
শেষ আপডেট: 28 February 2019 15:51
দেবাশিস সেনগুপ্ত
২০০৭-এ মোহনবাগান ছেড়ে পা দিলেন পড়শি ক্লাব ইস্টবেঙ্গলে। তারপর টানা ১০ বছর মেহতাব ও ইস্টবেঙ্গল যেন সমার্থক হয়ে উঠেছিল। দলের 'মিডফিল্ড জেনারেল' বলা হতো তাঁকে। প্রায় প্রত্যেকটা ম্যাচে নব্বই মিনিট মাঠে থাকা। দলের মাঝমাঠকে নেতৃত্ব দেওয়া। ডিফেন্সকে সাপোর্ট দেওয়া। এই সবই করতেন নিরলসভাবে।
ইস্টবেঙ্গলে থাকাকালীন মাঝে দু'বার কেরল ব্লাস্টার্সের হয়ে আই এস এল খেলেন। ২০১৭য় ইস্টবেঙ্গল ছেড়ে জামশেদপুর এফসি'র হয়ে খেলেন শুধু আইএসএল।
২০১৮ সালে ফের ফিরে এলেন মোহনবাগানে। অনেক ইন্টারভিউতে মেহতাব বলেছিলেন, যে ক্লাবে খেলে তাঁর পরিচয় হয়েছে, সেই ক্লাবেই শেষ করতে চান নিজের কেরিয়ার। ঠিক ছিল শুধুমাত্র কলকাতা লিগ খেলেই তুলে রাখবেন বুটজোড়া। কিন্তু কলকাতা লিগ জেতার পর আই লিগের জন্যও তাঁকে খেলতে রাজি করান কর্তারা।
দেশের হয়েও খেলেছেন ৩৩টি ম্যাচ। করেছেন ২টি গোল। ২০১৫তে তিনি জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়ে ফেলেছিলেন মেহতাব হোসেন।
মাঠে তিনি হার্ড ট্যাকলার ছিলেন। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে খুবই নরম-সরম আর আন্তরিক মেহতাব ছিলেন একদম বিপরীত মেরুতে। টিমম্যান মেহতাবকে অজ্ঞাত কারণে দিনের পর দিন বসিয়ে রাখা হয়েছে এ বছর মোহনবাগানে। হয়তো তাঁকে নিয়মিত খেলালে আই লিগে মোহনবাগানের ফল এত খারাপ হত না। তাঁর মানের খেলোয়াড়ের পক্ষে অতিরিক্ত তালিকায় বসে থাকা ছিল খুব কষ্টকর। কিন্তু তাও থেকেছেন। আদ্যন্ত টিমম্যান মেহতাব কোনওদিন কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি। কোনওদিন মাথা নিচু করে কোনও ক্লাবে না খেলা মেহতাব হোসেন মাথা উঁচু করেই প্রাক্তন হয়ে গেলেন বৃহস্পতিবার।
দলের জন্য জান লড়িয়ে দেওয়া এই ফুটবলারকে মনে রাখবে কলকাতার ফুটবল সমাজ, ময়দান আর যুবভারতী। ভারতীয় ফুটবলেও যতদিন খেলেছেন মাঝমাঠকে প্রাণবন্ত রেখেছেন তিনি। আইএসএলেও। একটাই আফশোস থেকে গেছে তাঁর ফুটবল জীবনে। বহু ট্রফি জিতলেও (২০০৩ আর ২০১২তে আই এফ এ শিল্ড দু’বার, ২০০৭, ২০০৯, ২০১০ আর ২০১২তে ফেডারেশন কাপ চারবার, ২০০৫, ২০১০ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত কলকাতা লিগ আটবার) একবারও জাতীয় লিগ / আই লিগ না জেতার দুঃখ সারা জীবন বহন করতে হবে তাঁকে। ২০১৮তে সবুজ মেরুন জার্সি পরার পরে প্রতিপক্ষ সমর্থকদের কটু মন্তব্যগুলোও তাকে পীড়া দেবে অনেকদিন। অবসর জীবনে স্ত্রী মৌমিতা হোসেন (পুরকায়স্থ) আর ছেলে জিদানকে নিয়ে ভাল থাকুন দীর্ঘ সময় জুড়ে ময়দানের হার্টথ্রব মেহতাব হোসেন। ময়দানের 'ভিকি'।
ছবি সৌজন্যে ফেসবুক