দ্য ওয়াল ব্যুরো: বসন্ত এসে গেল..........
আট বছর পর.........
'কাহা থা না করারা জবাব দুঙ্গা'। খেলা শুরুর আগেই দেখা গেল এই ব্যানার। আসলে শেষ ম্যাচ অবধি অপেক্ষা করতে চাননি মোহন সমর্থকেরা। চেয়েছিলেন ঘরের মাঠে আট বছরের খরা কাটানোর সেলিব্রেশন করার। মাঠেও সেই একই তাগিদ দেখা গেল শঙ্করলাল চক্রবর্তীর ছেলেদের মধ্যে। হেনরির জোড়া গোলে চলতি লিগে অপরাজিত কাস্টমসকে হারিয়ে দিল মোহনবাগান। সেই সঙ্গে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই লিগ পকেটে পুরল সবুজ মেরুন ব্রিগেড।
চলতি মরশুমে একটাও ম্যাচ হারেনি কাস্টমস। তাই এই দলকে হারাতে গেলে যে অনেক কাঠ-খড় পোড়াতে হবে তা ভালোভাবেই জানতেন কোচ শঙ্করলাল। তাই প্রথমেই গোল তুলে নিয়ে বিপক্ষকে চাপে ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন তিনি। হলোও তাই। ৩ মিনিটের মাথায় অরিজিৎ বাগুইয়ের ক্রস চেস্ট ট্র্যাপ করে ডান পায়ের জোরালো শটে গোলকিপার শুভমের বাঁ দিক দিয়ে বল জালে জড়িয়ে মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন হেনরি কিসেকা। ১২ মিনিটের মাথায় অভিষেক আম্বেকরের ক্রসে ডিকার শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়।
এরপর ধীরে ধীরে খেলায় ফেরার চেষ্টা করে কাস্টমস। ১৪ মিনিটের মাথায় নিজের অর্ধে বল ধরে গতিতে মোহন ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে এগিয়ে যান স্ট্যানলি। কিন্তু একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে তাঁর শট দারুণ বাঁচান শঙ্কর। অরিজিৎ, পিন্টুরা বেশি আক্রমণ করলেও মাঝে মধ্যেই প্রতি আক্রমণে সুযোগ তৈরি করে কাস্টমস। কিন্তু কিংসলে, কিম কিমার জমাট ডিফেন্সে সব আক্রমণ প্রতিহত হয়ে যায়। ৩৯ মিনিটে কিসেকার ক্রসে ডিকার শট একটুর জন্য বার উঁচিয়ে চলে যায়। ৪৫ মিনিটে ডিকার ক্রস ধরে শুভমের বাঁদিক দিয়ে নিখুঁত প্লেসিংয়ে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোল করেন হেনরি কিসেকা।
দ্বিতীয়ার্ধে গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে কাস্টমস। তাই আক্রমণের তীব্রতা তাঁদের ছিল বেশি। কিন্তু দক্ষ শঙ্করের দস্তানায় সব আক্রমণ প্রতিহত হয়। ৫৮ মিনিটের মাথায় অরিজিতের ক্রস থেকে আজহারের হেড পোস্টে লেগে ফিরে। ফিরতি বলে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন ডিকা। এর মধ্যেই বেশ কিছু আক্রমণ তুলে আনে কাস্টমস। রাজন পরিবর্ত হিসেবে নামার পর কাস্টমসের আক্রমণের গতি বাড়ে। ৬৫ মিনিটের মাথায় রাম মালিকের হেড দুরন্ত বাঁচান শঙ্কর। মাঝে মধ্যে একটু চাপে পড়ে যায় মোহন ডিফেন্স। কিন্তু তাও নিজেদের ডিফেন্স জমাট রাখেন তাঁরা। অনেক চেষ্টা করেও গোল করতে পারেননি স্ট্যানলিরা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই মাঠে উড়ছিল আবির, সবুজ মেরুন ফানুস। খেলা যত গড়াল, উৎসবের মাত্রা বাড়ল। জ্বলে উঠল হাজারো মোবাইলের ফ্ল্যাশ। আর খেলা শেষ হওয়ার পরে বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাসে মাতলেন সমর্থক থেকে শুরু করে কর্ম-কর্তারা। মাঠের মধ্যে ঢুকে নিজের খেলোয়াড়দের সঙ্গে আনন্দে মাতলেন তাঁরা। সেই সঙ্গে যেন নিজেকে প্রমাণ করলেন কোচ শঙ্করলাল চক্রবর্তী। এই প্রথম কোনও বড় দলের পূর্ণ কোচিংয়ের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। আর প্রথম মরশুমেই বুঝিয়ে দিলেন খেলোয়াড় জীবনের স্বপ্ন ভাঙলেও কোচিং জীবনে সফল হওয়ার স্বপ্ন সহজে ভাঙতে দেবেন না তিনি। এই বাঙালি কোচের হাত ধরেই ঘরোয়া লিগের খরা কাটল মোহনবাগানের।