দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রস্তুতিটা শুরু হয়েছিল অনেক আগেই। মোহনবাগান বনাম নেরোকা ম্যাচের টিকিট কাটার সময় কাউন্টার থেকেই বলে দেওয়া হয়েছিল ম্যাচের দিন যত সম্ভব ভারতের পতাকা নিয়ে মাঠে যান। কিন্তু তখন বাগান কর্তারাও হয়তো ভাবতে পারেননি এরকম একটা দৃশ্য দেখা যাবে, যাতে ভ্যালেন্টাইন্স ডে’তে বাগানের ফুল ফোটানোর সঙ্গে জাতীয়তাবোধ মিশে যাবে। ৯০ মিনিট ধরে গ্যালারি সম্মান জানাল পুলওয়ামার জঙ্গি হামলায় শহিদ জওয়ানদের। সেই সম্মানে যোগ দিলেন ফ্রান গঞ্জালেজরাও।
ম্যাচ শুরুর আগেই দেখা গেল গ্যালারি জুড়ে বিশাল ভারতীয় পতাকা। তার পাশেই দুটো বড় টিফো। একটাতে ভারতের পতাকার মাঝে অমর জওয়ান জ্যোতির আদলে জওয়ানদের বন্দুক ও টুপি রাখা। অন্য টিফোতে পুলওয়ামার শহিদের জন্য কুর্নিশ। এই তিনটে ছবি ছাপিয়ে গেল সবকিছুকে।
শুধু টিফো নয়, গ্যালারিতে সারাক্ষণ ‘মা তুঝে সেলাম’ গাইলেন সমর্থকরা। উঠল বন্দে মাতরম ধ্বনি। হাতে মোমবাতি নিয়ে তাঁরা শ্রদ্ধা জানালেন বীর শহিদদের। আর এই শ্রদ্ধাকে যেন আরও কয়েক গুন বাড়িয়ে দিলেন বাগান প্লেয়াররা। ম্যাচের ১০ মিনিটের মাথায় প্রথম গোল করে গ্যালারির সেই টিফো ও জাতীয় পতাকার সামনে দাঁড়িয়ে স্যালুট জানালেন ম্যাচের হ্যাটট্রিক হিরো ফ্রান গঞ্জালেজ। ম্যাচ শেষে তিনি জানিয়েও দিলেন এই ম্যান অফ দ্য ম্যাচ ট্রফি নিজের পরিবার, বান্ধবীর পাশাপাশি উৎসর্গ করতে চান ভারতীয় সেনাকে।
https://twitter.com/Mohun_Bagan/status/1228581070733332485
এখানেই হয়তো এই ম্যাচ অন্য সব ম্যাচের থেকে আলাদা হয়ে থাকল। যেখানে ফুটবলের পাশাপাশি জাতীয়তাবোধ ফুটে উঠল সারাক্ষণ। সত্যিই তো এই দেশপ্রেমের সঙ্গে মোহনবাগান নামটাও যেন সমার্থক। পরাধীন ভারতে খালি পায়ে ব্রিটিশ বধ করেছিল এই বাগান। পরেরবার শিল্ড জয়ের বছরেই ইউনিয়ন জ্যাককে সরিয়ে স্বাধীন হয়েছিল ভারত। সেই দেশাত্মবোধ ফের একবার দেখালেন মোহন জনতা। আবেগে ভাসল কল্যাণী।