজ-মেরুনকে এগিয়ে দেন বাবা। প্রথমার্ধে ১-০ লিড নিয়েই ড্রেসিং রুমে যায় মোহনবাগান।
দ্বিতীয়ার্ধে গোল পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে চেন্নাই। ৬১ মিনিটের মাথায় মিরান্ডার ভলি একটুর জন্য বাইরে যায়। ৬৬ মিনিটের মাথায় জকসনের ক্রসে বাঁ'পায়ের টোকায় বল জালে জড়িয়ে সমতা ফেরান বাগানের বহু যুদ্ধের নায়ক কাটসুমি ইউসা। গোল করে সেইজন্যই হয়তো কোনও বাড়তি উচ্ছ্বাস দেখালেন না এই জাপানি মিডিও।
গোল করে বেশি আক্রমণাত্মক দেখায় চেন্নাইকে। কমলা জার্সিধারীদের পায়েই বল ছিল বেশি। মাঝেমধ্যে অবশ্য বেইতিয়ার জাদুতে সুযোগ আসছিল বাগানের জন্য। তবে গোলের মুখ খুলছিল না। বাবার পাশে স্ট্রাইকার হিসেবে শুভ ঘোষকে নামান কোচ কিবু। এসলাভার নেতৃত্বে চেন্নাই ডিফেন্সকে ভাঙা সহজ হচ্ছিল না।
এদিন বাগানের খেলা দেখে বোঝা যাচ্ছিল বড় লিগে পরপর প্রেসিং ফুটবল খেলায় হয়তো কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন ফুটবলাররা। ফলে তাগিদ থাকলেও সেই ভেদশক্তি দেখা যাচ্ছিল না। তার মধ্যেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল বাগানের কাছে। ৮৫ মিনিটের মাথায় বেইতিয়ার ফ্রিকিকে বাবার হেড বারে লেগে ফেরে।
বাকি সময়ে আর গোল আসেনি। শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলেই শেষ হল খেলা। এদিনের ড্রয়ের ফলে ১৫ ম্যাচে ৩৬ পয়েন্ট হল বাগানের। লিগ টেবিলের শীর্ষেই তারা। তবে লিগ জিততে হয়তো আর একটু অপেক্ষা করতে হবে কিবু ভিকুনার ছেলেদের।